আমদানি নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি নীতিই বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী।
- Update Time : ১০:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / ১৭ Time View

জ্বালানির আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ লাইনে প্রতিবন্ধকতার কারণে দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে। আর এই সামগ্রিক সংকটের জন্য সরকারের আমদানি নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি নীতিই পুরোপুরি দায়ী। তাই আসন্ন জাতীয় বাজেটে সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ওপর বিশেষ কর রেয়াত ও প্রণোদনা দিতে হবে।
০৫ জুন (শুক্রবার) সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মোংলার মৈদাড়ায় আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
”ইনস্পায়ার্ড বাই ন্যাচার, ফর ক্লাইমেট, ফর আওয়ার ফিউচার” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট মোকাবেলা, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত ও ন্যায্য রূপান্তরের দাবিতে যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপার সম্মিলিতভাবে এই মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে।
শুক্রবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ।
বক্তারা বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানি কেবলমাত্র শক্তির উৎস নয়; বরং এটি আমাদের সামাজিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অন্তর্ভূক্তি এবং জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি।”
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মোঃ নূর আলম শেখ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পশুর নদীর জলজপ্রাণী ও সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমাতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী নির্মাণে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।
মানববন্ধনে মোংলা উপজেলা জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে পশুর নদী ও সুন্দরবনে তীব্র মাছের আকাল দেখা দিয়েছে, যা জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকাকে বিপন্ন করছে। সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় অবিলম্বে নদী দূষণ রোধ করার জোর দাবি জানান তিনি।
ট্যাক্স ও নীতিগত সহায়তার ওপর জোর দিয়ে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র প্রতিনিধি কমলা সরকার বলেন, “একটি ন্যায্য ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের জন্য ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরো জোরদার করতে হবে। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকারকে অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।”
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর নেতা অ্যাডভোকেট সার্বভৌম রায়, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ভলান্টিয়ার নাজমুল হক, রাকেশ সানা, অসীমা মন্ডল এবং মেহেদী হাসানসহ স্থানীয় পরিবেশবাদী নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্পগুলো বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব টেকসই জ্বালানি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।






















