০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মা ও শিশুর পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগে উপকৃত হবে ১০ হাজার পরিবার

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৯ Time View

 

মো. কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে মা ও শিশুর পুষ্টি উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে “Integrated Actions through Mother and Child Benefit Programme (MCBP) and Disaster Risk Reduction (DRR)” প্রকল্পের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।সোমবার (৩ আগস্ট) রাঙামাটিতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিপ্লব চাকমা, মনিটরিং পরিদর্শক, আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস (আশিকা), রাঙামাটি। প্রধান অতিথি ছিলেন নাজমা আশরাফী , অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), রাঙামাটি।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাইউংপু মারমা, সম্মানিত সদস্য, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ; নূয়েন খীসা সিভিল সার্জন, রাঙ্গামাটির, মো. মোবারক হোসেন, উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা প্রশাসকের এর কার্যালয় রাঙামাটি, এবং অনুকা খীসা, উপ-পরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, রাঙামাটি।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মায়া চাকমা, প্রকল্পের কর্মকর্তা, আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস। প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন কৌশল ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত খীসা।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের গর্ভবতী নারী, দুগ্ধদানকারী মা, শিশু ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী এখনও অপুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করবে এমসিবিপি-ডিআরআর প্রকল্প।প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায়, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর অর্থায়নে এবং আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাঙামাটির বিভিন্ন দুর্গম ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার এবং ৪৮ হাজারেরও বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
প্রকল্পের আওতায় পরিবারভিত্তিক পুষ্টি শিক্ষা, গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা, শিশুর সুষম পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, মাতৃদুগ্ধ পান বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হবে।এছাড়া Disaster Risk Reduction (DRR) কার্যক্রমের আওতায় কমিউনিটি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, জরুরি সাড়া প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ-সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।সভায় বক্তারা বলেন, সরকারি দপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাঙামাটিতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাঙামাটির পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মা ও শিশুর পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগে উপকৃত হবে ১০ হাজার পরিবার

Update Time : ১১:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

 

মো. কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে মা ও শিশুর পুষ্টি উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে “Integrated Actions through Mother and Child Benefit Programme (MCBP) and Disaster Risk Reduction (DRR)” প্রকল্পের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।সোমবার (৩ আগস্ট) রাঙামাটিতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিপ্লব চাকমা, মনিটরিং পরিদর্শক, আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস (আশিকা), রাঙামাটি। প্রধান অতিথি ছিলেন নাজমা আশরাফী , অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), রাঙামাটি।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাইউংপু মারমা, সম্মানিত সদস্য, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ; নূয়েন খীসা সিভিল সার্জন, রাঙ্গামাটির, মো. মোবারক হোসেন, উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা প্রশাসকের এর কার্যালয় রাঙামাটি, এবং অনুকা খীসা, উপ-পরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, রাঙামাটি।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মায়া চাকমা, প্রকল্পের কর্মকর্তা, আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস। প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন কৌশল ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত খীসা।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের গর্ভবতী নারী, দুগ্ধদানকারী মা, শিশু ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী এখনও অপুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করবে এমসিবিপি-ডিআরআর প্রকল্প।প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায়, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর অর্থায়নে এবং আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাঙামাটির বিভিন্ন দুর্গম ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার এবং ৪৮ হাজারেরও বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
প্রকল্পের আওতায় পরিবারভিত্তিক পুষ্টি শিক্ষা, গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা, শিশুর সুষম পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, মাতৃদুগ্ধ পান বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হবে।এছাড়া Disaster Risk Reduction (DRR) কার্যক্রমের আওতায় কমিউনিটি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, জরুরি সাড়া প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ-সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।সভায় বক্তারা বলেন, সরকারি দপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাঙামাটিতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাঙামাটির পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।