কেশবপুরে ইউএনওর নাম ভাঙিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
- Update Time : ১০:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / ২০ Time View

যশোরের কেশবপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম ব্যবহার করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুর বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেলে কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী মো. তাসের আলী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাসের আলী জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে হাজী জমশের খান ওয়াকফ এস্টেটের যুগ্ম অফিসিয়াল মোতাওয়াল্লী আসাদুজ্জামান খান, ইকরামুছ সালাম খান ও পারভেজ হাসান খানের কাছ থেকে অগ্রিম জামানতের ভিত্তিতে মাসিক ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে ট্রাক টার্মিনালের উত্তর পাশে ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তিতে একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ শুরু করেন। তিনি জানান, ঘরটির ইটের গাঁথুনির কাজ সম্পন্ন হওয়ার প্রায় দুই মাস পর ছাউনির কাজ শুরু করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তাসের আলীর অভিযোগ, এরপর মধ্যকুল গ্রামের মৃত আব্দুল করিম খানের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু তাকে ডেকে বলেন, তিনিই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দিয়ে কাজ বন্ধ করিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে বর্তমান মোতাওয়াল্লীদের কোনো ক্ষমতা নেই এবং ভবিষ্যতে ভাড়ার অর্থ তাদের কাছে না দিয়ে অন্যত্র দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তাসের আলী আরও অভিযোগ করেন, ঘর নির্মাণের কাজ পুনরায় চালু করার জন্য তিনি ডাবলুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোরবানির ঈদের আগের শনিবার ডাবলু ইউএনওর কাছ থেকে অনুমতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। ডাবলুর কথামতো তিনি ছাউনির কাজও শুরু করেন। কিন্তু দাবিকৃত অর্থ প্রদান না করায় তার কাজে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অর্থ না দেওয়ার কারণে তার আপন দুই ভাই—কেশবপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোড়লের নাম জড়িয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, যা তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
তাসের আলী দাবি করেন, উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক হিসেবে পরিচয় ব্যবহার করে ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু দল ও প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। এতে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তাসের আলীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার দুই ভাই নজরুল ইসলাম ও আবুল কাশেম মোড়লসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা টাকা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে ঘর নির্মাণের অনুমতি না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কারও কাছে টাকা দাবি করা বা এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।





















