০৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সয়ড়াবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে অনিয়মের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় রোগীরা

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / ১১ Time View

 

গোলাম রাব্বী রংপুর প্রতিনিধিঃ

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কমিউনিটি ক্লিনিকে সকাল থেকেই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। তবে বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সকাল ৯টায় গিয়ে দেখা যায় ক্লিনিকের দরজায় ঝুলছে তালা। রোগীরা সেবা পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা মেলেনি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর, দুপুর ১২টার দিকে ক্লিনিক খুলে সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি সয়ড়াবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকের নিত্যদিনের ঘটনা।রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ৮ নম্বর আলমবিদিতর ইউনিয়নের সয়ড়াবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। দুপুর ১২টার দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মল্লিকা রানী ক্লিনিকে এসে কার্যক্রম শুরু করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ক্লিনিকে আসেন এবং আবার দুপুর ১টার মধ্যেই ক্লিনিক বন্ধ করে চলে যান। ফলে সকাল থেকে অপেক্ষা করেও অনেক রোগী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
সয়ড়াবাড়ি গ্রামের মরিয়ম, স্বপন, শেফালীসহ একাধিক রোগী জানান, সরকারি ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও ওষুধ বিতরণের সময় টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া অনেক সময় স্বাস্থ্যকর্মী উপস্থিত না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।শুধু সেবার ক্ষেত্রেই নয়, ক্লিনিকের পরিবেশ নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। ক্লিনিকের সামনের অংশ দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। রোগীদের জন্য স্থাপিত টিউবওয়েলটি অচল থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে সিএইচসিপি মল্লিকা রানী বলেন, “আজ ব্যক্তিগত কারণে ক্লিনিকে আসতে দেরি হয়েছে। আমার ছোট সন্তান অসুস্থ ছিল।” ওষুধের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কেউ স্বেচ্ছায় দিলে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে।”এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজানুল হাসান বলেন, অভিযোগটি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সয়ড়াবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে অনিয়মের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় রোগীরা

Update Time : ০৮:০৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

 

গোলাম রাব্বী রংপুর প্রতিনিধিঃ

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কমিউনিটি ক্লিনিকে সকাল থেকেই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। তবে বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সকাল ৯টায় গিয়ে দেখা যায় ক্লিনিকের দরজায় ঝুলছে তালা। রোগীরা সেবা পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা মেলেনি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর, দুপুর ১২টার দিকে ক্লিনিক খুলে সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি সয়ড়াবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকের নিত্যদিনের ঘটনা।রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ৮ নম্বর আলমবিদিতর ইউনিয়নের সয়ড়াবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। দুপুর ১২টার দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মল্লিকা রানী ক্লিনিকে এসে কার্যক্রম শুরু করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ক্লিনিকে আসেন এবং আবার দুপুর ১টার মধ্যেই ক্লিনিক বন্ধ করে চলে যান। ফলে সকাল থেকে অপেক্ষা করেও অনেক রোগী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
সয়ড়াবাড়ি গ্রামের মরিয়ম, স্বপন, শেফালীসহ একাধিক রোগী জানান, সরকারি ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও ওষুধ বিতরণের সময় টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া অনেক সময় স্বাস্থ্যকর্মী উপস্থিত না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।শুধু সেবার ক্ষেত্রেই নয়, ক্লিনিকের পরিবেশ নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। ক্লিনিকের সামনের অংশ দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। রোগীদের জন্য স্থাপিত টিউবওয়েলটি অচল থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে সিএইচসিপি মল্লিকা রানী বলেন, “আজ ব্যক্তিগত কারণে ক্লিনিকে আসতে দেরি হয়েছে। আমার ছোট সন্তান অসুস্থ ছিল।” ওষুধের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কেউ স্বেচ্ছায় দিলে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে।”এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজানুল হাসান বলেন, অভিযোগটি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।