০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদা দাবির অভিযোগ: প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ

Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৯৫ Time View

স্টাফ রিপোর্টার মাসুদুর রহমান

উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, স্বচ্ছতার দাবি চেয়ারম্যানের

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ২নং রানীশিমুল পাইলট ইউনিয়নের একটি উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি ও অপপ্রচারের অভিযোগের বিষয়ে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হামিদ সোহাগ। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার হাতীবর গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান সোহাগ বলেন, ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে নুর ইসলামের বাড়ি থেকে টুরু মহনের বাড়ি পর্যন্ত কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ৮ লাখ ২ হাজার ১০৫ টাকা ব্যয়ে ৭৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থের ইটের এজিংসহ গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ কাজ সরকার নির্ধারিত সকল নিয়ম-কানুন মেনে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার নির্মাণ কাজ চলাকালে খাইরুল ইসলাম ও তানভীর নামের দুই ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ঘটনাস্থলে এসে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তারা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখতে বলেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন।

চেয়ারম্যান আরও জানান, একপর্যায়ে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং শারীরিকভাবে আক্রমণের চেষ্টা চালান। এতে উপস্থিত শ্রমিক ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জনতা তানভীরকে আটক করতে সক্ষম হলেও খাইরুল ইসলাম পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ঘটনার সার্বিক পর্যালোচনা শেষে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তানভীরকে তার বাবার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয় বলেও জানান তিনি।

চেয়ারম্যান সোহাগ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছেন। চাঁদাবাজিতে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “এই উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। কাজ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উন্নয়ন কাজে বাধা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমি অতীতেও ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, প্রকৃত সত্য যাচাই করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার এবং কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার।

এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

চাঁদা দাবির অভিযোগ: প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ

Update Time : ১২:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার মাসুদুর রহমান

উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, স্বচ্ছতার দাবি চেয়ারম্যানের

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ২নং রানীশিমুল পাইলট ইউনিয়নের একটি উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি ও অপপ্রচারের অভিযোগের বিষয়ে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হামিদ সোহাগ। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার হাতীবর গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান সোহাগ বলেন, ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে নুর ইসলামের বাড়ি থেকে টুরু মহনের বাড়ি পর্যন্ত কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ৮ লাখ ২ হাজার ১০৫ টাকা ব্যয়ে ৭৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থের ইটের এজিংসহ গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ কাজ সরকার নির্ধারিত সকল নিয়ম-কানুন মেনে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার নির্মাণ কাজ চলাকালে খাইরুল ইসলাম ও তানভীর নামের দুই ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ঘটনাস্থলে এসে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তারা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখতে বলেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন।

চেয়ারম্যান আরও জানান, একপর্যায়ে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং শারীরিকভাবে আক্রমণের চেষ্টা চালান। এতে উপস্থিত শ্রমিক ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জনতা তানভীরকে আটক করতে সক্ষম হলেও খাইরুল ইসলাম পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ঘটনার সার্বিক পর্যালোচনা শেষে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তানভীরকে তার বাবার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয় বলেও জানান তিনি।

চেয়ারম্যান সোহাগ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছেন। চাঁদাবাজিতে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “এই উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। কাজ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উন্নয়ন কাজে বাধা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমি অতীতেও ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, প্রকৃত সত্য যাচাই করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার এবং কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার।

এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।