০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় শহীদ জিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান

Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৩ Time View

 

সোহেল রানা, খুলনা ব্যুরো:

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামানকে স্বপদে বহালের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ড বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান অবসরে যাওয়ার পর ম্যানেজিং কমিটি বোর্ডের নির্দেশনা ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি তৎকালীন সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মনিরুজ্জামানকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়। তবে নিয়োগের পর তার যোগদানে বাধা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এ অবস্থায় মনিরুজ্জামান ২০১৯ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৮৩৫৫/২০১৯। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায় তার পক্ষে গেলে এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল করা হয়, যার নম্বর ৩০২০/২০১৯। শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এরপর বিষয়টি নিয়ে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়, যার নম্বর ১৬১/২০২১। গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট রিভিউ পিটিশনটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডকে মনিরুজ্জামানকে তার স্বপদে বহালের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর গত ১১ আগস্ট প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান স্বপদে যোগদানের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ আগস্ট যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক মুঃ এনামুল কবীর স্বাক্ষরিত ৬/৩৭২৪/২৫৮ নম্বর স্মারকে বিদ্যালয়ের সভাপতিকে মনিরুজ্জামানকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই চিঠির অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ; মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশের খবর পাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জলী রানী শীল বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে অঞ্জলী রানী শীলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিনের এই বিরোধের কারণে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা আদালতের আদেশ ও শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

পাইকগাছায় শহীদ জিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান

Update Time : ০১:২৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

 

সোহেল রানা, খুলনা ব্যুরো:

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামানকে স্বপদে বহালের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ড বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান অবসরে যাওয়ার পর ম্যানেজিং কমিটি বোর্ডের নির্দেশনা ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি তৎকালীন সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মনিরুজ্জামানকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়। তবে নিয়োগের পর তার যোগদানে বাধা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এ অবস্থায় মনিরুজ্জামান ২০১৯ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৮৩৫৫/২০১৯। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায় তার পক্ষে গেলে এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল করা হয়, যার নম্বর ৩০২০/২০১৯। শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এরপর বিষয়টি নিয়ে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়, যার নম্বর ১৬১/২০২১। গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট রিভিউ পিটিশনটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডকে মনিরুজ্জামানকে তার স্বপদে বহালের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর গত ১১ আগস্ট প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান স্বপদে যোগদানের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ আগস্ট যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক মুঃ এনামুল কবীর স্বাক্ষরিত ৬/৩৭২৪/২৫৮ নম্বর স্মারকে বিদ্যালয়ের সভাপতিকে মনিরুজ্জামানকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই চিঠির অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ; মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশের খবর পাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জলী রানী শীল বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে অঞ্জলী রানী শীলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিনের এই বিরোধের কারণে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা আদালতের আদেশ ও শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।