১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দস্যুমুক্ত সুন্দরবন গড়তে বড় সাফল্য: কোস্টগার্ডের জালে করিম শরীফ বাহিনীর ৩ সদস্য।

মো: রাজু আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ১২:২৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • / ১২ Time View

সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় টানা দুই দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় দস্যুদের ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে কোস্টগার্ড সদস্যরা।

​শুক্রবার (১৫ মে) সকালে কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ মে থেকে বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খালী খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে কোস্টগার্ড বেইস মোংলা এবং স্টেশন কোকিলমনি।

​অভিযান চলাকালে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। জানমাল রক্ষায় কোস্টগার্ডও পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। একপর্যায়ে কোস্টগার্ডের তীব্র প্রতিরোধের মুখে দস্যুরা বনের গহীনে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয়।

​গ্রেপ্তারকৃত দস্যুরা হলো— বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থানার মোঃ মেহেদী হাসান (২৫) ও মোঃ রমজান শরীফ (১৯) এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মোঃ এনায়েত (২৫)।

​অভিযানস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে:

​৩টি একনলা বন্দুক ও ১টি দেশীয় পিস্তল।

​৪৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গোলা।

​২টি ওয়াকিটকি এবং ৪টি চার্জার।

​কোস্টগার্ড জানায়, এই দস্যু দলটি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। গত ১৩ মে বনবিভাগের সহযোগিতায় এই বাহিনীর হাত থেকে ৪ জন অপহৃত জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা করিম শরীফ বাহিনীর হয়ে ডাকাতির কথা স্বীকার করেছে।

​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ চলমান রয়েছে। কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দস্যু ও তাদের মদতদাতাদের নির্মূল না করা পর্যন্ত বনের গহীনে এই ধরনের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

দস্যুমুক্ত সুন্দরবন গড়তে বড় সাফল্য: কোস্টগার্ডের জালে করিম শরীফ বাহিনীর ৩ সদস্য।

Update Time : ১২:২৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় টানা দুই দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় দস্যুদের ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে কোস্টগার্ড সদস্যরা।

​শুক্রবার (১৫ মে) সকালে কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ মে থেকে বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খালী খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে কোস্টগার্ড বেইস মোংলা এবং স্টেশন কোকিলমনি।

​অভিযান চলাকালে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। জানমাল রক্ষায় কোস্টগার্ডও পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। একপর্যায়ে কোস্টগার্ডের তীব্র প্রতিরোধের মুখে দস্যুরা বনের গহীনে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয়।

​গ্রেপ্তারকৃত দস্যুরা হলো— বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থানার মোঃ মেহেদী হাসান (২৫) ও মোঃ রমজান শরীফ (১৯) এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মোঃ এনায়েত (২৫)।

​অভিযানস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে:

​৩টি একনলা বন্দুক ও ১টি দেশীয় পিস্তল।

​৪৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গোলা।

​২টি ওয়াকিটকি এবং ৪টি চার্জার।

​কোস্টগার্ড জানায়, এই দস্যু দলটি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। গত ১৩ মে বনবিভাগের সহযোগিতায় এই বাহিনীর হাত থেকে ৪ জন অপহৃত জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা করিম শরীফ বাহিনীর হয়ে ডাকাতির কথা স্বীকার করেছে।

​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ চলমান রয়েছে। কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দস্যু ও তাদের মদতদাতাদের নির্মূল না করা পর্যন্ত বনের গহীনে এই ধরনের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।