গংগাচড়ার বড়বিলে ঢেঁড়স চাষে বীজ উৎপাদনে লাভবান হওয়ার আশা কৃষকের
- Update Time : ০৯:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
- / ২৪৯ Time View

আব্দুর রাজ্জাক, গংগাচড়া (রংপুর)প্রতিনিধিঃ
খাদ্য তালিকায় ঢেঁড়স একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সি রয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত আয়োডিন, ভিটামিন এ এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ রয়েছে। তথ্য মতে ঢেঁড়স নিয়মিত খেলে গলাফোলা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এটি মানুষের হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে থাকে। ফলে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে ঢেঁড়সের ব্যাপক চাহিদা। বাজারের চাহিদা এবং ভালো ফলন হওয়ায় ঢেঁড়স চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। অন্যান্য সবজির মতো চাষাবাদে বড় কোনো জমিতে ঢেঁড়স চাষ নজরে না আসলেও চাহিদা অনুযায়ী কম-বেশি ছোট ছোট ক্ষেত চোখে পড়ার মতো।
অধিকাংশ কৃষকেরা বিভিন্ন সবজি ক্ষেতের চারপাশে ঢেঁড়স চাষ করছেন। ঢেঁড়স চাষে সার কীটনাশক ছাড়া তেমন কোনো খরচ হয় না। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ভালো ফলন পেয়ে লাভজনক এই সবজির চাষাবাদ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে রংপুরের গংগাচড়ায়। এ উপজেলার গ্রামাঞ্চলে কৃষি জমি ছাড়াও বাড়ির আঙ্গিনায় ঢেঁড়স চাষ করছেন কৃষকেরা। শারীরিক উপকারিতা গুণাবলির অধিকারী এই সবজি চাষাবাদ করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই।
বর্তমান বাজারে ঢেঁড়সের ভালো দর পেয়ে ঢেঁড়স ক্ষেত সঠিকভাবে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে গেলে গংগাচড়া উপজেলার ৩ নং বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর চোত্তাপাড়া গ্রামের কৃষক মোকাররম হোসেন জানান, তিনি ২০ শতক জমিতে ঢেঁড়স চাষ করেছেন। এতে তার সব মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সন্তোষজনক ফলন পাবার আশায় সঠিক সময়ে সঠিকভাবে ঢেঁড়স ক্ষেত পরিচর্যা করছেন।
প্রায় দেড় মাস আগে ঢেঁড়সের বীজ বপন করেছেন। বর্তমানে প্রতিটি গাছে চার থেকে পাঁচটি করে ঢেঁড়স ধরেছে। বাজারদর ভালো থাকায় অল্প অল্প ঢেঁড়স তুলে বাজারে বিক্রি করতেও পারছেন। গাছগুলো বড় হওয়ার সাথে সাথে ফলন বাড়বে। তিন মাসের এই ফসল। ২০ শতক জমি থেকে ঢ়েঁড়সের বীজ বিক্রি করে সব খরচ বাদে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশা করছেন। তবে মোকাররম হোসেন দাবি করে বলেন যদি কৃষি অফিস থেকে সহায়তা পেত তাহলে আরও ভালো ফলন ও লাভবান হত। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে তাড়া কোন সহযোগীতা পান না।
একই গ্রামের কৃষক রাশেদুল জানান, তিনি ২২ শতক জমিতে ঢেঁড়স চাষ করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় ঢেঁড়সের সন্তোষজনক ফলন হয়েছে। বৃষ্টির সিজেন থাকলে তেমন ফলন হয় না। এই মৌসুমে ভালো ফলন হচ্ছে এবং বাজারেও বেশ চাহিদা রয়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা ধরে বিক্রি করা গেলে ও তাড়া ঢ়েঁড়সের বীজ উৎপাদন করে বেশি দামে বিক্রি করবে বলে আশা করেন।
তিনি বলেন, অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি অল্প পুঁজিতে ঢেঁড়স চাষ করে আমরা বেশ লাভবান। চোত্তাপাড়া এলাকার কৃষক খোকন মিয়া জানান, আমাদের এই গ্রামে ঢেঁড়সের পাশাপাশি লাউ সিম বেগুন করলা পেঁপে সহ বিভিন্ন সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলা শহর সহ ঢাকায় চলে যায়। এই অঞ্চলের কৃষকেরা সবজি চাষ করে বেশ স্বাবলম্বী।
গংগাচড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সৈয়দ মোঃ শাহিনুর রহমান জানান,
এ উপজেলায়
মোট সবজি আবাদ হয়েছে ৬৮০ হেক্টর জমিতে তার মধ্যে ৭ হেক্টর জমিতে ঢেঁড়স চাষ করছেন কৃষকেরা। জাতসমূহের মধ্যে রয়েছে বারি ঢেঁড়স ১ এবং বিভিন্ন হাইব্রিড ঢেরস। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এখানকার মাটিতে বাম্পার ফলন হয়। তিনি আরও বলেন যে কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের ভালো পরামর্শ দেয়া হয়।



















