ডোমারে সামান্য ইঁদুরের গর্ত থেকে ভয়াবহ বিপর্যয়
- Update Time : ১১:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০ Time View

মিজানুর রহমান
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধহ
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট পানির প্রবল চাপে ধসে পড়েছে। এতে একটি বসতবাড়ির অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অকেজো হয়ে পড়েছে পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যার ফলে কয়েক শ বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার প্রায় ৩০০ পরিবারের মানুষ।
রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব হলহলিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকার মৃত আবু সাঈদের স্ত্রী হালিমা বেগমের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রবিবার সকাল থেকে স্লুইসগেটটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বসতে শুরু করে। একপর্যায়ে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, বাঁধের পাশে থাকা ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি চুইয়ে বের হওয়া শুরু করলে অল্প সময়ের মধ্যেই বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই স্লুইসগেট সংলগ্ন হালিমা বেগমের বসতবাড়ির একাংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত হালিমা বেগম কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘গেটের মুখে পাটের ঝাঁক জমানো ছিল, তাই পানি সরতে পারছিল না। আমি গেট খুলে দেওয়ার জন্য চিৎকার করেছি, কিন্তু কেউ শোনেনি। ১০ মিনিটের মধ্যে আমার ঘর নদীতে চলে গেল। আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাই, এখন ঘর ঠিক করব কীভাবে?’
এলাকার কৃষক আহিনুর ইসলাম জানান, এই গেট দিয়ে শত শত বিঘা জমির সেচ ও পানি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এখন এটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষায় যেমন জলাবদ্ধতা হবে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে সেচের সংকটে জমি অনাবাদি হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু বলেন, ‘খবর পেয়েই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণে এই ভাঙনের সূত্রপাত। আমরা ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে নতুন একটি সেতু বা স্লুইসগেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।























