
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুর-গঙ্গাচড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক (Z-5023) এখন আর স্বাভাবিক চলাচলের পথ নয়-এটি যেন এক দমবন্ধ করা ধুলার নরকে পরিণত হয়েছে। চব্বিশ হাজারী এলাকায় দূর থেকে দেখলে মনে হয় ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে পুরো এলাকা, কিন্তু বাস্তবে এটি প্রকৃতির কুয়াশা নয়, বরং উড়ন্ত ধুলার ঘন আস্তরণ।
প্রায় এক বছর ধরে সংস্কার কাজের নামে সড়ক খুঁড়ে রাখায় চব্বিশ হাজারী থেকে বুড়িরহাট পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় তৈরি হয়েছে ‘ধুলার সাগর’। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে গঙ্গাচড়াসহ আশপাশের এলাকার লাখো মানুষ পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং পুরনো কার্পেটিং তুলে ফেলে ইটের খোয়া ও বালি ফেলে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় বালু ও ধুলা উড়ে পুরো এলাকা ঢেকে যায়। ধুলার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে অনেক সময় কয়েক হাত দূরের যানবাহনও দেখা যায় না। এতে সড়কটি কার্যত একটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
এক অটোরিকশা চালক মোবারক হোসেন বলেন, গাড়ি চালাতে গেলে সামনে কিছুই দেখা যায় না। হঠাৎ সামনে মানুষ বা গাড়ি চলে আসে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন গঙ্গাচড়া, চব্বিশ হাজারী, বুড়িরহাটসহ আশপাশের এলাকার লাখো মানুষ রংপুর শহরে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এক কলেজ শিক্ষার্থী মোহসিন বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। ধুলার কারণে চোখ খোলা যায় না, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ি। এক চাকরিজীবী আইয়ুব আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকালে পরিষ্কার কাপড় পরে বের হই, অফিসে পৌঁছানোর আগেই সব ধুলায় ভরে যায়। এটা খুবই কষ্টকর।
ধুলার কারণে এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বাড়িঘর, গাছপালা ও ফসলি জমিতে ধুলার আস্তরণ জমে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও অ্যাজমা এবং বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বেড়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাঝে মাঝে পানি ছিটানো হলেও তা খুবই অপ্রতুল; নিয়মিত করলে ধুলা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারত।
এক স্থানীয় চিকিৎসক দীপা রানী বলেন, এই ধরনের ধুলাবালি দীর্ঘদিন শ্বাসের সঙ্গে গেলে ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নিয়ম অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে সংস্কারাধীন সড়কে দিনে অন্তত দুইবার পানি ছিটানোর কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মুহাম্মদ আমিনুল হক (প্রাঃ) লিমিটেড’ তা মানছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য কদমতলী বাজার (৪+১৩০ কিমি) থেকে বুড়িরহাট চৌরাস্তা (৬+৫২০ কিমি) পর্যন্ত সড়ক শক্তিশালীকরণ এর জন্য ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মুহাম্মদ আমিনুল হক (প্রাঃ) লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজের গতি ধীর হয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রানা আহমেদ । প্রধান সম্পাদক: মোঃ ফজলে রাব্বি। নির্বাহী সম্পাদক :হৃদয় হাসান ।বার্তা সম্পাদক : মাহাবুব হোসেন। মোবাইল অফিস: ০১৮৫৮৪১৬৮৭২।
ই-পেপার