০২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন: ৩৩৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে চীন।

মো: রাজু আহমেদ ( স্টাফ রিপোর্টার)
  • Update Time : ১২:৫২:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / ৪ Time View

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন: ৩৩৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে চীন।

মো: রাজু আহমেদ ( স্টাফ রিপোর্টার)

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর মোংলাকে আন্তর্জাতিক মানের একটি অত্যাধুনিক বন্দরে রূপান্তর করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দরটির আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার জন্য চীনা সরকার বাংলাদেশকে ৩৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) ঋণ দিচ্ছে। চলতি মাসেই এই বহুল প্রতিক্ষীত ঋণচুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

​এই বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বন্দরে ৩৬৮ মিটার দীর্ঘ দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি তৈরি হবে বিশাল আকারের কন্টেইনার ইয়ার্ড, যার মধ্যে ৮৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটারের লোডেড ইয়ার্ড, ৩৪ হাজার ১৭০ বর্গমিটারের খালি কন্টেইনার ইয়ার্ড এবং ৪ হাজার ২৬০ বর্গমিটারের একটি বিশেষ বিপজ্জনক পণ্য ব্যবস্থাপনা ইয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জেটিগুলোর কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন ও সাতটি রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ ৩৩ ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে এই প্রকল্পে।

​’মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ শিরোনামের ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে একনেক সভায় অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে মার্চের শেষ দিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যদিও চীনা ঋণের অনুমোদন প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের চীন সফরের পর এই প্রক্রিয়ায় দ্রুত গতি ফিরে আসে।

​ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, এই নতুন কন্টেইনার জেটিগুলো চালু হলে বন্দর দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া যেমন সহজ হবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যে নতুন নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা গড়ে তোলা হচ্ছে, সেগুলোর পণ্য সরাসরি মোংলা বন্দর ব্যবহার করে বিদেশে পাঠানো সম্ভব হবে। ফলে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরো মোংলা বন্দরের সক্ষমতা এবং দেশের অর্থনীতি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন: ৩৩৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে চীন।

Update Time : ১২:৫২:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন: ৩৩৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে চীন।

মো: রাজু আহমেদ ( স্টাফ রিপোর্টার)

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর মোংলাকে আন্তর্জাতিক মানের একটি অত্যাধুনিক বন্দরে রূপান্তর করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দরটির আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার জন্য চীনা সরকার বাংলাদেশকে ৩৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) ঋণ দিচ্ছে। চলতি মাসেই এই বহুল প্রতিক্ষীত ঋণচুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

​এই বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বন্দরে ৩৬৮ মিটার দীর্ঘ দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি তৈরি হবে বিশাল আকারের কন্টেইনার ইয়ার্ড, যার মধ্যে ৮৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটারের লোডেড ইয়ার্ড, ৩৪ হাজার ১৭০ বর্গমিটারের খালি কন্টেইনার ইয়ার্ড এবং ৪ হাজার ২৬০ বর্গমিটারের একটি বিশেষ বিপজ্জনক পণ্য ব্যবস্থাপনা ইয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জেটিগুলোর কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন ও সাতটি রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ ৩৩ ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে এই প্রকল্পে।

​’মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ শিরোনামের ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে একনেক সভায় অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে মার্চের শেষ দিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যদিও চীনা ঋণের অনুমোদন প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের চীন সফরের পর এই প্রক্রিয়ায় দ্রুত গতি ফিরে আসে।

​ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, এই নতুন কন্টেইনার জেটিগুলো চালু হলে বন্দর দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া যেমন সহজ হবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যে নতুন নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা গড়ে তোলা হচ্ছে, সেগুলোর পণ্য সরাসরি মোংলা বন্দর ব্যবহার করে বিদেশে পাঠানো সম্ভব হবে। ফলে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরো মোংলা বন্দরের সক্ষমতা এবং দেশের অর্থনীতি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।