বাগেরহাট বিমানবন্দর: চীনা ও আমিরাতি বিনিয়োগে কাটছে ৩ দশকের স্থবিরতা
- Update Time : ১২:০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৯ Time View

হাবিবুর রহমান, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি,
দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে আটকে থাকা বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ খাতের অন্যতম এই মেগা প্রকল্পে বিশাল অঙ্কের অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি বড় বিদেশি প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক এই দুই সংস্থার প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরটির পাশাপাশি স্থবির থাকা এভিয়েশন ও পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বহুমুখী প্রস্তাব
পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আবুধাবিভিত্তিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ইকুইলাইন ফাইন্যান্স এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) পৃথকভাবে এই প্রকল্পের জন্য তাদের বিনিয়োগ ও ঋণ প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
এর মধ্যে ইউএই-এর ইকুইলাইন ফাইন্যান্স আবুধাবি দূতাবাসের মাধ্যমে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগের একটি সার্বিক রূপরেখা জমা দিয়েছে। তাদের প্রস্তাবে খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানের জন্য কার্গো উড়োজাহাজ ক্রয় এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন অবকাঠামো বাড়াতে হোটেল-মোটেল নির্মাণের বিষয় যুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিএমসি গত ৩০ জুলাই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আগ্রহপত্র (ইওআই) জমা দেয়। সিএমসি চার ধরনের অর্থায়ন মডেলে (জি-টু-জি, পিপিপি, বিওটি বা ইপিসি-এফ) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিকল্প পথ খোলা রেখেছে। বর্তমানে বেবিচক দপ্তরে দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবই যাচাই-বাছাই চলছে।
ভিত্তিপ্রস্তর থেকে অচলাবস্থা: ইতিহাস ও পটভূমি
১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লা এলাকায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া খানজাহান আলী বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১১ ও ২০১৮ সালে নতুন করে প্রায় ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং আংশিক মাটি ভরাট ছাড়া প্রকল্পের মূল কাজ আর এগোয়নি। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা, আঞ্চলিক টানাপোড়েন এবং তহবিল সংকটে দীর্ঘ ২৯ বছর প্রকল্পটি কার্যত বন্ধ ছিল। সম্প্রতি সরকারের নতুন করে আগ্রহ দেখানোর প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটিতে আবার গতি এসেছে।
উন্নয়নের নতুন দুয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
খুলনা, বাগেরহাট এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরের মাঝামাঝি ফয়লাহাটে বিমানবন্দরটি চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে।
শিল্প ও বাণিজ্য: মোংলা ইপিজেড, মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং খুলনা-বাগেরহাটের রপ্তানিমুখী হিমায়িত চিংড়ি শিল্পের মালামাল দ্রুত পরিবহনে এটি মূল হাব হিসেবে কাজ করবে।
পর্যটন বিকাশ: সুন্দরবনমুখী দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সরাসরি যাতায়াত সহজ হবে, যা পর্যটন খাতে নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করবে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ: আঞ্চলিক যোগাযোগের বিমান পথ উন্মুক্ত হলে শিল্পায়নে নতুন নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।
বেবিচকের চূড়ান্ত পর্যালোচনার পরই যৌথ বিনিয়োগ কিংবা ঋণ চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে।





















