সহায়হীন মংলা বন্দরের শ্রমিক সমাজ: বিলুপ্ত বোর্ড, নীরব নেতৃত্ব
- Update Time : ১০:৩৩:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৮ Time View

হাবিবুর রহমান: বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি,
দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর মোংলায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছেন সাধারণ শ্রমিকরা। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির এক আদেশে মোংলা বন্দরের ‘ডক শ্রমিক পরিচালনা বোর্ড’ বিলুপ্ত করার পর থেকেই শুরু হয় এই সংকট। বোর্ড বিলুপ্তির ফলে শ্রমিকদের নিবন্ধন ও পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ পুরোপুরি চলে যায় স্টিভেডরিং ঠিকাদারদের নিয়ন্ত্রণে। এর পর থেকে প্রতিনিয়ত অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন বন্দরের হাজার হাজার শ্রমিক।
একসময় বন্দরের একমাত্র শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন ‘মংলা বন্দর শ্রমিক সংঘ’ (পরবর্তীতে মংলা বন্দর শ্রমিক কর্মচারী সংঘ) শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে মুখর থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ও সুবিধাবাদী চক্রের কারণে সংগঠনটি বর্তমানে স্থবির ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার কোনো কার্যকর ভূমিকা না থাকায় তারা এখন পুরোপুরি অভিভাবকহীন।
সংগঠনের নিষ্ক্রিয়তা এবং ডক শ্রমিক বোর্ড না থাকার সুযোগ নিয়ে মালিকপক্ষ ও ঠিকাদাররা নিজেদের ইচ্ছেমতো বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে ন্যায্য মজুরি ও কাজের নিশ্চয়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে মোংলা বন্দরের বিভিন্ন শ্রেণীর শ্রমিকরা মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন; অনেকে কাটাচ্ছেন অনাহারে-অর্ধাহারে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমানে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়া ঠিকাদারদের অধীনে কাজ করতে গিয়ে তারা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র ঐতিহাসিক এই ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিকদের অস্তিত্ব আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। অনতিবিলম্বে ডক শ্রমিক পরিচালনা ব্যবস্থা পুনর্বাসন এবং শ্রমিক সংগঠনকে পুনরায় সক্রিয় করে শ্রমিকদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ ডক শ্রমিকরা।























