নওগাঁর রানীনগরে দরিদ্র বাহাদুরের ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা,প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সেই ভ্যান উদ্ধার, ফুল দিয়ে পুলিশ সুপারকে কৃতজ্ঞতা
- Update Time : ১০:১৬:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ৮ Time View

জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সম্বল—কিস্তির টাকা পরিশোধ না হওয়া ভ্যানটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন নওগাঁর রানীনগর উপজেলার দরিদ্র ভ্যানচালক বাহাদুর (৫০)। কিন্তু আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়া ও পুলিশের তৎপরতায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে উদ্ধার হলো সেই ভ্যান।
শুধু তাই নয়, গ্রেফতার হয়েছে কুখ্যাত চোর পিতা ও পুত্র। সর্বস্ব হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া মানুষটির মুখে হাসি ফোটানোর পর, আজ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ফুল নিয়ে এসে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আনন্দাশ্রুভরা চোখে।
জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজাপুর গ্রামের মৃত জফির উদ্দিনের পুত্র বাহাদুর অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় নওগাঁ পুলিশ সুপারেরকার্যালয়ে উপস্থিত হন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি জানান, প্রতারণার মাধ্যমে নওগাঁ শহর থেকে তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি চুরি হয়ে গেছে। ভ্যানটির ক্রয়ের কিস্তিও তখনো পরিশোধ বাকি ছিল।
ভুক্তভোগীর আকুতি ও অসহায়ত্ব আমলে নিয়ে পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে নওগাঁ সদর থানায় মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-কে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত চোর চক্রকে শনাক্ত ও ভ্যান উদ্ধারে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
নির্দেশনার পর মাঠে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা, নওগাঁর একটি চৌকস টিম। নওগাঁ জেলা পুলিশ কর্তৃক বাস্তবায়িত এআই কানেক্টেড ডিজিটাল সার্ভিলেন্স ক্যামেরার ফুটেজ ও বিভিন্ন উপাত্ত নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে ডিবি পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা থানা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা শাখা। অভিযানে চুরির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন—ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানার রঘুনাথপুর নর্দগ্রাম এলাকার মৃত আঃ হকের পুত্র সালাম (৪৮) এবং তার নিজ পুত্র ও সহযোগী নয়ন (২৪)।
পরে ১ নম্বর আসামির হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
সর্বস্ব হারানোর শঙ্কা কাটিয়ে নিজের উপার্জনের বাহন ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন ভ্যানচালক বাহাদুর। কিস্তির বোঝা মাথায় থাকা অসহায় এই মানুষটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে নিজ হাতে ভ্যান চালিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পুলিশ সুপার ও ডিবির সদস্যদের প্রতি ফুল দিয়ে ভালোবাসা, ধন্যবাদ এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।
জনবান্ধব এই পুলিশি কার্যক্রমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।















