কেশবপুরে পদ্মবিলের ধান রক্ষায় পাটা অপসারণ, ৪ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ
- Update Time : ১২:০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৯ Time View

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুর উপজেলার ১০ নম্বর সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের পদ্মবিলে জলাবদ্ধতার কারণে সাড়ে ৫৫০ থেকে ৬০০ বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। পদ্মবিল ও মার্সিনা বিলের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলে দুটি পাটা বাঁধ ও জাল দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে রাখায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
কৃষকের ফসল রক্ষায় বিষয়টি নজরে আসার পর কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেনের দিকনির্দেশনায় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে পদ্মবিল ও মার্সিনা বিলের সংযোগস্থলে স্থাপিত দুটি পাটা বাঁধ অপসারণ করা হয়। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসে এবং বিস্তীর্ণ এলাকার ধানের ফসলি জমি জলমগ্ন হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়।
এদিকে একই অভিযানে পদ্মবিল ও মার্সিনা বিলের প্রায় আটটি স্পট থেকে আনুমানিক ৪ হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা এসব নিষিদ্ধ জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, খালে-বিলে অবৈধ জাল ও পাটা বাঁধ ব্যবহারের কারণে একদিকে যেমন মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে পানি নিষ্কাশনের পথও বন্ধ হয়ে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কৃষকদের ফসল ক্ষতির আশঙ্কায় পড়তে হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দেওয়া এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার আইনবিরোধী। কৃষি জমি ও জলজ সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মিয়াজান আলী, ভাল্লুকঘর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই নারদ কুমার বিশ্বাস, ভিডিপি দলনেতা মো. আলী হোসেন, দলনেতা তালিব হোসাইন, আনসার কমান্ডার মো. ইয়াসিন আলী, দলনেতা শেখ রাজিকুল ইসলাম ও মো. আমানত আলী গাজী।
অভিযানের ফলে একদিকে যেমন পদ্মবিলের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল অপসারণের মাধ্যমে বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জলজ সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।



















