০১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের উত্তাপে যেন পুড়ে না যায় আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৯২ Time View

নাঈম ইসলাম :- গাইবান্ধা সংবাদদাতা,

সামনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আমাদের জন্য যেমন উৎসবের, তেমনি এটি কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকির বার্তাও বহন করে। বিশেষ করে এই সময়টাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে আমাদের কোমলমতি সন্তানরা।

ইতিহাস বলে, নির্বাচন এলেই কিছু অসাধু চক্র ও রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কিশোর–তরুণদের ব্যবহার করার চেষ্টা করে। আবেগী স্লোগান, মিথ্যা প্রলোভন কিংবা “দেশ বাঁচানোর” আহ্বানে রাজপথে নামার ডাক দিয়ে সন্তানদের ঠেলে দেওয়া হয় বিপদের দিকে। অথচ তারা বুঝতেই পারে না—একটি ভুল সিদ্ধান্ত তাদের জীবন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎকে কতটা অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সারা দেশে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছে। ফলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়লে কিশোর বা তরুণদের গ্রেপ্তার, মামলা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এর ক্ষত শুধু সেই সন্তানের ওপরই নয়, পুরো পরিবারের ওপর পড়ে।

এই বাস্তবতায় একজন সচেতন অভিভাবকের ভূমিকা অপরিসীম। আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে—এসব বিষয়ে খোঁজ রাখা এখন শুধু দায়িত্ব নয়, বরং সময়ের দাবি। সন্তানকে ভয় দেখিয়ে নয়, যুক্তি ও ভালোবাসা দিয়ে বোঝাতে হবে—তার ভবিষ্যৎই আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

আজ প্রয়োজন ঘরে ঘরে সচেতনতার আলো জ্বালানো। রাজনীতি বোঝার বয়স আসবে, মত প্রকাশের অধিকার সে অবশ্যই পাবে—কিন্তু তার আগে নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আমরা প্রত্যাশা করি—
অভিভাবকরা আরও দায়িত্বশীল হবেন,
প্রশাসন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে,
এবং সর্বোপরি, আমরা সবাই মিলে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করব, যেখানে কোনো সন্তানের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে না।

কারণ সচেতনতাই পারে দুর্ঘটনা রোধ করতে।
আসুন, এই নির্বাচনী সময়ে আমরা সবাই মিলে দায়িত্বশীল হই—সন্তানের জন্য, দেশের ভবিষ্যতের জন্য।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নির্বাচনের উত্তাপে যেন পুড়ে না যায় আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ

Update Time : ০১:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

নাঈম ইসলাম :- গাইবান্ধা সংবাদদাতা,

সামনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আমাদের জন্য যেমন উৎসবের, তেমনি এটি কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকির বার্তাও বহন করে। বিশেষ করে এই সময়টাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে আমাদের কোমলমতি সন্তানরা।

ইতিহাস বলে, নির্বাচন এলেই কিছু অসাধু চক্র ও রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কিশোর–তরুণদের ব্যবহার করার চেষ্টা করে। আবেগী স্লোগান, মিথ্যা প্রলোভন কিংবা “দেশ বাঁচানোর” আহ্বানে রাজপথে নামার ডাক দিয়ে সন্তানদের ঠেলে দেওয়া হয় বিপদের দিকে। অথচ তারা বুঝতেই পারে না—একটি ভুল সিদ্ধান্ত তাদের জীবন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎকে কতটা অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সারা দেশে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছে। ফলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়লে কিশোর বা তরুণদের গ্রেপ্তার, মামলা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এর ক্ষত শুধু সেই সন্তানের ওপরই নয়, পুরো পরিবারের ওপর পড়ে।

এই বাস্তবতায় একজন সচেতন অভিভাবকের ভূমিকা অপরিসীম। আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে—এসব বিষয়ে খোঁজ রাখা এখন শুধু দায়িত্ব নয়, বরং সময়ের দাবি। সন্তানকে ভয় দেখিয়ে নয়, যুক্তি ও ভালোবাসা দিয়ে বোঝাতে হবে—তার ভবিষ্যৎই আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

আজ প্রয়োজন ঘরে ঘরে সচেতনতার আলো জ্বালানো। রাজনীতি বোঝার বয়স আসবে, মত প্রকাশের অধিকার সে অবশ্যই পাবে—কিন্তু তার আগে নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আমরা প্রত্যাশা করি—
অভিভাবকরা আরও দায়িত্বশীল হবেন,
প্রশাসন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে,
এবং সর্বোপরি, আমরা সবাই মিলে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করব, যেখানে কোনো সন্তানের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে না।

কারণ সচেতনতাই পারে দুর্ঘটনা রোধ করতে।
আসুন, এই নির্বাচনী সময়ে আমরা সবাই মিলে দায়িত্বশীল হই—সন্তানের জন্য, দেশের ভবিষ্যতের জন্য।