০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁর মহাদেবপুরে ড্রাগন ফল চাষ করে সফল হচ্ছেন প্রন্তিক কৃষক

Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৭:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২২০ Time View

 

উজ্জ্বল কুমার সরকার নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মহাদেবপুরে বিদেশী ফল ড্রাগন চাষ করে সফল হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। অন্যান্য ফসলের চেয়ে ঝুঁকিমুক্ত ও লাভজনক হওয়ায় দিনদিন এ ফল চাষের পরিধি বাড়ছে। কয়েক বছর আগেও ড্রাগন শহরের উচ্চবৃত্ত মানুষের কাছে পরিচিত ছিল। গ্রামের মানুষ বিদেশী এই ফল খাওয়া তো দুরের কথা তারা চিনতেনই না।

এখন এলাকায় চাষ হওয়ায় আস্তে আস্তে সবার কাছেই প্রিয় হয়ে উঠছে এ ফল। টকটকে লাল রং ও সুস্বাদু হওয়ায় শিশুরা এই ফল খুবই পছন্দ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালের দিকে দেশে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু হলেও এর অনেক পরে নওগাঁ জেলায় শুরু হয় ড্রাগনের চাষ।

প্রথমে পোরশা ও সাপাহার উপজেলার দুই একজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন চাষ করে সাফল্য অর্জন করেন। পরে তাদের সাফল্য দেখে অন্যান্য উপজেলাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরাও ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর পরিধি বাড়ছে।

উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের ড্রাগন চাষী মো: আজাদুল হক বলেন, তিনি তিন বিঘা জমিতে ড্রাগন বাগান করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। তার ড্রাগন বাগানে মাত্র ১৬ মাসে ফল আসা শুরু হয়েছে। সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন ড্রাগন বাগান থেকে ফল উঠছে।

তবে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় ড্রাগনের দাম কম। প্রতি কেজি ড্রাগন ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তারপরও এ পরিমাণ জমিতে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার ড্রাগন বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি। অর্থনৈতিকভাবে লাভ হওয়ার পাশাপাশি ড্রাগন বাগানের সৌন্দর্য নয়ন জুড়াচ্ছে এলাকাবাসীর। প্রতিদিনই অনেক মানুষ আসছেন তার ড্রাগন বাগানের সৌন্দর্য দেখতে।

উপজেলা কৃষি অফিসার হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেন, এ এলাকার মাটি ড্রাগন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। জমিতে একবার ড্রাগনের গাছ লাগালে সে গাছ থেকে কয়েক বছর ফল পাওয়া যায় এবং অন্যান্য ফসলের মত তেমন একটা পরিচর্চাও করতে হয়না। একারণে ড্রাগন চাষ বেশ লাভজনক। সারাবছর ড্রাগন পাওয়া গেলেও মে মাস থেকে অক্টোবর মাস পযর্ন্ত ড্রাগনের মৌসুম।

এ সময়ে প্রকৃতির নিয়মে স্বাভাবিকভাবেই ড্রাগন উৎপাদন হয়। অন্য সময় ড্রাগন উৎপাদনের জন্য চাষীরা নানা প্রকার হরমোন ব্যবহার করেন। তাই মৌসুমের সময় উৎপাদিত ড্রাগন বেশি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও খাওয়ার জন্য নিরাপদ বলেও জানান তিনি।
নওগাঁ #

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নওগাঁর মহাদেবপুরে ড্রাগন ফল চাষ করে সফল হচ্ছেন প্রন্তিক কৃষক

Update Time : ০১:০৭:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫

 

উজ্জ্বল কুমার সরকার নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মহাদেবপুরে বিদেশী ফল ড্রাগন চাষ করে সফল হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। অন্যান্য ফসলের চেয়ে ঝুঁকিমুক্ত ও লাভজনক হওয়ায় দিনদিন এ ফল চাষের পরিধি বাড়ছে। কয়েক বছর আগেও ড্রাগন শহরের উচ্চবৃত্ত মানুষের কাছে পরিচিত ছিল। গ্রামের মানুষ বিদেশী এই ফল খাওয়া তো দুরের কথা তারা চিনতেনই না।

এখন এলাকায় চাষ হওয়ায় আস্তে আস্তে সবার কাছেই প্রিয় হয়ে উঠছে এ ফল। টকটকে লাল রং ও সুস্বাদু হওয়ায় শিশুরা এই ফল খুবই পছন্দ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালের দিকে দেশে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু হলেও এর অনেক পরে নওগাঁ জেলায় শুরু হয় ড্রাগনের চাষ।

প্রথমে পোরশা ও সাপাহার উপজেলার দুই একজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন চাষ করে সাফল্য অর্জন করেন। পরে তাদের সাফল্য দেখে অন্যান্য উপজেলাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরাও ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর পরিধি বাড়ছে।

উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের ড্রাগন চাষী মো: আজাদুল হক বলেন, তিনি তিন বিঘা জমিতে ড্রাগন বাগান করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। তার ড্রাগন বাগানে মাত্র ১৬ মাসে ফল আসা শুরু হয়েছে। সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন ড্রাগন বাগান থেকে ফল উঠছে।

তবে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় ড্রাগনের দাম কম। প্রতি কেজি ড্রাগন ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তারপরও এ পরিমাণ জমিতে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার ড্রাগন বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি। অর্থনৈতিকভাবে লাভ হওয়ার পাশাপাশি ড্রাগন বাগানের সৌন্দর্য নয়ন জুড়াচ্ছে এলাকাবাসীর। প্রতিদিনই অনেক মানুষ আসছেন তার ড্রাগন বাগানের সৌন্দর্য দেখতে।

উপজেলা কৃষি অফিসার হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেন, এ এলাকার মাটি ড্রাগন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। জমিতে একবার ড্রাগনের গাছ লাগালে সে গাছ থেকে কয়েক বছর ফল পাওয়া যায় এবং অন্যান্য ফসলের মত তেমন একটা পরিচর্চাও করতে হয়না। একারণে ড্রাগন চাষ বেশ লাভজনক। সারাবছর ড্রাগন পাওয়া গেলেও মে মাস থেকে অক্টোবর মাস পযর্ন্ত ড্রাগনের মৌসুম।

এ সময়ে প্রকৃতির নিয়মে স্বাভাবিকভাবেই ড্রাগন উৎপাদন হয়। অন্য সময় ড্রাগন উৎপাদনের জন্য চাষীরা নানা প্রকার হরমোন ব্যবহার করেন। তাই মৌসুমের সময় উৎপাদিত ড্রাগন বেশি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও খাওয়ার জন্য নিরাপদ বলেও জানান তিনি।
নওগাঁ #