০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গংগাচড়া মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২১৬ Time View

 

স্টাফ রিপোর্টার

 

রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের তেঁতুল তলা গ্রামের শ্রী সুনীল চন্দ্র মহন্তের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে গংগাচড়া মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আখের মিয়া (৫৮), পিতা- মৃত: মজিদ, সাং- গংগাচড়া শান্তিপাড়া, শ্রী শ্যামল চন্দ্র রায় (৩৫), পিতা- মৃত গান্দেলা, কালিরঞ্জন রায় সাধু (৩৮), পিতা- বসন্ত চন্দ্র রায়, বসন্ত চন্দ্র রায় (৬০), পিতা-জাল দাম গোলা, সকলের সাং- দঃ কোলকোন্দ (মাষ্টারপাড়া), সর্বথানা- গংগাচড়া, জেলা- রংপুরগণসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/১জন বিবাদীগণের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দ্বায়ের করিতেছি যে, নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পওি পৈত্রিক সূত্রে মালিক হইয়া বিভিন্ন প্রজাতীর গাছপালা লাগাইয়া ভোগদখল করিয়া আসিতেছিলাম। বিবাদীগণ গত-২৭/০৭/২০২৫ খ্রি. তারিখ, দুপুর অনুমান ০৩.০০ ঘটিকার সময় পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আমার নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির উপর অনাধিকার প্রবেশপূর্বক উক্ত সম্পত্তিতে থাকা ১৫টি বড় আকৃতির ইউক্যালেক্টার্স গাছ, যাহার অনুমান মূল্যে-২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা কাটিয়া লইয়া গিয়া ক্ষতিসাধনপূর্বক উক্ত সম্পত্তিতে হালচাষ দিয়া ধান গাছের চারা রোপন করে। সেই সময় আমার স্ত্রী- অনিতা রানী লোক মারফতে উক্ত ঘটনা জানিতে পারিয়া ঘটনা স্থলে হাজির হইয়া বিবাদীগণকে গাছ কাটার এবং আমার ভোগদখলীয় পৈত্রিক সম্পত্তিতে ধান গাছের চারা লাগানোর কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করিলে বিবাদীগণ আমার স্ত্রীর প্রতি ক্ষিপ্ত হইয়া আমার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজপূর্বক প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করিয়া বলে যে, পুণরায় উক্ত জমিতে আসিলে তোদের মারপিট করিবো, তোদের বাড়ি ঘরে আগুন দিয়া ভিটা ছাড়া করাবো, তোদের নামে মিথ্যা মামলা দ্বায়ের করিয়া হাজত বাস করাবো, অন্যথায় পরবর্তিতে সুযোগ মত পাইয়া খুন-জখম করিয়া লাশ গুম করিয়া দিবে মর্মে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদান করে। উক্ত ঘটনার বিষয়ে সাক্ষীঃ ১। পঙ্কজ রায় (৪০), পিতা- হরিহর চন্দ্র, ২। অশোক চন্দ্র ৩০০, পিতা- অন্নদা রায়, ৩। অনিতা রানী (৪০), স্বামী- শ্রী সুনিল চন্দ্র মহন্ত, সর্বসাং-দঃ কোলকোন্দ দেলপার ডাকঘর- কোলকোন্দ, গংগাচড়া, জেলা- রংপুরগণসহ আরো অনেকে জানে ও শোনে। উক্ত সম্পত্তিতে বর্ণিত বিবাদীগণ দ্বারা যে কোন সময় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, প্রাণনাশসহ যে কোন বড় ধরনের দুঘটনা ঘটার সম্ভবনা থাকায়, বিষয়টি উপরোক্ত সাক্ষী, স্থানীয়গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধিগণকে জানিয়ে বিবাদীগণের এহেন আচরণে নিরুপায় হইয়া আইনগত সহায়তা পাওয়ার আশায় থানায় আসিয়া অভিযোগ দ্বায়ের করিতে বিলম্ব হইল।উপরোক্ত বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক বিবাদীগণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে জনাবের সদয় মর্জি হয়। জমির তফসিলঃমৌজা :কোলকোন্দ, জে.এল নং-৩৪, সি.এস খতিয়ান নং- ১৩০৯, এস.এ খতিয়ান নং- ১৪৪০, সি.এস ও এস এ দাগ নং- ৫৩১৭, জমি- ৫৬ শতক মধ্যে ২৮ আটাইশ শতক মাত্র নালিসী সম্পত্তি।এ বিষয়ে গংগাচড়া মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আখের এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন:জমি টা সুনীল এর পূর্বপুরুষেরা স্কুলে দান করেছে। জমি বিদ্যালয়ের দখলে। যদি সে মনে করে জমি পাবে তার পূর্বপুরুষের কাছ থেকে সে আমাদের সাথে বসবে, কাগজ দেখাবে।স্কুলের জমি ডাকের সময় একটা কমিটি করা থাকে, সেখানে স্কুলের ও ইউ এন ও স্যারের প্রতিনিধি থাকে। দেখতে হবে কতো শতাংশ ডাক হয়েছে। আমি সঠিক বলতে পারবো না।

কালি রন্জন সাধু বলেন:আমি স্কুল থেকে জমি লিজ নিছি। এর আগেও আমি লিজ নিয়েছিলাম। দুই বছর আগে সুনীল জমিটির দখল ধরেছিল অর্ধেক।এবছর যখন ডাক হয় আমি বলেছি আপনারা অর্ধেক ডাক দেন যেহেতু জমিটির কোর্টে মামলা আছে। আখের স্যার বলেছে আমরা পুরো জমি ডাক দেব,দখল করে দেব। ডাকের পরে স্কুলের লোক জন এসে জমির গাছপালা তুলে দখল ধরে দেয়।

শ্যামল চন্দ্র বলেন :কালীরন্জন সাধু আমার ভাই হয়।ডেকেছিলো তাই গিয়ে ছিলাম। স্কুলের জমি স্কুল ডাক দিছে। আমি কিছু জানি না।

গংগাচড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

গংগাচড়া মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ

Update Time : ০৯:২২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

 

স্টাফ রিপোর্টার

 

রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের তেঁতুল তলা গ্রামের শ্রী সুনীল চন্দ্র মহন্তের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে গংগাচড়া মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আখের মিয়া (৫৮), পিতা- মৃত: মজিদ, সাং- গংগাচড়া শান্তিপাড়া, শ্রী শ্যামল চন্দ্র রায় (৩৫), পিতা- মৃত গান্দেলা, কালিরঞ্জন রায় সাধু (৩৮), পিতা- বসন্ত চন্দ্র রায়, বসন্ত চন্দ্র রায় (৬০), পিতা-জাল দাম গোলা, সকলের সাং- দঃ কোলকোন্দ (মাষ্টারপাড়া), সর্বথানা- গংগাচড়া, জেলা- রংপুরগণসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/১জন বিবাদীগণের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দ্বায়ের করিতেছি যে, নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পওি পৈত্রিক সূত্রে মালিক হইয়া বিভিন্ন প্রজাতীর গাছপালা লাগাইয়া ভোগদখল করিয়া আসিতেছিলাম। বিবাদীগণ গত-২৭/০৭/২০২৫ খ্রি. তারিখ, দুপুর অনুমান ০৩.০০ ঘটিকার সময় পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আমার নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির উপর অনাধিকার প্রবেশপূর্বক উক্ত সম্পত্তিতে থাকা ১৫টি বড় আকৃতির ইউক্যালেক্টার্স গাছ, যাহার অনুমান মূল্যে-২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা কাটিয়া লইয়া গিয়া ক্ষতিসাধনপূর্বক উক্ত সম্পত্তিতে হালচাষ দিয়া ধান গাছের চারা রোপন করে। সেই সময় আমার স্ত্রী- অনিতা রানী লোক মারফতে উক্ত ঘটনা জানিতে পারিয়া ঘটনা স্থলে হাজির হইয়া বিবাদীগণকে গাছ কাটার এবং আমার ভোগদখলীয় পৈত্রিক সম্পত্তিতে ধান গাছের চারা লাগানোর কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করিলে বিবাদীগণ আমার স্ত্রীর প্রতি ক্ষিপ্ত হইয়া আমার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজপূর্বক প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করিয়া বলে যে, পুণরায় উক্ত জমিতে আসিলে তোদের মারপিট করিবো, তোদের বাড়ি ঘরে আগুন দিয়া ভিটা ছাড়া করাবো, তোদের নামে মিথ্যা মামলা দ্বায়ের করিয়া হাজত বাস করাবো, অন্যথায় পরবর্তিতে সুযোগ মত পাইয়া খুন-জখম করিয়া লাশ গুম করিয়া দিবে মর্মে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদান করে। উক্ত ঘটনার বিষয়ে সাক্ষীঃ ১। পঙ্কজ রায় (৪০), পিতা- হরিহর চন্দ্র, ২। অশোক চন্দ্র ৩০০, পিতা- অন্নদা রায়, ৩। অনিতা রানী (৪০), স্বামী- শ্রী সুনিল চন্দ্র মহন্ত, সর্বসাং-দঃ কোলকোন্দ দেলপার ডাকঘর- কোলকোন্দ, গংগাচড়া, জেলা- রংপুরগণসহ আরো অনেকে জানে ও শোনে। উক্ত সম্পত্তিতে বর্ণিত বিবাদীগণ দ্বারা যে কোন সময় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, প্রাণনাশসহ যে কোন বড় ধরনের দুঘটনা ঘটার সম্ভবনা থাকায়, বিষয়টি উপরোক্ত সাক্ষী, স্থানীয়গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধিগণকে জানিয়ে বিবাদীগণের এহেন আচরণে নিরুপায় হইয়া আইনগত সহায়তা পাওয়ার আশায় থানায় আসিয়া অভিযোগ দ্বায়ের করিতে বিলম্ব হইল।উপরোক্ত বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক বিবাদীগণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে জনাবের সদয় মর্জি হয়। জমির তফসিলঃমৌজা :কোলকোন্দ, জে.এল নং-৩৪, সি.এস খতিয়ান নং- ১৩০৯, এস.এ খতিয়ান নং- ১৪৪০, সি.এস ও এস এ দাগ নং- ৫৩১৭, জমি- ৫৬ শতক মধ্যে ২৮ আটাইশ শতক মাত্র নালিসী সম্পত্তি।এ বিষয়ে গংগাচড়া মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আখের এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন:জমি টা সুনীল এর পূর্বপুরুষেরা স্কুলে দান করেছে। জমি বিদ্যালয়ের দখলে। যদি সে মনে করে জমি পাবে তার পূর্বপুরুষের কাছ থেকে সে আমাদের সাথে বসবে, কাগজ দেখাবে।স্কুলের জমি ডাকের সময় একটা কমিটি করা থাকে, সেখানে স্কুলের ও ইউ এন ও স্যারের প্রতিনিধি থাকে। দেখতে হবে কতো শতাংশ ডাক হয়েছে। আমি সঠিক বলতে পারবো না।

কালি রন্জন সাধু বলেন:আমি স্কুল থেকে জমি লিজ নিছি। এর আগেও আমি লিজ নিয়েছিলাম। দুই বছর আগে সুনীল জমিটির দখল ধরেছিল অর্ধেক।এবছর যখন ডাক হয় আমি বলেছি আপনারা অর্ধেক ডাক দেন যেহেতু জমিটির কোর্টে মামলা আছে। আখের স্যার বলেছে আমরা পুরো জমি ডাক দেব,দখল করে দেব। ডাকের পরে স্কুলের লোক জন এসে জমির গাছপালা তুলে দখল ধরে দেয়।

শ্যামল চন্দ্র বলেন :কালীরন্জন সাধু আমার ভাই হয়।ডেকেছিলো তাই গিয়ে ছিলাম। স্কুলের জমি স্কুল ডাক দিছে। আমি কিছু জানি না।

গংগাচড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।