খুলনা জেলা ছাত্রদলের নবঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক ও পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান ফিরোজ আহমেদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিলেও,তার নিজ এলাকা পাইকগাছার গদাইপুরে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র।
এলাকায় ফিরোজের ভাবমূর্তি ও স্থানীয়দের বক্তব্য: ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তার শৈশবের খেলার সাথী, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত সজ্জন ও মার্জিত হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা দৃঢ়ভাবে জানান,"ফিরোজকে কোনোদিন একটি সিগারেট বা বিড়িও মুখে নিতে দেখা যায়নি। মাদক তো দূরের কথা, ধূমপান মুক্ত জীবন যাপনের জন্য এলাকায় তার বিশেষ সুনাম রয়েছে।
পাইকগাছার স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে,ফিরোজ ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। পথশিশুদের সাহায্য করা এবং সাধারণ মানুষের বিপদে এগিয়ে আসা তার দীর্ঘদিনের স্বভাব।
ভিডিও বিতর্ক ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ- কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ফিরোজ আহমেদ দাবি করেছিলেন যে ভিডিওটি সম্পূর্ণ 'ফানি' বা মজার ছলে করা এবং এটি আগের। সাধারণ মানুষের সাথে মিশে বৈচিত্র্যময় জীবন যাপনের অংশ হিসেবেই তিনি এ ধরনের ভিডিও তৈরি করেন। তার ভাষ্যমতে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই ভিডিওটি বিকৃত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। তিনি যেকোনো ধরনের 'ডোপ টেস্ট' দিতেও নিজের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
দ্রুত অব্যাহতি ও অনুসারীদের ক্ষোভ: গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ৩০ সদস্যের যে কমিটি ঘোষণা করেছিল, সেখানে ফিরোজ আহমেদকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মাথায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই নাটকীয় পরিবর্তনকে পাইকগাছার সাধারণ মানুষ ও তার রাজনৈতিক কর্মীরা 'গভীর ষড়যন্ত্র' হিসেবে দেখছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও, ফিরোজ আহমেদের নিজ এলাকার মানুষের কাছে তিনি এখনো একজন সচ্চরিত্র ও আদর্শবান মানুষ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, পাইকগাছার এই কৃতি সন্তানকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিতেই একটি পক্ষ সুকৌশলে এই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি তাকে সম্মানে আবারো পুণবহাল করা হোক এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে আইনী ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রানা আহমেদ । প্রধান সম্পাদক: মোঃ ফজলে রাব্বি। নির্বাহী সম্পাদক :হৃদয় হাসান ।বার্তা সম্পাদক : মাহাবুব হোসেন। মোবাইল অফিস: ০১৮৫৮৪১৬৮৭২।
ই-পেপার