০৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মপাশা থানার ওসি সহিদ উল্ল্যা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নাসিম হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে ৯জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / ৮ Time View

 

  • সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্ল্যা কর্তৃক মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আলেচিত পাইকুরহাটি ইউপির সুনই গ্রামের নাসিম হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে মূল আসামী মেহেদী হাসান ডালি ও আনুসহ ০৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভোক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি’র হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্র মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন নিহত নাসিমের সহধর্মিনী রূপসা আক্তার।

নিহত নাসিমের স্ত্রী রূপসা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের বলেন,ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম কর্তৃক মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিমিয়ে আসামীদের পক্ষে মামলার চার্জশিট দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমার স্বামী হত্যাকান্ডের পর ন্যায় বিচারের আশায় আমি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে প্রথমে ওসি মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। হত্যাকান্ডের মূল অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ডালি ও অলির নাম কেটে দিলে তিনি মামলা নিবেন বলে জানান।

পরবর্তীতে স্থানীয় এমপির নির্দেশে মামলা নিলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি ১১ জন আসামীর মধ্যে মূল আসামীসহ ০৯ আসামীর নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেন। আমি এ মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সুনামগঞ্জের পুুিলশ সুপারের নিকট দাবী জানান। যারা আমার ছোট ছোট ৪টা সন্তানকে এতিম করেছে মামলার চার্জশিট থেকে বাদ পড়া প্রকুত খুনীদের চাজশিটে অন্তুভূক্ত করে তাদের অবিরম্বে গ্রেফতার করে ফাসিঁ কার্যকরের জন্য বর্তমান সরকারসহ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের বড়ভাই আলামিন ও স্বজনসহ স্বআরো অনেকেই।

এ ব্যাপারে ধর্মপাশা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্ল্যার নিকট মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চার্জশিট থেকে মূল আসামীদের নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা আখ্য দিয়ে বলেন,পুলিশ তদন্ত করে নাসিম হত্যাকান্ডের সাথে যাদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তাদের নামে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বাদিপক্ষ তো আদালতের শরনাপন্ন হতে পারতেন এবং চার্জশিট দেয়ার আগে আমাদেরকে বলতে পারতেন বা জানতে চাইতে পারতেন ওদের নাম বাদ দিয়ে কেন চার্জশিট দেয়া হচ্ছে তখন আমরা তাদের তদন্তের পুরো বিষয়টি ব্যাখা দিতে পারতাম।

উল্লেখ্য গত ৬ জুন ২০২৬ ইং তারিখে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মেহেদী হাসান ডালি ও আনু মিয়া গংরা নাসিম মিয়ার চাচাতো বোনকে একা পেয়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিসহ শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় নাসিম প্রতিবাদ করলে নামাংঙ্কিত ব্যাক্তিরা নাসিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। নাসিমের স্ত্রী রূপসা আক্তার বলেন,ঘটনার দু”দিন পূর্বে ডালি ও আনু গংরা তার দেবর জসিমের মোটর সাইকেল আটকিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কবর খুড়ে রাখার হুমকি দেন এবং ৬ই জুন তার ভাসুর,স্বামী নাসিম,দেবর জসিমসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যার চেষ্টায় আক্রমন করে এবং গত ৭ই জুন ডালি ও আনু গংরা তার স্বামী নাসিমের সাথে পূর্ববিরোধের জেরে প্রথমে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নাসিমকে গিল,ঘুষি লাথি ও পাইপ দিয়ে পিঠিয়ে মারাত্মকভাবে রক্তাক্তজখম করে এবং পরবর্তীতে নাসিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মামলা দায়েরের পর মূল আসামীদের চার্জশিট থেকে বাদ দিলেও বাকি আসামীরা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে এসে নিহতের সহধর্মিনী রূপসা আক্তারসহ স্বজনদের মামলা তুলে আনার জন্য হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ধর্মপাশা থানার ওসি সহিদ উল্ল্যা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নাসিম হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে ৯জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৮:০৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

 

  • সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্ল্যা কর্তৃক মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আলেচিত পাইকুরহাটি ইউপির সুনই গ্রামের নাসিম হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে মূল আসামী মেহেদী হাসান ডালি ও আনুসহ ০৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভোক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি’র হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্র মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন নিহত নাসিমের সহধর্মিনী রূপসা আক্তার।

নিহত নাসিমের স্ত্রী রূপসা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের বলেন,ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম কর্তৃক মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিমিয়ে আসামীদের পক্ষে মামলার চার্জশিট দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমার স্বামী হত্যাকান্ডের পর ন্যায় বিচারের আশায় আমি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে প্রথমে ওসি মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। হত্যাকান্ডের মূল অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ডালি ও অলির নাম কেটে দিলে তিনি মামলা নিবেন বলে জানান।

পরবর্তীতে স্থানীয় এমপির নির্দেশে মামলা নিলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি ১১ জন আসামীর মধ্যে মূল আসামীসহ ০৯ আসামীর নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেন। আমি এ মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সুনামগঞ্জের পুুিলশ সুপারের নিকট দাবী জানান। যারা আমার ছোট ছোট ৪টা সন্তানকে এতিম করেছে মামলার চার্জশিট থেকে বাদ পড়া প্রকুত খুনীদের চাজশিটে অন্তুভূক্ত করে তাদের অবিরম্বে গ্রেফতার করে ফাসিঁ কার্যকরের জন্য বর্তমান সরকারসহ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের বড়ভাই আলামিন ও স্বজনসহ স্বআরো অনেকেই।

এ ব্যাপারে ধর্মপাশা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্ল্যার নিকট মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চার্জশিট থেকে মূল আসামীদের নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা আখ্য দিয়ে বলেন,পুলিশ তদন্ত করে নাসিম হত্যাকান্ডের সাথে যাদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তাদের নামে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বাদিপক্ষ তো আদালতের শরনাপন্ন হতে পারতেন এবং চার্জশিট দেয়ার আগে আমাদেরকে বলতে পারতেন বা জানতে চাইতে পারতেন ওদের নাম বাদ দিয়ে কেন চার্জশিট দেয়া হচ্ছে তখন আমরা তাদের তদন্তের পুরো বিষয়টি ব্যাখা দিতে পারতাম।

উল্লেখ্য গত ৬ জুন ২০২৬ ইং তারিখে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মেহেদী হাসান ডালি ও আনু মিয়া গংরা নাসিম মিয়ার চাচাতো বোনকে একা পেয়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিসহ শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় নাসিম প্রতিবাদ করলে নামাংঙ্কিত ব্যাক্তিরা নাসিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। নাসিমের স্ত্রী রূপসা আক্তার বলেন,ঘটনার দু”দিন পূর্বে ডালি ও আনু গংরা তার দেবর জসিমের মোটর সাইকেল আটকিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কবর খুড়ে রাখার হুমকি দেন এবং ৬ই জুন তার ভাসুর,স্বামী নাসিম,দেবর জসিমসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যার চেষ্টায় আক্রমন করে এবং গত ৭ই জুন ডালি ও আনু গংরা তার স্বামী নাসিমের সাথে পূর্ববিরোধের জেরে প্রথমে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নাসিমকে গিল,ঘুষি লাথি ও পাইপ দিয়ে পিঠিয়ে মারাত্মকভাবে রক্তাক্তজখম করে এবং পরবর্তীতে নাসিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মামলা দায়েরের পর মূল আসামীদের চার্জশিট থেকে বাদ দিলেও বাকি আসামীরা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে এসে নিহতের সহধর্মিনী রূপসা আক্তারসহ স্বজনদের মামলা তুলে আনার জন্য হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন।