০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুমকিতে শিক্ষকদের অবহেলায় শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের মারধরে শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

মোঃ আরিফুর রহমান (মামুন)
  • Update Time : ০১:১৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৭ Time View

 

 

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা ও চরম অবহেলার কারণে শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের হাতে মোঃ রফি নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দুমকি আপতুননেছা খাতুন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্কুল চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
​আহত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেঃ রাফি দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষেই জিহাদ, রাজন,সাহাদ, আল-আমীন, মেহেদী, তামিম, নুরনবী, মোডা তামিমসহ আট জন সহপাঠী নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ভুক্তভোগী রাফি জানায়, “তারা ক্লাসে বসে আমাকে লম্বু, উপজাতি এবং কলম দিয়ে খোঁচা দেয় এবং মাঝে মাঝে গলা টিপে ধরে। আমি বারবার স্যারদের জানালেও তারা কোনো বিচার বা ব্যবস্থা নেননি। সোমবারও ক্লাসে বসে তারা একইভাবে আমার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে।”
​অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর আহত রাফিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে স্কুলের পিয়ন নজরুল লাইব্রেরিতে নিয়ে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন এবং তার মাকে খবর দেন।
​রাফির মা মোসাঃ সুমি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ছেলেটা একটু সহজ-সরল, তাই স্কুলে ওর ওপর অত্যাচার হলেও বাড়িতে এসে কিছু বলত না। বিদ্যালয় থেকে ফোন পেয়ে গিয়ে দেখি আমার ছেলেকে পিয়োনের রুমে বসিয়ে রাখা হয়েছে, ওর পুরো শরীরে মারধরের চিহ্ন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। শিক্ষকরা যদি একটু সচেতন ও দায়িত্বশীল হতেন, তবে আজ আমার সন্তানের এই পরিণতি হতো না।”
​এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকদের তদারকির চরম অভাব রয়েছে। স্কুল চলাকালীন কিংবা টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা ভবনের ছাদ থেকে শুরু করে বাইরের অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লেও শিক্ষকরা সেদিকে কোনো খেয়াল রাখেন না।
​ঘটনার বিষয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা হেপি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এবং বলেন অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে লম্বু, উপজাতি বলে উত্ত্যক্ত করে। শিক্ষার্থীরা ইস্কুলে পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বলেন ৯০ দশক থেকে এভাবে এভাবে চলে আসছে তারপর ফোন কেটে দেয়।

​এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই । বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং শিক্ষকদের অবহেলার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

দুমকিতে শিক্ষকদের অবহেলায় শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের মারধরে শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

Update Time : ০১:১৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা ও চরম অবহেলার কারণে শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের হাতে মোঃ রফি নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দুমকি আপতুননেছা খাতুন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্কুল চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
​আহত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেঃ রাফি দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষেই জিহাদ, রাজন,সাহাদ, আল-আমীন, মেহেদী, তামিম, নুরনবী, মোডা তামিমসহ আট জন সহপাঠী নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ভুক্তভোগী রাফি জানায়, “তারা ক্লাসে বসে আমাকে লম্বু, উপজাতি এবং কলম দিয়ে খোঁচা দেয় এবং মাঝে মাঝে গলা টিপে ধরে। আমি বারবার স্যারদের জানালেও তারা কোনো বিচার বা ব্যবস্থা নেননি। সোমবারও ক্লাসে বসে তারা একইভাবে আমার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে।”
​অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর আহত রাফিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে স্কুলের পিয়ন নজরুল লাইব্রেরিতে নিয়ে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন এবং তার মাকে খবর দেন।
​রাফির মা মোসাঃ সুমি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ছেলেটা একটু সহজ-সরল, তাই স্কুলে ওর ওপর অত্যাচার হলেও বাড়িতে এসে কিছু বলত না। বিদ্যালয় থেকে ফোন পেয়ে গিয়ে দেখি আমার ছেলেকে পিয়োনের রুমে বসিয়ে রাখা হয়েছে, ওর পুরো শরীরে মারধরের চিহ্ন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। শিক্ষকরা যদি একটু সচেতন ও দায়িত্বশীল হতেন, তবে আজ আমার সন্তানের এই পরিণতি হতো না।”
​এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকদের তদারকির চরম অভাব রয়েছে। স্কুল চলাকালীন কিংবা টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা ভবনের ছাদ থেকে শুরু করে বাইরের অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লেও শিক্ষকরা সেদিকে কোনো খেয়াল রাখেন না।
​ঘটনার বিষয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা হেপি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এবং বলেন অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে লম্বু, উপজাতি বলে উত্ত্যক্ত করে। শিক্ষার্থীরা ইস্কুলে পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বলেন ৯০ দশক থেকে এভাবে এভাবে চলে আসছে তারপর ফোন কেটে দেয়।

​এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই । বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং শিক্ষকদের অবহেলার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে ।