১২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে ফের বড় ধরনের সাফল্য: এবার আত্মসমর্পণ করল নানা ভাই বাহিনীর ১২ ডাকাত

Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫ Time View

 

মো: রাজু আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার)

​সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের টানা অভিযানে কোণঠাসা হয়ে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছে কুখ্যাত ‘নানা ভাই বাহিনী’র প্রধানসহ ১২ জন সদস্য। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতের নেতৃত্বে এই ১২ ডাকাত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ বেছে নিয়েছে।

​উদ্ধার করা অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে পিস্তল, এয়ার গান, সিক্স ও ফোর শুটারসহ দেশি-বিদেশি মোট ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, প্রায় সাতশ রাউন্ড বিভিন্ন ধরণের তাজা ও ফাঁকা গুলি, ৬টি ওয়াকিটকি এবং চার্জার। আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের বেশিরভাগই খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের জলসীমায় ডাকাতি এবং সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে আতঙ্কের সৃষ্টি করে আসছিল।

​কোস্ট গার্ড পরিচালিত “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক দস্যু দল পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। সম্প্রতি ছোট সুমন ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩৭ জন ডাকাত ইতোমধ্যে আত্মসমর্পণ করেছে। পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক এবং জিম্মিদশা থেকে ৪২ জন সাধারণ মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

​বর্তমানে আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি সহায়তায় তাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের বাকি সক্রিয় দস্যুদের দ্রুত অপরাধের পথ ছেড়ে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সুন্দরবনে ফের বড় ধরনের সাফল্য: এবার আত্মসমর্পণ করল নানা ভাই বাহিনীর ১২ ডাকাত

Update Time : ১২:০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মো: রাজু আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার)

​সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের টানা অভিযানে কোণঠাসা হয়ে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছে কুখ্যাত ‘নানা ভাই বাহিনী’র প্রধানসহ ১২ জন সদস্য। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতের নেতৃত্বে এই ১২ ডাকাত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ বেছে নিয়েছে।

​উদ্ধার করা অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে পিস্তল, এয়ার গান, সিক্স ও ফোর শুটারসহ দেশি-বিদেশি মোট ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, প্রায় সাতশ রাউন্ড বিভিন্ন ধরণের তাজা ও ফাঁকা গুলি, ৬টি ওয়াকিটকি এবং চার্জার। আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের বেশিরভাগই খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের জলসীমায় ডাকাতি এবং সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে আতঙ্কের সৃষ্টি করে আসছিল।

​কোস্ট গার্ড পরিচালিত “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক দস্যু দল পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। সম্প্রতি ছোট সুমন ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩৭ জন ডাকাত ইতোমধ্যে আত্মসমর্পণ করেছে। পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক এবং জিম্মিদশা থেকে ৪২ জন সাধারণ মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

​বর্তমানে আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি সহায়তায় তাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের বাকি সক্রিয় দস্যুদের দ্রুত অপরাধের পথ ছেড়ে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।