সম্পাদক থেকে রাষ্ট্রনায়ক—এক নতুন অধ্যায়ের প্রারম্ভে বাংলাদেশ
- Update Time : ০৬:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১২ Time View

নাঈম ইসলাম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভিনব অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গণমাধ্যমের জগতের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত একজন ব্যক্তিত্ব—তারেক রহমান—দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তিনি শুধু একজন রাজনীতিক নন; তিনি একজন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন দৈনিক দিনকাল পত্রিকায়। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সংবেদনশীল বাস্তবতার যে সেতুবন্ধন প্রয়োজন, তার একটি অনন্য অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে রয়েছে।
রাজনীতির মঞ্চে যারা আসেন, তাদের অধিকাংশই প্রশাসনিক কিংবা দলীয় কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ থাকেন। কিন্তু সম্পাদকীয় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। সংবাদপত্রের সম্পাদক জানেন—একটি বাক্য কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, একটি শিরোনাম কতটা আলোড়ন তুলতে পারে, কিংবা একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কীভাবে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তাই এমন একজন মানুষ যখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে আসীন হতে চলেছেন, তখন প্রত্যাশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক—তিনি হবেন সাংবাদিকবান্ধব, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং গণমাধ্যমের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম বহু প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে এগিয়েছে। কখনও রাজনৈতিক চাপ, কখনও অর্থনৈতিক সংকট, কখনও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে সংবাদপত্র শিল্প এক জটিল সময় পার করছে। এই প্রেক্ষাপটে একজন সাবেক সম্পাদক যদি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই সংবাদকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন—এমনটাই আশা করা যায়।
তবে সম্পাদক থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া মানে কেবল অভিজ্ঞতার রূপান্তর নয়; এটি দৃষ্টিভঙ্গিরও এক বিস্তৃত পরিসর। একটি পত্রিকার নীতিনির্ধারণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্ধারণ এক নয়। এখানে দল, মত, শ্রেণি, পেশা—সব কিছুকে অতিক্রম করে সমগ্র জাতির স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হয়। তাই সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে, সেগুলো হবে বহুমাত্রিক—অর্থনীতি, কূটনীতি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, মানবাধিকার—সব ক্ষেত্রেই নিতে হবে সুসমন্বিত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।
এই সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তন দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝেও নতুন বার্তা দিচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে জনজীবনের বিভিন্ন অঙ্গন—রাজনীতি, গণমাধ্যম, সামাজিক আন্দোলন—সবকিছু মিলেই একজন নেতার পরিপূর্ণতা গড়ে ওঠে। বহুমুখী অভিজ্ঞতা নেতৃত্বকে করে আরও মানবিক, আরও সংবেদনশীল।
সবচেয়ে বড় কথা, গণতন্ত্রের শক্তি নিহিত থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপে। একজন সাবেক সম্পাদক হিসেবে তিনি নিশ্চয়ই জানেন—সংলাপ বন্ধ হয়ে গেলে রাষ্ট্র দুর্বল হয়, আর মতের ভিন্নতা দমিয়ে রাখলে সমাজ স্থবির হয়ে পড়ে। তাই তাঁর নেতৃত্বে যদি গড়ে ওঠে উন্মুক্ত আলোচনা, সমালোচনাকে গ্রহণ করার সংস্কৃতি এবং আইনের শাসনের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার—তবে সেটিই হবে নতুন অধ্যায়ের প্রকৃত সাফল্য।
বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সামনে সম্ভাবনার দিগন্ত, সঙ্গে চ্যালেঞ্জের দীর্ঘ তালিকা। এই মুহূর্তে প্রয়োজন প্রজ্ঞা, সহনশীলতা ও দূরদর্শিতা। সম্পাদকীয় কক্ষ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার কক্ষ—এই যাত্রাপথ যদি জনগণের আস্থা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে, তবে সেটিই হবে ইতিহাসের এক অনন্য উদাহরণ।
সময়ের অপেক্ষা এখন কেবল একটি—কথার সঙ্গে কাজের মিল। জাতি দেখবে, একজন সম্পাদক যখন রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তখন তিনি কেমন বাংলাদেশ গড়ে তোলেন।



















