জলবায়ু সহনশীলতায় মোংলায় ব্র্যাকের ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ।
- Update Time : ০৪:৪৩:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- / ৭ Time View

মো: রাজু আহমেদ ( স্টাফ রিপোর্টার)
উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে মোংলায় চারা বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্র্যাকের ‘ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রাম’ (সিইআইপি)-এর আওতাধীন ‘রেইন ফর লাইফ’ প্রকল্পের অধীনে বসতবাড়িতে গাছ লাগানোর কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। রয়্যাল ড্যানিশ দূতাবাসের অর্থায়নে পরিচালিত এই আয়োজনটি ২৭ জুলাই সোমবার দুপুরে ব্রাম্মণমেঠ জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুর ১টায় আয়োজিত চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক প্রকল্পের অপারেশন ম্যানেজার প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার হাওলাদার এবং ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় নেতা মো. নূর আলম শেখ। এছাড়া অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের কর্মকর্তা তৃপ্তি সরদার, রাশেদ খান, মাসুম মিয়া সহ স্থানীয় যুব নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী বলেন, মোংলা একটি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এখানকার বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হয়। সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা সরকারি ও বেসরকারি যৌথ অংশগ্রহণের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি ব্র্যাকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে চারা রোপণের পাশাপাশি সেগুলোর সুরক্ষা ও পরিচর্যায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার হাওলাদার উল্লেখ করেন, উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ত মাটিতে সব ধরণের গাছ সহজে বেঁচে থাকতে পারে না। তবে সফেদা, কদবেল ও মেহগনি এখানকার পরিবেশের জন্য বেশ উপযুক্ত। সঠিক পদ্ধতিতে চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যা করলে এগুলো দ্রুত বেড়ে উঠবে জানিয়ে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
উল্লেখযোগ্য যে, এই প্রকল্পের অধীনে ব্র্যাক মোংলার চাঁদপাই, চিলা, মিঠাখালী ও সোনাইলতলা ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার সফেদা, কদবেল ও মেহগনি গাছের চারা বিতরণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচালিত এই কার্যক্রম উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

























