মোঃরানা আহমেদ:
জীবনের প্রথম পাঠশালা থেকে আজকের এই পর্যন্ত আসার পথে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তারা হলেন আমার শিক্ষক। মা-বাবার পরেই যাদের স্থান, তারাই আমার জীবনের প্রথম গুরু।
প্রাথমিকের সোনালী দিনগুলো:
আমার শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি শেরখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানেই প্রথম শিখেছিলাম অ, আ, ক, খ। তাদের ভালোবাসাতেই ছিল জীবনের প্রথম শিক্ষা।
আমার সেই সময়ের শিক্ষক ছিলেন শ্রদ্ধেয় শান্তি স্যার (হাফিজুর স্যার), শামীম স্যার, ছব্দুল স্যার ও খাইরুল স্যার।তাদেরকে আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। এখনো ছোটবেলার সেই ক্লাস, সেই বেঞ্চ, সেই চক-ডাস্টারের কথা খুব মনে পড়ে। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে আবার ফিরে যাই সেই কৈশোরে, সেই প্রাইমারি স্কুলের আঙিনায়।
মাধ্যমিকে নতুন অধ্যায়:
প্রাথমিক পাশ করে যখন মাধ্যমিকে ভর্তি হই, প্রথম প্রথম প্রাইমারি স্কুলটাই বেশি টানতো। পরে নতুন বন্ধু, নতুন শিক্ষকদের ক্লাস আর গল্পে এক নতুন অনুভূতির সৃষ্টি হয়।
ছাত্র হিসেবে আমি ভালো হলেও ছিলাম একটু ফাঁকিবাজ। স্কুল ফাঁকি দেওয়া আর পড়ায় অমনোযোগ ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।
তখন আমাদের একজন ম্যাডাম ছিলেন, রহিমা ম্যাডাম।তিনি আমাকে ক্লাসের সবার চেয়ে একটু বেশিই ভালোবাসতেন। এক কথায় স্কুলের সবার মধ্যে আমাকে বেশি স্নেহ করতেন। এই ভয়ে আমাকে কেউ কিছু বলতো না, কারণ সবাই জানতো কিছু বললেই আমি ম্যাডামকে বলে দেব। মূলত আমি ম্যাডামের জন্যই স্কুলে যেতাম। তিনি আমার বাড়ির পাশ দিয়ে স্কুলে যেতেন এবং যাবার সময় আমাকে ডেকে নিতেন, বা আমার মাকে বলে যেতেন যেন আমাকে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়। ম্যাডামের সেই ঋণ আমি কখনো ভুলবো না।
অষ্টম শ্রেণি ও গণিতের যাদুকর:

অষ্টম শ্রেণিতে তখন বোর্ড পরীক্ষা, জে.এস.সি। আমি গণিতে ছিলাম একেবারে কাঁচা। আর তখন আমাদের গণিত শিক্ষক ছিলেন গণিতের যাদুকর খ্যাত কবির স্যার। সত্যি বলতে, তাকে যমের মতো ভয় পেতাম। যা একটু পড়তাম, মনে হয় তার ভয়েই পড়তাম।
একটা কথা না বললেই নয়। একবার গণিত পরীক্ষা দেব না বলে বাড়িতে অজুহাত দিয়ে শুয়ে আছি। হঠাৎ দেখি আমাদের দপ্তরি দাদা বাড়িতে হাজির। বললো, "চলো, পরীক্ষা দিতে হবে, কবির স্যার পাঠিয়েছে, এক্ষুনি চলো।" আমার তো তখন বেহাল অবস্থা। ভয় পেলেও যেতে হলো, করার কিছুই ছিল না। গিয়ে দেখি স্যার আমার খাতা আর প্রশ্নপত্র নিয়ে বসে আছেন। তখন মনে মনে ভেবেছিলাম, এই স্যার ছাড়া আমাকে পাস করানোর আর কেউ নেই। নবম শ্রেণিতে উঠে শুনলাম কবির স্যার আর আমাদের গণিত নেবেন না, গণিত নেবেন বকুল স্যার। আমি সহ আমার কিছু বন্ধু তো মানতেই পারিনি। কবির স্যারকে আমরা পেয়েছিলাম মাত্র এক বছরের জন্য, অষ্টম শ্রেণিতে। এখনো তাকে নিয়ে গর্ব করি। তিনি আমাদের শেরখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গর্ব।
বকুল স্যার ও নতুন পথচলা:
বকুল স্যার নতুন এসেছেন তখন। তিনি আমার পিছনে দুই বছর যে পরিশ্রম করেছেন, তা বলে বোঝানোর মতো না। তিনি আমাকে আলাদাভাবে গণিত করাতেন, যেন আমি এস.এস.সি তে কোনো ঝামেলায় না পড়ি। স্যারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অবিরাম। ধন্যবাদ স্যার, আপনাকে অনেক মিস করি।
নবম শ্রেণিতে বাবুল স্যার, লুৎফর স্যার, রশিদ স্যার, মহিদুল স্যার ও বড় ম্যাডামের
খ
পড়া আমি সবসময় করে যেতাম। কারণ তারা আমাকে আলাদাভাবে ভালোবাসতেন। শাসনের সাথে সাথে উৎসাহও দিতেন। ওখান থেকেই আমি লুৎফর স্যারের ফ্যান হয়ে যাই।
আমি আমার সকল শিক্ষককে নিয়ে গর্ব করি। আমার শিক্ষকরাই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।
ভালো থাকুক শেরখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শেরখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক। আপনাদের প্রতি রইলো বিশ্ব শিক্ষক দিবসের বিনম্র শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রানা আহমেদ । প্রধান সম্পাদক: মোঃ ফজলে রাব্বি। নির্বাহী সম্পাদক :হৃদয় হাসান ।বার্তা সম্পাদক : মাহাবুব হোসেন। মোবাইল অফিস: ০১৮৫৮৪১৬৮৭২।
ই-পেপার