১১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযান ৩২২ পিস ইয়াবা ও ১৯ বোতল কোরেক্সসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক।

মোঃ তৌফিকুর রহমান রাজন 
  • Update Time : ১০:১৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / ১৯ Time View

ঝিনাইদহ জেলার মাদকবিরোধী লড়াইয়ে বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জীবন মন্ডল (৩২) এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুজন আহমেদকে (২৫) বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।

​আজ শনিবার (৬ জুন) দুপুরে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাপাড়া (বালিয়াডাঙ্গা) এলাকায় এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৩২২ পিস ইয়াবা এবং ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ১৯ বোতল কোরেক্স উদ্ধার করা হয়েছে।

​​জীবন মন্ডল (৩২): কালীগঞ্জ থানার বানুরিয়া গ্রামের মৃত ইলাহী মন্ডলের ছেলে। তিনি পুলিশের নথিতে একজন তালিকাভুক্ত ও পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

​সুজন আহমেদ (২৫): বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আলতাফ মন্ডলের ছেলে এবং জীবনের অন্যতম সহযোগী।

​​কালীগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুজন আহমেদের বাড়িতে মাদকদ্রব্যের একটি বড় চালান কেনাবেচা হচ্ছে—এমন একটি গোপন ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পায় পুলিশ। এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কালীগঞ্জ থানার একটি চৌকস দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি মাদক কারবারিদের। ধাওয়া করে তাদের আটক করার পর তল্লাশি চালিয়ে ৩২২ পিস ইয়াবা এবং ১৯ বোতল নিষিদ্ধ কোরেক্স উদ্ধার করা হয়।

​​গ্রেফতারকৃত জীবন মন্ডলের বিষয়ে পুলিশ জানায়, সে অত্যন্ত ধূর্ত এবং পেশাদার মাদক কারবারি। ঝিনাইদহসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে সে বিভিন্ন সময় কৌশলে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।

​কালীগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারকৃতদের থানায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’-এ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

​পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে স্থানীয় সচেতন মহলে স্বস্তি নেমে এসেছে। ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিষবাষ্প থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে এবং জেলাকে একটি মাদকমুক্ত নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশের চলমান এই বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযান ৩২২ পিস ইয়াবা ও ১৯ বোতল কোরেক্সসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক।

Update Time : ১০:১৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহ জেলার মাদকবিরোধী লড়াইয়ে বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জীবন মন্ডল (৩২) এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুজন আহমেদকে (২৫) বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।

​আজ শনিবার (৬ জুন) দুপুরে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাপাড়া (বালিয়াডাঙ্গা) এলাকায় এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৩২২ পিস ইয়াবা এবং ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ১৯ বোতল কোরেক্স উদ্ধার করা হয়েছে।

​​জীবন মন্ডল (৩২): কালীগঞ্জ থানার বানুরিয়া গ্রামের মৃত ইলাহী মন্ডলের ছেলে। তিনি পুলিশের নথিতে একজন তালিকাভুক্ত ও পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

​সুজন আহমেদ (২৫): বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আলতাফ মন্ডলের ছেলে এবং জীবনের অন্যতম সহযোগী।

​​কালীগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুজন আহমেদের বাড়িতে মাদকদ্রব্যের একটি বড় চালান কেনাবেচা হচ্ছে—এমন একটি গোপন ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পায় পুলিশ। এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কালীগঞ্জ থানার একটি চৌকস দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি মাদক কারবারিদের। ধাওয়া করে তাদের আটক করার পর তল্লাশি চালিয়ে ৩২২ পিস ইয়াবা এবং ১৯ বোতল নিষিদ্ধ কোরেক্স উদ্ধার করা হয়।

​​গ্রেফতারকৃত জীবন মন্ডলের বিষয়ে পুলিশ জানায়, সে অত্যন্ত ধূর্ত এবং পেশাদার মাদক কারবারি। ঝিনাইদহসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে সে বিভিন্ন সময় কৌশলে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।

​কালীগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারকৃতদের থানায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’-এ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

​পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে স্থানীয় সচেতন মহলে স্বস্তি নেমে এসেছে। ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিষবাষ্প থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে এবং জেলাকে একটি মাদকমুক্ত নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশের চলমান এই বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে