মোঃ হেলাল উদ্দীন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সংসার চালাতে দিনে খাটেন অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসাবে। দিনশেষে যখন ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা, ঠিক তখনই তিনি কাঁদে তুলে নিন কোদাল আর হাতে নেন কাস্তে ও দা। নিজের কোন স্বার্থ ছাড়াই নেমে পড়েন গ্রামীণ সড়কের দুই ধারের জঙ্গল আর বিষাক্ত আগাছা পরিষ্কার করতে । তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের এলাইপুর গ্রামের লড়াকু যুবক রবিউল আলম। চরম অভাবের মাঝেও তার এমন নিঃস্বার্থ সমাজসেবামূলক কাজ এখন পুরো এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান সড়কটির দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে বড় বড় ঘাস ও জঙ্গল জন্মেছিল। এর ফলে রাস্তাটি সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং রাতে চলাচলের সময় বিষাক্ত পোকামাকড় ও সাপের উপদ্রপের বিরাট আশঙ্কা ছিল। প্রায়ই ঘটতে পারতো ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিপদের এই আশঙ্কা দেখে ঘরে বসে থাকতে পারেননি এই যুবক। তিনি নিজেই কোদাল, কাস্তে আর দা হাতে নিয়ে রাস্তা দুই ধারের জঙ্গল পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েছেন। রবিউলের এই কাজ দেখে এলাইপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
নাচোল উপজেলা শাখা মানবাধিকারের সম্পাদক মোঃ হেলাল উদ্দীন তার এই মহতী কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "বর্তমান সময়ে মানুষ যেখানে নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছুই বুঝেনা, সেখানে এই যুবকের কোন পারিশ্রমিক ছাড়া জনকল্যাণে এগিয়ে আসা সত্যিই বিরল ও অনুপ্রেরণাদায়ক। রাস্তার ধারের ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার করায় একদিকে যেমন ডেঙ্গুসহ মশা বাহিত রোগের ঝুঁকি কমবে অন্যদিকে চালকদের দৃষ্টিসীমা স্পষ্ট হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। নিজের দায়িত্ববোধ থেকে তার এই নিঃস্বার্থ কাজ সমাজের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। মানবাধিকার এর পক্ষ থেকে আমরা তার এই চমৎকার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই এবং আশা করি সমাজের অন্যান্য তরুণরাও তার দেখাদেখি এমন মানবিক ও সামাজিক কাজে উদ্বুদ্ধ হবে।"
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রানা আহমেদ । প্রধান সম্পাদক: মোঃ ফজলে রাব্বি। নির্বাহী সম্পাদক :হৃদয় হাসান ।বার্তা সম্পাদক : মাহাবুব হোসেন। মোবাইল অফিস: ০১৮৫৮৪১৬৮৭২।
ই-পেপার