সুন্দরবনে ফের সক্রিয় ডাকাত দল: দুই দিনে ২১ জেলে অপহরণ, ড্রোনে কোস্টগার্ডের তল্লাশি
- Update Time : ১১:৪৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১১ Time View

মো: রাজু আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার)
সুন্দরবনে ফের বাড়ল দস্যু আতঙ্ক। গত দুই দিনে বনের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২১ জন জেলেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্র উঁচিয়ে জেলেদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার জেলে ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহৃতদের উদ্ধারে বনজুড়ে ড্রোনের সহায়তায় সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে কোস্টগার্ড।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে সাগরসংলগ্ন ভাঙা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় একাধিক জেলেবহরে অতর্কিত হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় একদল সশস্ত্র দস্যু। তারা বিভিন্ন নৌকা থেকে অন্তত ১৫ জন জেলেকে জোরপূর্বক নিজেদের ট্রলারে তুলে নিয়ে যায়। এর আগে বনের অন্য এলাকাগুলো থেকে আরও ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়। অপহৃত ১৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে; তাঁদের বাড়ি খুলনা, মোংলা এবং বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলী এলাকায়। সরকারি পারমিট (পাশ) নিয়েই এসব জেলে সুন্দরবনের নদী ও খালে মাছ ধরছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে বন বিভাগ।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী জেলে অপহরণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেন জানান, দুদিন আগে থেকেই বনজুড়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সুন্দরবনের দুর্গম নদী ও গহিন বনাঞ্চলে দস্যুদের সম্ভাব্য আস্তানা শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ড্রোনের মাধ্যমে জোরদার নজরদারি চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় জেলে ও মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, বনাঞ্চলে নতুন করে কথিত ‘চাঁদার কার্ড’ প্রথা চালু করেছে দস্যুরা। জোগানদারা যেসব নৌকায় ‘টোকেন’ বা কার্ড দিচ্ছে, সেগুলো ছাড় পেলেও কার্ডবিহীন নৌকাগুলোকে মূল টার্গেট বানাচ্ছে সশস্ত্র দলগুলো। তুলে নিয়ে যাওয়ার পর মোবাইল ফোনে পরিবারগুলোর কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিপুলসংখ্যক দস্যু আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলেও নতুন করে এই সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপকূলের বাসিন্দারা। জেলে মোঃ জুলফিকার শেখ ও স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, “আগে দস্যুরা আত্মসমর্পণ করে অস্ত্র জমা দিল, অথচ এখন আবার তাঁদের হাতে ভারী অস্ত্র আসছে কোত্থেকে? এসব অস্ত্রের মূল উৎস ও সরবরাহকারী কারা, তা অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
উপকূলীয় মৎস্যজীবী সমাজ অপহৃত জেলেদের দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধার এবং বনে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।




















