০৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মনিরামপুরে বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি প্লাবিত কৃষক ও ঘের মালিকের কোটি টাকার ক্ষতি

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ১৩৭ Time View

 

এন এম রায়হান :-

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হরিণা খালের বাঁধ ভেঙে হাজার বিঘা বোরো ধানখেত প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে ঘেরে পানি ঢুকে অন্তত প্রায় ৩ (তিন) কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,গত রবিবার ভোর ৪টার দিকে হঠাৎ হরিণা খালের ২০-২৫ হাত পাড় ভেঙে খেতে পানি ঢুকতে শুরু করে। এলাকাবাসী মাইকিং করে নিজেদের উদ্যোগে দিনভর চেষ্টা করেও পানি আটকাতে ব্যর্থ হন। এতে বিলের প্রায় ১ হাজার ২০০ বিঘা জমির বোরো আবাদ পানির নিচে তলিয়ে যায়। যাতে কৃষকসহ ঘের মালিক শান্ত হয়ে গিয়েছে।

দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য দীপক কুমার বলেন, হরিণা খালে বিশাল আয়তনের দুটি মাছের ঘের রয়েছে। ঘের দুটির মধ্যে হরিণা খালের অবস্থান। ঘেরমালিকের সঙ্গে কৃষকদের চুক্তি অনুযায়ী বোরো মৌসুমে সেখানে ধান চাষের জন্য পানি সেচে খালে ফেলা হয়। খালটি কেশবপুর উপজেলার গাইয়েখালি গেট হয়ে নদীর সঙ্গে মিশেছে।
এবার একটি ঘেরের পানি সেচে জমির মালিকেরা সেখানে বোরো আবাদ করেন। আর ভেতরে ছোট আরেকটি ঘের কেটে সেখানে মাছ রাখেন ঘেরমালিকগন।
দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন ভোরে হঠাৎ হরিণা খালের পাড় ভেঙে বিমলের ঘেরের মধ্যে ১ হাজার ২০০ বিঘা বোরো আবাদে পানি ঢুকে পড়ে। সকালে এলাকায় মাইকে ঘোষণা দিলে এলাকাবাসী বাঁশের খুঁটি দিয়ে বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পানির স্রোত বেশি হওয়ায় দিনভর চেষ্টা করেও বাঁধ দেওয়া যায়নি।
মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন এই বিলে ধান লাগানো প্রায় শেষ হয়ে গেছিল ভিড়ের বাঁধ ভেঙে সবকিছুতে লেগে গেছে, এখন যদি এই পানি বের করে দিয়ে ধান চাষ করার এ বছর আর সম্ভব হবে না, তাই আমি দাবি রাখি প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবি করি কৃষকের সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য। এবং উপজেলা বিএনপি তাদের পাশে রয়েছে।

ইউপি সদস্য দীপক বলেন, ‘বোরো আবাদ এখন কোমরপানিতে তলিয়ে রয়েছে। এলাকার সবাই চিন্তিত। বিমলের মাছ যে ছোট ঘেরে রাখা ছিল, সেটাও ডুবে গেছে। এতে অন্তত কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।

এ বিষয় ঘের মালিকগণ বলেন আমাদের প্রায় তিন কোটি টাকার বেশি মাছ বেরিয়ে গিয়েছে আমরা তো সর্বশান্ত সাথে কৃষকদের ধান চাষের জন্য উপযুক্ত জায়গাটি পানিতলের তলে গেছে যাতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি করি আমাদের ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দ্রুত দাড়ানোর জন্য এবং ভেড়ির কাজটি সম্পন্ন করে দেয়ার জন্য।

দূর্বাডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী মাজহারুল পলাতক থাকায় পরিষদে প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে বোরো আবাদ তলিয়ে যাওয়ার খবর শুনে আমি ঘটনা স্থল প্রদর্শন করি, ভেড়ি বাধার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা চেষ্টা করছি পানি সেচ দিয়ে আবার ধান লাগানোর উপযোগী করা যায় কিনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে বোরো আবাদ তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সকালে শুনে ঘটনাস্থলে এসেছি, ৮০০ বিঘা ধান চাষের উপযোগী ছিল কিন্তু ভেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে সব পানির নিচে চলে গেছে। আমি স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে যেটা জানতে পারলাম ঘের মালিকও কৃষকরা মিলে এখন মাছ চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।আমি ক্ষতির বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।পরবর্তী নির্দেশনা দিলেই আমরা কৃষকের পাশে দাঁড়াবো।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মনিরামপুরে বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি প্লাবিত কৃষক ও ঘের মালিকের কোটি টাকার ক্ষতি

Update Time : ০৯:০৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

এন এম রায়হান :-

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হরিণা খালের বাঁধ ভেঙে হাজার বিঘা বোরো ধানখেত প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে ঘেরে পানি ঢুকে অন্তত প্রায় ৩ (তিন) কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,গত রবিবার ভোর ৪টার দিকে হঠাৎ হরিণা খালের ২০-২৫ হাত পাড় ভেঙে খেতে পানি ঢুকতে শুরু করে। এলাকাবাসী মাইকিং করে নিজেদের উদ্যোগে দিনভর চেষ্টা করেও পানি আটকাতে ব্যর্থ হন। এতে বিলের প্রায় ১ হাজার ২০০ বিঘা জমির বোরো আবাদ পানির নিচে তলিয়ে যায়। যাতে কৃষকসহ ঘের মালিক শান্ত হয়ে গিয়েছে।

দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য দীপক কুমার বলেন, হরিণা খালে বিশাল আয়তনের দুটি মাছের ঘের রয়েছে। ঘের দুটির মধ্যে হরিণা খালের অবস্থান। ঘেরমালিকের সঙ্গে কৃষকদের চুক্তি অনুযায়ী বোরো মৌসুমে সেখানে ধান চাষের জন্য পানি সেচে খালে ফেলা হয়। খালটি কেশবপুর উপজেলার গাইয়েখালি গেট হয়ে নদীর সঙ্গে মিশেছে।
এবার একটি ঘেরের পানি সেচে জমির মালিকেরা সেখানে বোরো আবাদ করেন। আর ভেতরে ছোট আরেকটি ঘের কেটে সেখানে মাছ রাখেন ঘেরমালিকগন।
দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন ভোরে হঠাৎ হরিণা খালের পাড় ভেঙে বিমলের ঘেরের মধ্যে ১ হাজার ২০০ বিঘা বোরো আবাদে পানি ঢুকে পড়ে। সকালে এলাকায় মাইকে ঘোষণা দিলে এলাকাবাসী বাঁশের খুঁটি দিয়ে বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পানির স্রোত বেশি হওয়ায় দিনভর চেষ্টা করেও বাঁধ দেওয়া যায়নি।
মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন এই বিলে ধান লাগানো প্রায় শেষ হয়ে গেছিল ভিড়ের বাঁধ ভেঙে সবকিছুতে লেগে গেছে, এখন যদি এই পানি বের করে দিয়ে ধান চাষ করার এ বছর আর সম্ভব হবে না, তাই আমি দাবি রাখি প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবি করি কৃষকের সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য। এবং উপজেলা বিএনপি তাদের পাশে রয়েছে।

ইউপি সদস্য দীপক বলেন, ‘বোরো আবাদ এখন কোমরপানিতে তলিয়ে রয়েছে। এলাকার সবাই চিন্তিত। বিমলের মাছ যে ছোট ঘেরে রাখা ছিল, সেটাও ডুবে গেছে। এতে অন্তত কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।

এ বিষয় ঘের মালিকগণ বলেন আমাদের প্রায় তিন কোটি টাকার বেশি মাছ বেরিয়ে গিয়েছে আমরা তো সর্বশান্ত সাথে কৃষকদের ধান চাষের জন্য উপযুক্ত জায়গাটি পানিতলের তলে গেছে যাতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি করি আমাদের ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দ্রুত দাড়ানোর জন্য এবং ভেড়ির কাজটি সম্পন্ন করে দেয়ার জন্য।

দূর্বাডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী মাজহারুল পলাতক থাকায় পরিষদে প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে বোরো আবাদ তলিয়ে যাওয়ার খবর শুনে আমি ঘটনা স্থল প্রদর্শন করি, ভেড়ি বাধার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা চেষ্টা করছি পানি সেচ দিয়ে আবার ধান লাগানোর উপযোগী করা যায় কিনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে বোরো আবাদ তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সকালে শুনে ঘটনাস্থলে এসেছি, ৮০০ বিঘা ধান চাষের উপযোগী ছিল কিন্তু ভেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে সব পানির নিচে চলে গেছে। আমি স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে যেটা জানতে পারলাম ঘের মালিকও কৃষকরা মিলে এখন মাছ চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।আমি ক্ষতির বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।পরবর্তী নির্দেশনা দিলেই আমরা কৃষকের পাশে দাঁড়াবো।