অবদানের স্বীকৃতিতে ১২ জন নারীকে সম্মাননা
- Update Time : ০৮:৪৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৭০ Time View

মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
“নারী নির্যাতন বন্ধ করি, সমতার সমাজ গড়ি”—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ–২০২৫ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় কালিগঞ্জ উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে কানাডিয়ান সংস্থার আর্থিক সহযোগিতায় এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অগ্রগতি’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনি সহায়তা সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং সমতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু। সভা সঞ্চালনা করেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাস বাচ্চু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কালিগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্ণা চক্রবর্তী বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, এর পাশাপাশি সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন ও সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং পরিবার ও সমাজের সকল স্তরে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে নারী নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অগ্রগতি সংস্থার প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মাহাবুবুর রহমান বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। বড়শিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই নারী-পুরুষ সমতার চর্চা শুরু করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন, কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান। বক্তারা নারী অধিকার রক্ষা, কন্যাশিশুর নিরাপত্তা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সামাজিক ও উন্নয়নমূলক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, নারী সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নারী অধিকার, আইনি সহায়তা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান শেষে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১২ জন নারীকে সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।















