গাজীপুর ধান গবেষণায় পদোন্নতিতে কারসাজি
- Update Time : ১০:১৮:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৬৫ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের ধান উৎপাদনের একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউ। তবে সাম্প্রতিক দেশের এই শীর্ষ খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতির কারসাজিতে ভঙ্গুর অবস্থা দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তা কর্মচারীদের মনোবল নষ্ট হচ্ছে যা আগামীতে দেশের ধান উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।
জানাগেছে, গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-তে সম্প্রতি পদোন্নতি ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের কারণে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। প্রধান সমস্যা কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার (পিএসও) পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াকে ঘিরে। গবেষণা ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ পদোন্নতির বিষয়টি এখানে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ২:৩০ মিনিটে মহাপরিচালকের সভাকক্ষে ডিপিসি কমিটির বৈঠকে সাতজনের পদোন্নতির প্রস্তাব আলোচনায় আসে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ অভিযোগে বলা হয়েছে, তালিকায় স্থান পেয়েছেন এমনরা যারা ‘ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভোগী’ হিসেবে পরিচিত। ছয়জন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী এই বিষয়টি নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক আনুগত্য এখন পদোন্নতির মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা গবেষণা ব্যাহত করছে এবং কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে।
বিশেষ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে ড. হাবিবুর রহমান (মুকুল)-কে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। ব্রি-র অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, মুকুল নিজস্ব প্রভাব ব্যবস্থাপনায় পদোন্নতির অনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করছে। এছাড়া, সিনিয়র এডি মো. কাউসার, যিনি আওয়ামী ফ্যাসিবাদী হিসেবে পরিচিত, মুকুলের আঁতাতে থাকেও প্রমোশন দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
ব্রি-র মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেছেন, “বিজ্ঞানীরা যদি পদোন্নতি নিতে না চান, আমি জোর করতে পারি না। ন্যায়সংগতভাবে শুনব এবং সমাধানের পথ খুঁজব। ব্রি-তে যোগ্যতা ও শৃঙ্খলাই প্রাধান্য পাবে।” প্রশাসনের অনেকেই ডিজির এই কথায় আশ্বাস করতে পারছেন না। তবে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, পদোন্নতি সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং যে কোনো সময় ব্রি প্রাঙ্গণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি ব্রি দ্রুত দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে গবেষণাকেন্দ্রিক পরিবেশে ফিরে না আসে, তবে দেশের ধান গবেষণার অগ্রগতি থমকে যাবে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে নতুন ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়ন ও গবেষণা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
দ্রুত বিষয়টি আমলে নিয়ে সঠিক ভাবে পদোন্নতিসহ সার্বিক বিষয় দেখভালের জন্য মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বিশেষজ্ঞরা।
















