কোটচাঁদপুরে সিঙ্গাপুর প্রবাসীর ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ: চক্রান্তের পর ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ।
- Update Time : ১০:০১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক.বাবলু মিয়া-:
সিঙ্গাপুরে উচ্চ বেতনে চাকরি ও পরবর্তীতে জমানো টাকা ব্যবসায় খাটানোর কথা বলে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং প্রতারণার অভিযোগে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর আদালতে দায়েরকৃত সি.আর মামলায় (নং-২৯৫/২০২৫) চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। তবে মামলা থেকে রেহাই পেতে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারিকুল ইসলামকে (৩৫) ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চক্রান্তের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে। (১৪ সেপ্টেম্বর)বেলা ১২টা ৩০ মিনিটের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
কোটচাঁদপুর উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মোঃ আঃ মান্নানের ছেলে মোঃ তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দুই ভাই—মোঃ রিকু বিশ্বাস ও মোঃ জিকু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। বিপি-৯৩২৩২৪৬২৯৯ পিএসআই (নিরস্ত্র) কাজী আল আমিনের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়:
জিকু বিশ্বাসের প্রস্তাবে তাঁর ভাই রিকু বিশ্বাসের মালিকানাধীন ‘আর টি জে এইচ’ কোম্পানিতে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা বেতনের আশ্বাসে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই সিঙ্গাপুর যান তরিকুল।
২০২৪ সালের ১ জুনে সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে রিকু বিশ্বাস ৬ মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার শর্তে বাদীর গচ্ছিত ২৫ লাখ টাকা ধার নেন। টাকা না দিয়ে হুমকি প্রদর্শন শেষে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিলে বাদীর ওয়ার্ক পারমিট ব্লক করে তাঁকে দেশে ফিরতে বাধ্য করেন।
২০২৫ সালের জুনে রিকু দেশে এলে ৮ জুন গুড়পাড়া বাজারে ৩০-৪০ মানুষের উপস্থিতিতে সালিশে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। কিন্তু স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের সময় চতুরতার সঙ্গে পালিয়ে তিনি পুনরায় সিঙ্গাপুর চলে যান।
পিএসআই কাজী আল আমিন জানান, ১ নম্বর আসামী রিকু বিশ্বাসের (৩৫) বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৫০৬(২) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তবে লেনদেনের মূল প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত না থাকায় ২ নম্বর আসামী জিকু বিশ্বাসকে (৪২) অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
চার্জশিট দাখিলের পর মামলা থেকে রেহাই পেতে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে গুড়পাড়া বাজারে তারিকুলকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগী তারিকুল ইসলাম জানান, “মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বাজারে আসি। বাইকটি গুড়পাড়া বাজার জামে মসজিদের গেটে রেখে মোঃ টিপু হোসেনের দোকানে বসে গল্প করছিলাম। হঠাৎ গুড়পাড়া ফাঁড়ির আইসি মোঃ রেজাউল করিম ও টু আইসি মোঃ ইমরান এসে আমার শরীরে তল্লাশি চালান। এরপর বাইকের সিট খুলতে বললে দেখা যায় সিটের ভেতর কে বা কারা ৭ পিস ইয়াবা ঢুকিয়ে রেখেছে। সাথে সাথে ফাঁড়ির আইসি আমার হাতে হাতকড়া পরান।”
ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে তিন গ্রামের শত শত মানুষ ফাঁড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ রাসেল হোসেন ও হোটেল মালিক মোঃ ইউনুস আলী বলেন, “তরিকুল অত্যন্ত ভালো ছেলে, বিড়ি-সিগারেটও খায় না। ২৫ লাখ টাকার মামলা থেকে বাঁচতেই জিকু বিশ্বাস ও তার লোকজন চক্রান্ত করে বাইকে ইয়াবা ঢুকিয়ে সোর্সের মাধ্যমে ওকে ফাঁসাতে চেয়েছিল।”
মোঃ মেহেদী হাসান (অফিসার ইনচার্জ, কোটচাঁদপুর মডেল থানা):
”বিষয়টি শোনামাত্রই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি ও প্রাথমিক তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তরিকুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।”
মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান (পুলিশ সুপার, ঝিনাইদহ জেলা):”আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো বা মিথ্যা মামলায় কোনো নিরপরাধ মানুষকে চক্রান্ত করে ফাঁসানোর সুযোগ নেই। যদি সোর্স ব্যবহার করে বা চক্রান্ত করে মোটরসাইকেলের সিটে ইয়াবা রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে নেপথ্যের জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মোঃ জিকু বিশ্বাস (মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে ও মূল চক্রান্তের অভিযুক্ত”আমার ভাই রিকু বিশ্বাসের সঙ্গে তরিকুলের কী লেনদেন তা তারা জানে। ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর বিষয়ে আমি বা আমার পরিবারের কেউ কিছুই জানি না। আমাদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক।”
মোঃ ইমরান হোসেন (টু আইসি, গুড়পাড়া ফাঁড়ি):”আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়েছিলাম। তবে স্থানীয় জনগণের বক্তব্য এবং সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” (উল্লেখ্য, আইসি মোঃ রেজাউল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।)
ভুক্তভোগী প্রবাসী তারিকুল ইসলাম নিজের কষ্টে অর্জিত ২৫ লাখ টাকা ফেরত পেতে এবং তাঁকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর মাস্টারমাইন্ডদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির জন্য প্রশাসনের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
























