০৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোটচাঁদপরে জামাত নেতা কর্তৃক গ্রাম্য সালিশের রায় চুল টাক করার বদলে চুল টাক করতে হবে নইলে ৩ বছরের থাকা খাওয়ার খরচ চালাতে হবে।

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৮৬ Time View

 

নিজস্ব প্রতিবেদক বাবলু মিয়া.

 

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর ইউনিয়নের বহিরগাছী গ্রামের ঝরনা নামের এক গৃহবধুর সালিশে চুল কাটতে বাধ্য করেছে ওই গ্রামের গ্রাম্য মাতুব্বাররা। ঘটনার ভুক্তভোগী ঝরনা বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায় যে তার পাশের বাড়ির বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক নারী। পাশাপাশি বসবাস করার কারণে গ্রাম্য সম্পর্কে তাকে দাদী বলে ডাকে। গত বৃহস্পতিবার সে তার বেটার বৌয়ের চুলে অধিক উকুন হয়েছে যার কারণে বেটার বউ তাকে বলেছে যে আম্মা আমার চুল টাক করে দিতে হবে। তার এই খবরে পাশের বাড়ির ওই মেয়েটি ব্লেড কিনে নিয়ে এসেছে যে তার চুলও কেটে দিতে হবে। সে তখন ওই মেয়েকে কয়েকবার চেষ্টা করেছি তার বাবা মার অনুমতি নিয়ে আসার জন্য কিন্তু মেয়ে নাছোড় যার কারণে বাধ্য হয়ে সরল মনে ওই মেয়ের মাথা টাক করে দেয় ঝরনা বেগম। এই ঘটনা ঘটার পর ওই মেয়ের মা এসে এই বাড়ির লোকের সাথে ঝগড়া করে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করে।

গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করলে এই সালিশে কোটচাঁদপুর জামাতের রোকন নূর নবী বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এবং সে বলে যে যেহেতু মাথা টাক করেছে সে তো তার মাথা টাক করতে হবে অথবা ওই মেয়ের ৩ বছর ভরণপোষণ দিতে হবে। গ্রাম্য সালিশের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি আমার স্বামীকে দিয়ে আমার মাথার চুল চেঁচে ফেলতে বাধ্য হই। আমরা গরীব মানুষ ওই মেয়েকে তো আর তিন বছর খাওয়াতে পরাতে পারবো না। নুর নবী হাদিসে পেয়েছে টাকের বদলে টাক করতে হবে।পাশের বাড়ির যে মেয়ের চুল টাক করা নিয়ে ঘটনা সেই মেয়ের মায়ের সাথে কথা বললে সে বলে যে ওরা শাশুড়ি বেটার বউ আমার মেয়ের চুল টাক করার ব্যাপারে ভীষণভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে যার কারণে আমার মেয়ে তাদের চুল কেটে দিতে বলেছে। ঘটনায় আমি সালিশ ডেকেছি সালিশের মাধ্যমে মীমাংস হয়ে গেছে এটা নিয়ে আপনাদের আর কিছু করার দরকার নেই।বহিরগাছী গ্রামের প্রাক্তন মেম্বারের সাথে কথা বললে সে বলে যে ঘটনা শুনেছি তবে সালিশ হয়েছে আমার জানা নেই।যদি সালিশ হত তাহলে তো আমাকে ডাকতো। নূরনবী অনেক ভালো ছেলে সেখানকার মসজিদে নামাজ পড়ায়।এই প্রসঙ্গে নুর নবীর সাথে কথা বললে সে জানায় সে একজন জামাতের রোকন সদস্য এবং সাফদারপুর আলিয়া মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক। সালিশে ছিলেন তবে আমি চুল কাটার কোন আদেশ দেইনি। বহিরগাছী গ্রামের এক বিএনপি নেতা আশরাফুল ছিল সে চুল কাটার আদেশ দিয়েছে। আমি তাকে চূল কাটতে নিষেধ করেছি। এই সালিশে বিএনপি জামাতের উভয়ই মিলে সালিশ করা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কোটচাঁদপরে জামাত নেতা কর্তৃক গ্রাম্য সালিশের রায় চুল টাক করার বদলে চুল টাক করতে হবে নইলে ৩ বছরের থাকা খাওয়ার খরচ চালাতে হবে।

Update Time : ০৫:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

নিজস্ব প্রতিবেদক বাবলু মিয়া.

 

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর ইউনিয়নের বহিরগাছী গ্রামের ঝরনা নামের এক গৃহবধুর সালিশে চুল কাটতে বাধ্য করেছে ওই গ্রামের গ্রাম্য মাতুব্বাররা। ঘটনার ভুক্তভোগী ঝরনা বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায় যে তার পাশের বাড়ির বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক নারী। পাশাপাশি বসবাস করার কারণে গ্রাম্য সম্পর্কে তাকে দাদী বলে ডাকে। গত বৃহস্পতিবার সে তার বেটার বৌয়ের চুলে অধিক উকুন হয়েছে যার কারণে বেটার বউ তাকে বলেছে যে আম্মা আমার চুল টাক করে দিতে হবে। তার এই খবরে পাশের বাড়ির ওই মেয়েটি ব্লেড কিনে নিয়ে এসেছে যে তার চুলও কেটে দিতে হবে। সে তখন ওই মেয়েকে কয়েকবার চেষ্টা করেছি তার বাবা মার অনুমতি নিয়ে আসার জন্য কিন্তু মেয়ে নাছোড় যার কারণে বাধ্য হয়ে সরল মনে ওই মেয়ের মাথা টাক করে দেয় ঝরনা বেগম। এই ঘটনা ঘটার পর ওই মেয়ের মা এসে এই বাড়ির লোকের সাথে ঝগড়া করে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করে।

গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করলে এই সালিশে কোটচাঁদপুর জামাতের রোকন নূর নবী বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এবং সে বলে যে যেহেতু মাথা টাক করেছে সে তো তার মাথা টাক করতে হবে অথবা ওই মেয়ের ৩ বছর ভরণপোষণ দিতে হবে। গ্রাম্য সালিশের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি আমার স্বামীকে দিয়ে আমার মাথার চুল চেঁচে ফেলতে বাধ্য হই। আমরা গরীব মানুষ ওই মেয়েকে তো আর তিন বছর খাওয়াতে পরাতে পারবো না। নুর নবী হাদিসে পেয়েছে টাকের বদলে টাক করতে হবে।পাশের বাড়ির যে মেয়ের চুল টাক করা নিয়ে ঘটনা সেই মেয়ের মায়ের সাথে কথা বললে সে বলে যে ওরা শাশুড়ি বেটার বউ আমার মেয়ের চুল টাক করার ব্যাপারে ভীষণভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে যার কারণে আমার মেয়ে তাদের চুল কেটে দিতে বলেছে। ঘটনায় আমি সালিশ ডেকেছি সালিশের মাধ্যমে মীমাংস হয়ে গেছে এটা নিয়ে আপনাদের আর কিছু করার দরকার নেই।বহিরগাছী গ্রামের প্রাক্তন মেম্বারের সাথে কথা বললে সে বলে যে ঘটনা শুনেছি তবে সালিশ হয়েছে আমার জানা নেই।যদি সালিশ হত তাহলে তো আমাকে ডাকতো। নূরনবী অনেক ভালো ছেলে সেখানকার মসজিদে নামাজ পড়ায়।এই প্রসঙ্গে নুর নবীর সাথে কথা বললে সে জানায় সে একজন জামাতের রোকন সদস্য এবং সাফদারপুর আলিয়া মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক। সালিশে ছিলেন তবে আমি চুল কাটার কোন আদেশ দেইনি। বহিরগাছী গ্রামের এক বিএনপি নেতা আশরাফুল ছিল সে চুল কাটার আদেশ দিয়েছে। আমি তাকে চূল কাটতে নিষেধ করেছি। এই সালিশে বিএনপি জামাতের উভয়ই মিলে সালিশ করা হয়েছে।