ফুলবাড়িয়ায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
- Update Time : ০৫:০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৯ Time View

মধ্যরাতে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আটক—হুমকি দিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার দাবি, নীরব কেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মাসুদ সরকারের বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ওই নারী ও ইউপি সদস্যকে স্থানীয়রা আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দুজনকে একটি ঘরে আটকে রেখে বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় নেতাদের জানান বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি—এমন দাবি স্থানীয়দের।
‘ছাড়িয়ে না দিলে ক্ষতি করার’ হুমকির অভিযোগ
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের পর ইউপি সদস্য মাসুদ সরকার উপস্থিত লোকজনকে ভয়ভীতি দেখান। তাকে ছেড়ে না দিলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি কেউ ঘটনার কথা প্রকাশ্যে অস্বীকার করলে তাদের মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি।
তবে এসব অভিযোগের কোনো অডিও, ভিডিও বা লিখিত প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও প্রয়োজন।
বাইরে থেকে লোক এসে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
এলাকাবাসীর দাবি, একপর্যায়ে বাইরে থেকে কয়েকজন লোক ঘটনাস্থলে এসে ইউপি সদস্যকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। এরপর ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আর সামনে এগোয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলো না কেন? অভিযোগ সত্য হলে কেন তদন্ত হলো না, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে কেন তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা হলো না?
আগেও একই ধরনের অভিযোগ?
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে ইউপি সদস্যের আগেও একাধিকবার সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল। এর আগে স্থানীয়রা তাদের আটকের চেষ্টা করলেও ইউপি সদস্য ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে সক্ষম হন বলেও দাবি করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তারা করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের কোনোটি আদালত বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা কি আইনের ঊর্ধ্বে?
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে জনপ্রতিনিধির প্রভাব নিয়ে।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার পদমর্যাদা বা রাজনৈতিক পরিচয় তদন্তের পথে বাধা হতে পারে না। বরং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে সাধারণ মানুষ অনেক সময় ভয় পেয়ে মুখ খুলতে পারেন না। ফলে কোনো ঘটনা চাপা পড়ে গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযোগ আবারও উঠতে পারে।
তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের দাবি—
১৯ সেপ্টেম্বর রাতের ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন;
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ;
কথিত হুমকি ও অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবের অভিযোগ তদন্ত;
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা পূর্বের অভিযোগগুলো যাচাই;
মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্ত;
এবং কেউ অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ।
তারা আরও বলছেন, কোনো ব্যক্তিকে সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আইনের বাইরে রাখা উচিত নয়।
অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ সরকারের বক্তব্য কী?
অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. মাসুদ সরকারের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা প্রয়োজন। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত যৌন সম্পর্ক, হুমকি, অর্থের প্রস্তাব, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও পূর্বের ঘটনার বিষয়গুলো স্থানীয়দের অভিযোগ ও দাবির ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে; এগুলো আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।






















