০৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় বর্ষের চিত্র প্রদর্শনীর শুভ সূচনা: গ্রাম বাংলার শিশু শিল্পীদের প্রতিভা প্রকাশ

Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
  • / ২১৩ Time View

লিখনী ডেক্স:

কলকাতা, ৯ অক্টোবর — গ্রাম বাংলার শিশু শিল্পীদের প্রতিভা তুলে ধরতে এক মহতী উদ্যোগ নিল বাগনান-বীণাপাণি কলামন্দির। আজ, ৯ই অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, ঠিক বিকেল চারটায় রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচার-এর আচার্য সুনীতি কুমার চ্যাটার্জী আর্ট গ্যালারিতে, বীণাপাণি কলামন্দির আয়োজিত এবং শ্রী অসিত বরণ চক্রবর্তী-র উদ্যোগে দ্বিতীয় তম বর্ষের চিত্র প্রদর্শনীর শুভ সূচনা হলো। এই প্রদর্শনী চলবে ৯ই অক্টোবর থেকে ১১ই অক্টোবর পর্যন্ত, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য খোলা থাকবে।

 

বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি ও শুভ সূচনা

প্রদর্শনীটির শুভ সূচনায় উপস্থিত ছিলেন সনামধন্য শিল্পী ও ভাস্কর্য শিল্পীদের মধ্যে শ্রী কৌশিক পাল, মিহির কয়াল, অমিত দাস এবং অনির্বাণ সামন্ত। এছাড়াও, স্কুলের শিক্ষক ও সমাজসেবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুপজিৎ শাসমল, অমর মন্ডল, প্রদ্যুৎ ভট্টাচার্য্য, দিব্যেন্দু কান্ডারী, অজয় গুপ্তা। পুরো অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ও বীণাপাণি কলামন্দিরের প্রেসিডেন্ট এবং প্রিন্সিপাল শ্রী অসিত বরণ চক্রবর্তী সহ সহযোগী ছাত্রছাত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।

সকল অতিথি ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং একটি সরস্বতী বন্দনার মধ্য দিয়ে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর উপস্থিত অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে, গোলাপ ফুল, ব্যাগ ও স্মারক দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

শিল্পকর্মের সমাহার ও অতিথিদের মুগ্ধতা

এই প্রদর্শনীতে গ্রাম বাংলার শিশু শিল্পী সহ অন্যান্য শিল্পীদের একশোরও বেশি অংশগ্রহণ ছিল এবং তাদের আঁকা ১৭০ টি ছবি প্রদর্শিত হয়েছে।

অতিথিরা তাঁদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা জানান, এমন উদ্যোগ সচরাচর চোখে পড়ে না, যেখানে গ্রাম বাংলার ছোট ছোট শিল্পীদের আঁকা ছবি কলকাতার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রদর্শনীর সুযোগ পেয়েছে। এতে শিল্পীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকরাও খুশি।

সম্মানীয় অতিথিরা শিশু শিল্পীদের মা-বাবাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ছোট ছোট শিল্পীদের প্রতিভা যেন মাঝপথে থেমে না যায়, উৎসাহ দিন, এই সকল প্রতিভার এগিয়ে চলার পথ দেখান। যেন একদিন এঁরা বড় হয়ে আরও ভালো ছবি এঁকে বাইরের জগতে পৌঁছাতে পারে, ভিনদেশের প্রদর্শনীতে এদের ছবি সবার সামনে তুলে ধরতে পারে।” প্রদর্শিত ছবিগুলি দেখে তাঁরা সত্যিই আন্দোলিত হয়েছেন বলেও জানান।

উদ্যোক্তার সংকল্প: শিক্ষাই এগিয়ে চলার পথ

বীণাপাণি কলামন্দিরের প্রেসিডেন্ট ও শিক্ষক শ্রী অসিত বরণ চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে জানান, এটি তাঁর দ্বিতীয় তম প্রদর্শনী, এবং তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো গ্রাম বাংলার ছেলে মেয়েদের তুলে ধরা ও তাদের পাশে থাকা। তিনি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কার্যের বিভিন্ন রকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তিনি কিছু স্কুলে সপ্তাহে একদিন করে, স্কুলের মাস্টারদের সহযোগিতায় বিনা পয়সায় ক্লাস করানোর স্থির করেছেন। এর উদ্দেশ্য, নিম্নবিত্ত ও অসহায় পরিবারের ছেলেমেয়েরা যাতে উৎসাহী হয় এবং তাদের বাবা-মায়েরা উপকৃত হন। তিনি মনে করেন, “পড়াশোনাও যেমন একটা ছাত্র-ছাত্রীর ভালো করে করার দরকার, তেমনি এই শিল্প তাদের কাছে আরও একটি এগিয়ে চলার পথ দেখায়।” তাঁর কাছে বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী শিখে চাকরি পেয়েছে এবং উপার্জনের পথ বেছে নিয়েছে বলেও জানান।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা এইভাবেই ছেলেমেয়েদের পাশে থাকুন, একদিন নিশ্চয়ই ভালো ফল পাবেন, আপনারা উৎসাহ দিলেই তবেই ছেলে মেয়েরা এগিয়ে যেতে পারবে।” সবশেষে তিনি তাঁর সকল সহযোগীকে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

দ্বিতীয় বর্ষের চিত্র প্রদর্শনীর শুভ সূচনা: গ্রাম বাংলার শিশু শিল্পীদের প্রতিভা প্রকাশ

Update Time : ০২:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

লিখনী ডেক্স:

কলকাতা, ৯ অক্টোবর — গ্রাম বাংলার শিশু শিল্পীদের প্রতিভা তুলে ধরতে এক মহতী উদ্যোগ নিল বাগনান-বীণাপাণি কলামন্দির। আজ, ৯ই অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, ঠিক বিকেল চারটায় রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচার-এর আচার্য সুনীতি কুমার চ্যাটার্জী আর্ট গ্যালারিতে, বীণাপাণি কলামন্দির আয়োজিত এবং শ্রী অসিত বরণ চক্রবর্তী-র উদ্যোগে দ্বিতীয় তম বর্ষের চিত্র প্রদর্শনীর শুভ সূচনা হলো। এই প্রদর্শনী চলবে ৯ই অক্টোবর থেকে ১১ই অক্টোবর পর্যন্ত, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য খোলা থাকবে।

 

বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি ও শুভ সূচনা

প্রদর্শনীটির শুভ সূচনায় উপস্থিত ছিলেন সনামধন্য শিল্পী ও ভাস্কর্য শিল্পীদের মধ্যে শ্রী কৌশিক পাল, মিহির কয়াল, অমিত দাস এবং অনির্বাণ সামন্ত। এছাড়াও, স্কুলের শিক্ষক ও সমাজসেবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুপজিৎ শাসমল, অমর মন্ডল, প্রদ্যুৎ ভট্টাচার্য্য, দিব্যেন্দু কান্ডারী, অজয় গুপ্তা। পুরো অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ও বীণাপাণি কলামন্দিরের প্রেসিডেন্ট এবং প্রিন্সিপাল শ্রী অসিত বরণ চক্রবর্তী সহ সহযোগী ছাত্রছাত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।

সকল অতিথি ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং একটি সরস্বতী বন্দনার মধ্য দিয়ে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর উপস্থিত অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে, গোলাপ ফুল, ব্যাগ ও স্মারক দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

শিল্পকর্মের সমাহার ও অতিথিদের মুগ্ধতা

এই প্রদর্শনীতে গ্রাম বাংলার শিশু শিল্পী সহ অন্যান্য শিল্পীদের একশোরও বেশি অংশগ্রহণ ছিল এবং তাদের আঁকা ১৭০ টি ছবি প্রদর্শিত হয়েছে।

অতিথিরা তাঁদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা জানান, এমন উদ্যোগ সচরাচর চোখে পড়ে না, যেখানে গ্রাম বাংলার ছোট ছোট শিল্পীদের আঁকা ছবি কলকাতার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রদর্শনীর সুযোগ পেয়েছে। এতে শিল্পীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকরাও খুশি।

সম্মানীয় অতিথিরা শিশু শিল্পীদের মা-বাবাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ছোট ছোট শিল্পীদের প্রতিভা যেন মাঝপথে থেমে না যায়, উৎসাহ দিন, এই সকল প্রতিভার এগিয়ে চলার পথ দেখান। যেন একদিন এঁরা বড় হয়ে আরও ভালো ছবি এঁকে বাইরের জগতে পৌঁছাতে পারে, ভিনদেশের প্রদর্শনীতে এদের ছবি সবার সামনে তুলে ধরতে পারে।” প্রদর্শিত ছবিগুলি দেখে তাঁরা সত্যিই আন্দোলিত হয়েছেন বলেও জানান।

উদ্যোক্তার সংকল্প: শিক্ষাই এগিয়ে চলার পথ

বীণাপাণি কলামন্দিরের প্রেসিডেন্ট ও শিক্ষক শ্রী অসিত বরণ চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে জানান, এটি তাঁর দ্বিতীয় তম প্রদর্শনী, এবং তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো গ্রাম বাংলার ছেলে মেয়েদের তুলে ধরা ও তাদের পাশে থাকা। তিনি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কার্যের বিভিন্ন রকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তিনি কিছু স্কুলে সপ্তাহে একদিন করে, স্কুলের মাস্টারদের সহযোগিতায় বিনা পয়সায় ক্লাস করানোর স্থির করেছেন। এর উদ্দেশ্য, নিম্নবিত্ত ও অসহায় পরিবারের ছেলেমেয়েরা যাতে উৎসাহী হয় এবং তাদের বাবা-মায়েরা উপকৃত হন। তিনি মনে করেন, “পড়াশোনাও যেমন একটা ছাত্র-ছাত্রীর ভালো করে করার দরকার, তেমনি এই শিল্প তাদের কাছে আরও একটি এগিয়ে চলার পথ দেখায়।” তাঁর কাছে বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী শিখে চাকরি পেয়েছে এবং উপার্জনের পথ বেছে নিয়েছে বলেও জানান।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা এইভাবেই ছেলেমেয়েদের পাশে থাকুন, একদিন নিশ্চয়ই ভালো ফল পাবেন, আপনারা উৎসাহ দিলেই তবেই ছেলে মেয়েরা এগিয়ে যেতে পারবে।” সবশেষে তিনি তাঁর সকল সহযোগীকে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান।