রঘুনাথপুরে মায়ের স্বীকারোক্তিতে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার ।
- Update Time : ১০:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
- / ৬২ Time View

মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা: অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পরপর কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ায় এক মা নিজের নবজাতক কন্যাকে খালে ফেলে হত্যা করেছেন! এমন হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির বাবা ইব্রাহিম খলিল (৪২) সোমবার রাত ৮টার দিকে থানায় এসে নবজাতক কন্যা নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চান। কিন্তু তার বক্তব্য পুলিশের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মা শারমিন আক্তারের সঙ্গে কথা বললে তিনি ভেঙে পড়েন এবং হত্যার কথা স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তাদের ইতোমধ্যে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে—একজনের বয়স পাঁচ বছর, অন্যজন দেড় বছর। পরপর কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পারিবারিক ও সামাজিক চাপের মুখে তৃতীয় কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়াকে মেনে নিতে পারেননি। সেই হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই সোমবার রাতে নবজাতকটিকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পুলিশ রাতেই বাড়ির পাশের সরকারি খালের কচুরিপনার ভেতর থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে। রাতের আঁধারে কচুরিপনার নিচে ভেসে থাকা ক্ষুদ্র দেহটি উদ্ধারের সময় উপস্থিত সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে শিশুটিকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতকটিকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনা। শিশুটির দাদি খাদিজা খাতুন বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মা শারমিন আক্তারকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিঠুন সরকার, ডিবি ও পিবিআই কর্মকর্তারা। স্থানীয় হেলাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার মুনসুর আলী বলেন, সন্ধ্যা থেকেই শিশুটিকে না পাওয়ার কথা বলছিলেন মা-বাবা, তবে তাদের আচরণ ছিল সন্দেহজনক। পরে পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে খাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। জানা গেছে, শিশুর বাবা ইব্রাহিম খলিলের বাড়ি শ্যামনগর উপজেলায় হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে কলারোয়ার রঘুনাথপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে আসছেন। গ্রামের মানুষের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—কীভাবে পারে একটি মা নিজের সন্তানের প্রাণ নিতে? শিশুটির মৃত্যুতে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

























