০৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদ রাখবে বিএনপি

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৯ Time View

ইশতেহার ঘোষণাকালে তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে একটি প্রস্তাব জাতির সামনে অনেক আগেই দিয়েছিলাম। সেই প্রস্তাবটি হচ্ছে— যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার পদের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হবে না। পরবর্তীতে সরকার গঠিত রিফর্ম কমিশনের সঙ্গে অন্যান্য অনেক দল আলোচনা করেছে, কিন্তু এই প্রস্তাবটি সর্বপ্রথম বিএনপি দিয়েছিল। এটি নথিবদ্ধ (ডকুমেন্টেড)। কাজেই এই কৃতিত্ব অবশ্যই আমরা গ্রহণ করতে চাই।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে অবশ্যই দেশের আইনের মধ্যে এই বিষয়টি প্রবর্তন করব যে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কার্যকাল অতিবাহিত করতে পারবেন।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের অনেক বিষয় আছে। আমাদের অনেক কিছু হয়তো করা প্রয়োজন। একটি বিষয় নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিনের আলোচনা ছিল— সেটি হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এটি নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক ও বিতর্ক ছিল। ৩১ দফা যেদিন আমরা উপস্থাপন করি, সেখানে আমরা বলেছিলাম যে, অবশ্যই আমরা এই ৭০ অনুচ্ছেদ বিষয়টিকে পর্যায়ক্রমিকভাবে একটি যৌক্তিক অবস্থানে নিয়ে আসতে চাই। দুই-একটি বিষয় ছাড়া এটি সম্পূর্ণভাবে ধীরে ধীরে আমরা উন্মুক্ত করে দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে যদি গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তাহলে যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক চর্চা অর্থাৎ ভোটাধিকার বা ভোটের বিষয়টি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। অবশ্যই তা হতে হবে নিরপেক্ষ ভোট— যে ব্যবস্থার ওপর দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা থাকবে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের মনে করার কারণ আছে যে ৯১, ৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা একমাত্র অরাজনৈতিক সরকার অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারই দিতে পারে। সেজন্যই আমরা ৩১ দফা উপস্থাপনের সময় বলেছি যে, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। পরবর্তীতে বিষয়টি অনেকেই বলেছেন এবং বর্তমান সরকারের সংস্কার কমিশনেও এটি আলোচিত হয়েছে। দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই কৃতিত্ব নিতেই চাইব যে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আমরাই এই কথাটি বলেছি। অর্থাৎ, স্বৈরাচারের সময়ে আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে যখন আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করি, সেখানে পরিষ্কারভাবে বলেছি— বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে এবং সংসদে প্রয়োজনীয় শক্তি থাকলে আমরা অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদ রাখবে বিএনপি

Update Time : ০৫:৩২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে একটি প্রস্তাব জাতির সামনে অনেক আগেই দিয়েছিলাম। সেই প্রস্তাবটি হচ্ছে— যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার পদের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হবে না। পরবর্তীতে সরকার গঠিত রিফর্ম কমিশনের সঙ্গে অন্যান্য অনেক দল আলোচনা করেছে, কিন্তু এই প্রস্তাবটি সর্বপ্রথম বিএনপি দিয়েছিল। এটি নথিবদ্ধ (ডকুমেন্টেড)। কাজেই এই কৃতিত্ব অবশ্যই আমরা গ্রহণ করতে চাই।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে অবশ্যই দেশের আইনের মধ্যে এই বিষয়টি প্রবর্তন করব যে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কার্যকাল অতিবাহিত করতে পারবেন।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের অনেক বিষয় আছে। আমাদের অনেক কিছু হয়তো করা প্রয়োজন। একটি বিষয় নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিনের আলোচনা ছিল— সেটি হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এটি নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক ও বিতর্ক ছিল। ৩১ দফা যেদিন আমরা উপস্থাপন করি, সেখানে আমরা বলেছিলাম যে, অবশ্যই আমরা এই ৭০ অনুচ্ছেদ বিষয়টিকে পর্যায়ক্রমিকভাবে একটি যৌক্তিক অবস্থানে নিয়ে আসতে চাই। দুই-একটি বিষয় ছাড়া এটি সম্পূর্ণভাবে ধীরে ধীরে আমরা উন্মুক্ত করে দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে যদি গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তাহলে যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক চর্চা অর্থাৎ ভোটাধিকার বা ভোটের বিষয়টি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। অবশ্যই তা হতে হবে নিরপেক্ষ ভোট— যে ব্যবস্থার ওপর দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা থাকবে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের মনে করার কারণ আছে যে ৯১, ৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা একমাত্র অরাজনৈতিক সরকার অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারই দিতে পারে। সেজন্যই আমরা ৩১ দফা উপস্থাপনের সময় বলেছি যে, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। পরবর্তীতে বিষয়টি অনেকেই বলেছেন এবং বর্তমান সরকারের সংস্কার কমিশনেও এটি আলোচিত হয়েছে। দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই কৃতিত্ব নিতেই চাইব যে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আমরাই এই কথাটি বলেছি। অর্থাৎ, স্বৈরাচারের সময়ে আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে যখন আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করি, সেখানে পরিষ্কারভাবে বলেছি— বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে এবং সংসদে প্রয়োজনীয় শক্তি থাকলে আমরা অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব।