০১:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমারখালীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ,বিচারপেতে দ্বারে দ্বারে ভুক্তভোগী পরিবার

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১২ Time View

 

মাহাবুব হোসেন,লিখনী ডেস্ক:

কুষ্টিয়ার কুমারখালী সরকারি পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়ার সময় নবম শ্রেণির এক ছাত্রী পুষ্পকে ( ছদ্মনাম) শ্লীলতাহানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম শাকিলুর রহমান (৪৫), তিনি বিদ্যালয়টির গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকে বর্তমানে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার বা আইনি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার না পেয়ে চরম হতাশ ভুক্তভোগী পরিবারটি শেষ পর্যন্ত সব বিচার আল্লাহর দরবারে সঁপে দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার সকালে পৌর এলকার কুন্ডুপাড়া একটি বাসায় প্রাইভেট পড়া শেষ হয়। এই সময় শিক্ষক শাকিলুর রহমান ছাত্রী পুৃস্পকে (ছদ্মনাম) একা পেয়ে জড়িয়ে ধরে জোরপূর্বক অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেন। পরে দুজনের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই শিক্ষ যখন লাইট বন্ধ করে যায় তখন ওই শিক্ষার্থী দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে বাড়ি চলে যায় এবং পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে।

ঘটনা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা প্রতিকার চাইতে বিদ্যালয়ে যান। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেননি এবং যথাযথ সহযোগিতা করেননি। কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার শরণাপন্ন হয় এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীর মা।

ওই শিক্ষার্থী জানান, আমি বেশ কিছুদিন পর পড়তে যাওয়ার কারনে স্যারকে পড়া দাগাইয়ে দিতে বলি,  তিনি কৌশলে সবাই যাওয়ার পর পড়া দাগানো শুরু করেন।

আমি যখন চলে আসতে যায় স্যার তখন আমার শীররে চার্ট করে।  এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তিও হয়।  পরে স্যার যখন রুমের লাইট বন্ধ করতে যায় তখন আমি পালিয়ে চলে আমি।   তিনি এই প্রতিবেদকে আরো জানান, আমি স্যারের শাস্তি চাই,  তার মতো মানুষ শিক্ষক হিসাবে বিদ্যালয়ে থাকতে পারেন না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগীর মা বলেন, “আমার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষকের হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে। থানা ও উপজেলা প্রশাসনের বরাবর অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হলো না। কেন পুলিশ মামলা নিচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এখন আর কোনো বিচার চাই না, সব বিচার আল্লাহর কাছে দিলাম তিনিই সঠিক বিচার করবেন।”

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক শাকিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ফ্যানের সুইচ দেওয়ার সময় তার শরীরে হাত লেগেছিল।

তবে জনশ্রুতি আছে,  এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং শাকিলকে বাঁচাতে নানাভাবে তদবির করছেন।

এ বিষয়ে কুমারখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মদক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আমি মৌখিকভাবে ভুক্তভোগী পরিবারকে বলেছি অভিযোগ দিতে।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেতে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কুমারখালীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ,বিচারপেতে দ্বারে দ্বারে ভুক্তভোগী পরিবার

Update Time : ১১:৫০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

 

মাহাবুব হোসেন,লিখনী ডেস্ক:

কুষ্টিয়ার কুমারখালী সরকারি পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়ার সময় নবম শ্রেণির এক ছাত্রী পুষ্পকে ( ছদ্মনাম) শ্লীলতাহানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম শাকিলুর রহমান (৪৫), তিনি বিদ্যালয়টির গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকে বর্তমানে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার বা আইনি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার না পেয়ে চরম হতাশ ভুক্তভোগী পরিবারটি শেষ পর্যন্ত সব বিচার আল্লাহর দরবারে সঁপে দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার সকালে পৌর এলকার কুন্ডুপাড়া একটি বাসায় প্রাইভেট পড়া শেষ হয়। এই সময় শিক্ষক শাকিলুর রহমান ছাত্রী পুৃস্পকে (ছদ্মনাম) একা পেয়ে জড়িয়ে ধরে জোরপূর্বক অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেন। পরে দুজনের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই শিক্ষ যখন লাইট বন্ধ করে যায় তখন ওই শিক্ষার্থী দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে বাড়ি চলে যায় এবং পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে।

ঘটনা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা প্রতিকার চাইতে বিদ্যালয়ে যান। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেননি এবং যথাযথ সহযোগিতা করেননি। কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার শরণাপন্ন হয় এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীর মা।

ওই শিক্ষার্থী জানান, আমি বেশ কিছুদিন পর পড়তে যাওয়ার কারনে স্যারকে পড়া দাগাইয়ে দিতে বলি,  তিনি কৌশলে সবাই যাওয়ার পর পড়া দাগানো শুরু করেন।

আমি যখন চলে আসতে যায় স্যার তখন আমার শীররে চার্ট করে।  এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তিও হয়।  পরে স্যার যখন রুমের লাইট বন্ধ করতে যায় তখন আমি পালিয়ে চলে আমি।   তিনি এই প্রতিবেদকে আরো জানান, আমি স্যারের শাস্তি চাই,  তার মতো মানুষ শিক্ষক হিসাবে বিদ্যালয়ে থাকতে পারেন না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগীর মা বলেন, “আমার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষকের হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে। থানা ও উপজেলা প্রশাসনের বরাবর অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হলো না। কেন পুলিশ মামলা নিচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এখন আর কোনো বিচার চাই না, সব বিচার আল্লাহর কাছে দিলাম তিনিই সঠিক বিচার করবেন।”

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক শাকিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ফ্যানের সুইচ দেওয়ার সময় তার শরীরে হাত লেগেছিল।

তবে জনশ্রুতি আছে,  এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং শাকিলকে বাঁচাতে নানাভাবে তদবির করছেন।

এ বিষয়ে কুমারখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মদক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আমি মৌখিকভাবে ভুক্তভোগী পরিবারকে বলেছি অভিযোগ দিতে।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেতে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।