০৪:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চকরিয়ায় বসতভিটা দখলের চেষ্টা, বেড়া ভাঙচুর ও গাছ কাটার অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৯ Time View

 

(কক্সবাজার) প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বসতভিটার টিনের ঘেরা-বেড়া ভাঙচুর, গাছ ও বাঁশ কেটে নেওয়া এবং মাটি ফেলে জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পাঁচ ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিলে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।

এ ঘটনায় বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকার মো. আজিজুর রহমান চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বিকেল ২টার দিকে ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পহরচাঁদা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

লিখিত অভিযোগে আজিজুর রহমান দাবি করেন, ঘটনাস্থলের জমি তার মা ছাবেকুন্নাহারের পৈতৃক ও মাতৃক সম্পত্তি। ওয়ারিশ হিসেবে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা ওই জমিতে বসতভিটা নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন। জমির নামজারি ও জমাভাগ খতিয়ান রয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন মো. আরিফ, মো. রিদুয়ান, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. তারেক ও মো. শেকাব উদ্দিন কয়েকজন লোক নিয়ে দা, কিরিচ, কুড়াল, লোহার হাতুড়ি ও রডসহ সেখানে যান। তারা বসতভিটার টিনের ঘেরা-বেড়া ভাঙচুর করলে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। পরে একটি বটগাছ ও ২০টি বাঁশ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাদীর মামা মোহাম্মদ আলমগীরের মালিকানাধীন বসতভিটায় মাটি ফেলে জায়গা দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আজিজুর রহমান। পাশাপাশি সেখানে পায়খানা নির্মাণ করে ময়লাযুক্ত পানি বাদীর ভিটায় ছেড়ে দেওয়ায় দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণ হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

আজিজুর রহমানের দাবি, এসব কাজে বাধা দিলে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের মারধর, কুপিয়ে হত্যা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিবাদী গিয়াসউদ্দিন ও মো: তারেক বলেন, তারা রিজার্ভ ভূমিতে বসবাস করলেও আলমগীরের খতিয়ানভুক্ত জমির ওপর দিয়ে চলাচল করেন। চলাচলের জন্য অন্য কোনো পথ না থাকায় সড়ক পরিমাণ জমি আলমগীরদের কাছ থেকে কিনতে চাইলেও তারা বিক্রি করতে রাজি হননি। এ কারণে চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত জায়গার টিনের ঘেরা-বেড়া কেটে চলাচল করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকার একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক নাছির উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

চকরিয়ায় বসতভিটা দখলের চেষ্টা, বেড়া ভাঙচুর ও গাছ কাটার অভিযোগ

Update Time : ০১:০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

 

(কক্সবাজার) প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বসতভিটার টিনের ঘেরা-বেড়া ভাঙচুর, গাছ ও বাঁশ কেটে নেওয়া এবং মাটি ফেলে জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পাঁচ ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিলে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।

এ ঘটনায় বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকার মো. আজিজুর রহমান চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বিকেল ২টার দিকে ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পহরচাঁদা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

লিখিত অভিযোগে আজিজুর রহমান দাবি করেন, ঘটনাস্থলের জমি তার মা ছাবেকুন্নাহারের পৈতৃক ও মাতৃক সম্পত্তি। ওয়ারিশ হিসেবে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা ওই জমিতে বসতভিটা নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন। জমির নামজারি ও জমাভাগ খতিয়ান রয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন মো. আরিফ, মো. রিদুয়ান, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. তারেক ও মো. শেকাব উদ্দিন কয়েকজন লোক নিয়ে দা, কিরিচ, কুড়াল, লোহার হাতুড়ি ও রডসহ সেখানে যান। তারা বসতভিটার টিনের ঘেরা-বেড়া ভাঙচুর করলে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। পরে একটি বটগাছ ও ২০টি বাঁশ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাদীর মামা মোহাম্মদ আলমগীরের মালিকানাধীন বসতভিটায় মাটি ফেলে জায়গা দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আজিজুর রহমান। পাশাপাশি সেখানে পায়খানা নির্মাণ করে ময়লাযুক্ত পানি বাদীর ভিটায় ছেড়ে দেওয়ায় দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণ হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

আজিজুর রহমানের দাবি, এসব কাজে বাধা দিলে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের মারধর, কুপিয়ে হত্যা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিবাদী গিয়াসউদ্দিন ও মো: তারেক বলেন, তারা রিজার্ভ ভূমিতে বসবাস করলেও আলমগীরের খতিয়ানভুক্ত জমির ওপর দিয়ে চলাচল করেন। চলাচলের জন্য অন্য কোনো পথ না থাকায় সড়ক পরিমাণ জমি আলমগীরদের কাছ থেকে কিনতে চাইলেও তারা বিক্রি করতে রাজি হননি। এ কারণে চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত জায়গার টিনের ঘেরা-বেড়া কেটে চলাচল করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকার একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক নাছির উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।