ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর বাজারসহ আশেপাশের এলাকার অত্যন্ত সুপরিচিত ও চিরচেনা এক অবয়ব, সবার প্রিয় ‘ভরত পাগল’ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ তিনি এই নশ্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। তার আকস্মিক বিদায়ে সাফদারপুর বাজারসহ গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ছাতা আর পাখার সেই চেনা মানুষটি আর ফিরবে না।
কোটচাঁদপুরের শালকোপা গ্রামে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি সাধারণ মানুষের কাছে কেবল একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি ছিলেন না, বরং তিনি হয়ে উঠেছিলেন সাফদারপুর বাজারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যারাই এই বাজারে যাতায়াত করতেন, তারা প্রত্যেকেই তাকে এক নামে চিনতেন। তার চলাফেরা ও অবয়ব ছিল আর সবার চেয়ে আলাদা। কাঁধে সবসময় ঝোলানো থাকত কয়েকটি ছাতা আর হাতে গোঁজা পাখা—এই চিরচেনা রূপ নিয়েই তিনি মাইলের পর মাইল হেঁটে বেড়াতেন। রোদ-বৃষ্টি কিংবা তীব্র গরমে নিজের খেয়ালে চলা এই মানুষটি কারোর কোনো ক্ষতি করতেন না। নিজের আপন ভুবনে মগ্ন থেকে তিনি ঘুরে বেড়াতেন চেনা-অচেনা সব পথে।
আজ তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সাফদারপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অনেকেই আবেগপ্লুত হয়ে বলেন: "ভরত পাগল আমাদের বাজারের একটা অংশ হয়ে গিয়েছিলেন। তাকে প্রতিদিন না দেখলে কেমন যেন ফাঁকা লাগত। কাঁধে ছাতা আর পাখা নিয়ে তার হেঁটে যাওয়ার দৃশ্যটি আর কোনোদিন দেখা যাবে না, এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।"নিশ্চল ও নির্বাক এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে তিনি আজ আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন চিরশান্তির দেশে। স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ তার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে পরকালে উত্তম স্থান দান করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রানা আহমেদ । প্রধান সম্পাদক: মোঃ ফজলে রাব্বি। নির্বাহী সম্পাদক :হৃদয় হাসান ।বার্তা সম্পাদক : মাহাবুব হোসেন। মোবাইল অফিস: ০১৮৫৮৪১৬৮৭২।
ই-পেপার