০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জেনে নিন রক্ত দানের কিছু উপকার

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ৮৭ Time View

 

রাকিব  আলী

 

আপনার এক ফোঁটা রক্ত দান,

বাঁচবে একটি তাজা প্রাণ।

রক্তদান হল কোন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় রক্ত দেবার প্রক্রিয়া। নানা অসুখ-বিসুখ কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে অনেকেরই রক্তের প্রয়োজন হয়। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আছে যারা পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে বিশুদ্ধ রক্ত সংগ্রহ করে যাদের প্রয়োজন তাদের দান করে।

রেড ক্রস সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, মানবদেহে লোহিত রক্তকণিকা সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস থাকে। এ কারণে ৩ মাস আগের সঙ্গে বর্তমানের লোহিতকণিকা এক হবে না। রক্তদান করলেই শরীরে রক্তের ঘাটতি দেখা দেবে এমন ভাবা ঠিক নয়। বরং রক্তদান করলে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত উপকারিতা পাওয়া যায়। যেমন-

রক্তদানের প্রথম এবং প্রধান কারণ, একজনের দানকৃত রক্ত আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাবে।

রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রক্তদান করার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের মধ্যে অবস্থিত ‘বোন ম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয় এবং রক্তদানের ২ সপ্তাহের মধ্যে নতুন রক্তকণিকার জন্ম হয়ে ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। বছরে ৩ বার রক্তদান আপনার শরীরে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলার সাথে সাথে নতুন কণিকা তৈরির হার বাড়িয়ে দেয়। উল্লেখ্য রক্তদান করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দেহে রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়।

নিয়মিত রক্তদান করলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

যারা বছরে দুই বার রক্ত দেয়, অন্যদের তুলনায় তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। বিশেষ করে ফুসফুস, লিভার, কোলন, পাকস্থলী ও গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি নিয়মিত রক্তদাতাদের ক্ষেত্রে অনেক কম পরিলক্ষিত হয়েছে। চার বছর ধরে ১২০০ লোকের ওপর এ গবেষণা চালানো হয়েছিলো।

নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে নিজের শরীরে বড় কোনো রোগ আছে কিনা তা বিনা খরচে জানা যায়। যেমন: হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) ইত্যাদি।

প্রতি একবার রক্ত দিলে ৬৫০ ক্যালরি করে শক্তি খরচ হয়। অর্থাৎ ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রক্তদান ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত পুণ্যের বা সওয়াবের কাজ। একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সমগ্র মানব জাতির জীবন বাঁচানোর মতো মহান কাজ। পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩২ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, ‘একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সমগ্র মানব জাতির জীবন বাঁচানোর মতো মহান কাজ।’

আরো কিছু উপকার

অপরকে রক্ত দেওয়ার মাধ্যমে আপনি বহু মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারেন। এই অনুভূতি অনন্য। এটি আপনার মনকেও প্রশান্তি দেবে।

নিয়মিত রক্তদানে অভ্যস্ত মানুষের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, হার্টের রোগের ঝুঁকি কমে।

রক্তদানের পদ্ধতির মধ্য দিয়ে গেলে আপনার শরীরে যদি কোনো অপ্রত্যাশিত রোগ থাকে; যেমন আয়রনের ঘাটতি, হেপাটাইটিস, ম্যালেরিয়া, এইচআইভি, সিফিলিস, তা জানতে পারবেন।

বিশেষ কিছু রক্তদান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোগীর প্লাটিলেট সংগ্রহের সময় প্লাটিলেট কাউন্টও জানা যায়।

আগে থেকে উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে নিয়মিত রক্তদানে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়।

সূত্রঃ চিকিৎসা শাস্ত্র বই পুস্তক

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

জেনে নিন রক্ত দানের কিছু উপকার

Update Time : ০৭:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

রাকিব  আলী

 

আপনার এক ফোঁটা রক্ত দান,

বাঁচবে একটি তাজা প্রাণ।

রক্তদান হল কোন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় রক্ত দেবার প্রক্রিয়া। নানা অসুখ-বিসুখ কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে অনেকেরই রক্তের প্রয়োজন হয়। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আছে যারা পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে বিশুদ্ধ রক্ত সংগ্রহ করে যাদের প্রয়োজন তাদের দান করে।

রেড ক্রস সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, মানবদেহে লোহিত রক্তকণিকা সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস থাকে। এ কারণে ৩ মাস আগের সঙ্গে বর্তমানের লোহিতকণিকা এক হবে না। রক্তদান করলেই শরীরে রক্তের ঘাটতি দেখা দেবে এমন ভাবা ঠিক নয়। বরং রক্তদান করলে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত উপকারিতা পাওয়া যায়। যেমন-

রক্তদানের প্রথম এবং প্রধান কারণ, একজনের দানকৃত রক্ত আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাবে।

রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রক্তদান করার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের মধ্যে অবস্থিত ‘বোন ম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয় এবং রক্তদানের ২ সপ্তাহের মধ্যে নতুন রক্তকণিকার জন্ম হয়ে ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। বছরে ৩ বার রক্তদান আপনার শরীরে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলার সাথে সাথে নতুন কণিকা তৈরির হার বাড়িয়ে দেয়। উল্লেখ্য রক্তদান করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দেহে রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়।

নিয়মিত রক্তদান করলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

যারা বছরে দুই বার রক্ত দেয়, অন্যদের তুলনায় তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। বিশেষ করে ফুসফুস, লিভার, কোলন, পাকস্থলী ও গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি নিয়মিত রক্তদাতাদের ক্ষেত্রে অনেক কম পরিলক্ষিত হয়েছে। চার বছর ধরে ১২০০ লোকের ওপর এ গবেষণা চালানো হয়েছিলো।

নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে নিজের শরীরে বড় কোনো রোগ আছে কিনা তা বিনা খরচে জানা যায়। যেমন: হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) ইত্যাদি।

প্রতি একবার রক্ত দিলে ৬৫০ ক্যালরি করে শক্তি খরচ হয়। অর্থাৎ ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রক্তদান ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত পুণ্যের বা সওয়াবের কাজ। একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সমগ্র মানব জাতির জীবন বাঁচানোর মতো মহান কাজ। পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩২ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, ‘একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সমগ্র মানব জাতির জীবন বাঁচানোর মতো মহান কাজ।’

আরো কিছু উপকার

অপরকে রক্ত দেওয়ার মাধ্যমে আপনি বহু মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারেন। এই অনুভূতি অনন্য। এটি আপনার মনকেও প্রশান্তি দেবে।

নিয়মিত রক্তদানে অভ্যস্ত মানুষের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, হার্টের রোগের ঝুঁকি কমে।

রক্তদানের পদ্ধতির মধ্য দিয়ে গেলে আপনার শরীরে যদি কোনো অপ্রত্যাশিত রোগ থাকে; যেমন আয়রনের ঘাটতি, হেপাটাইটিস, ম্যালেরিয়া, এইচআইভি, সিফিলিস, তা জানতে পারবেন।

বিশেষ কিছু রক্তদান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোগীর প্লাটিলেট সংগ্রহের সময় প্লাটিলেট কাউন্টও জানা যায়।

আগে থেকে উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে নিয়মিত রক্তদানে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়।

সূত্রঃ চিকিৎসা শাস্ত্র বই পুস্তক