০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁর মহাদেবপুরে ভূমি জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির মামলায় আওয়ামীলীগের সভাপতি লিচু বাবু গ্রেফতার

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫
  • / ২২৫ Time View

 

 

উজ্জ্বল কুমার সরকার নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মহাদেবপুরে ভ‚মি জালিয়াতি মামলায় আ.লীগ নেতা সেকেন্দার আলী ওরফে লিচু বাবুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলা সদরের বরেন্দ্র অফিসের মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। লিচু বাবু সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ভ‚মি জালিয়াত চক্রের মূল হোতা।

পতিত আ.লীগ সরকারের আমলে তার নেতৃত্বে একটি ভূমি জালিয়াত চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভূমি জালিয়াতি, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলে স্থানীয় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় লিচু বাবুর এ বাহিনী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও চিহ্নিত চক্রটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় লিচু বাবু ভূমিদস্যুতা ও জালিয়াত চক্রটি বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

লিচু বাবুর লাঠিয়াল বাহিনী গত ১৬ বছর সংখ্যালঘু স¤প্রদায়সহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকদের জমি দখল করে তাদের উপর নির্মম নির্যাতন করত। তার ভয়ে এলাকায় মুখ খুলতে সাহস পেত না কেউ।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পরই এ চক্রের নেতৃত্বে থেকে লিচু বাবু অন্যের জমি ও দোকান দখল, চাঁদাবাজি এবং জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে ভূমি জালিয়াতির বড় সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। তারা আরো অভিযোগ করেন যে, লিচু বাবুর লাঠিয়াল বাহিনী স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য সুশিলা কর্মকার ও নয়ন কর্মকারের ভূমি দখল করে তাদেরকে নানা ভাবে নির্যাতন করেছে।

এছাড়াও জাহাঙ্গীরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের প্রভাষক মনিরুজ্জামানের ভূমি দখলের ভয় দেখিয়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করেন।

এ ঘটনায় তিনি লিচু বাবুর সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। লিচু বাবুর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতিরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে, যা দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্তাধীন রয়েছে।

জানা গেছে, নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর থানার ফাজিলপুর মৌজায় আর এস-৬২৬ নম্বর খতিয়ানে ১৩৯৮ নম্বর দাগে ৫.২২ একর ভূমি লিচু বাবু সংশ্লিষ্ট ভূমি ও ভলিউম রেকর্ড অফিসের লোকজনের যোগসাজশে ১৯৭২ সালে মৃত ব্যক্তির নামে ভুয়া রেজিস্ট্রি দলিল তৈরি করে দখলের চেষ্টা করে।

এই ভূমির মূল মালিক মো. মোকছেদ আলী জানান, তারা এ ঘটনায় যুগ্ম জেলা দায়রা জজ নওগাঁ ১ম আদালত প্রতিকার চেয়ে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ ৪ বছর শুনানি শেষে গত গত বছর ৭ নভেম্বর বিজ্ঞ আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। আদালত আওয়ামী লীগ নেতা লিচু বাবু গং কর্তৃক সৃষ্ট সমুদয় দলিল বেআইনি, ভুয়া, অকার্যকর ও এখতিয়ার বহির্ভূত ঘোষণা করেন।

এভাবে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতা লিচু বাবু আরও অনেকের জমি দখলে নিয়েছেন, যারা এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, মো. মোকছেদ আলীর ভূমি প্রতিরোধ আইনে করা মামলায় আ.লীগ নেতা লিচু বাবুকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নওগাঁর মহাদেবপুরে ভূমি জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির মামলায় আওয়ামীলীগের সভাপতি লিচু বাবু গ্রেফতার

Update Time : ০১:৪০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫

 

 

উজ্জ্বল কুমার সরকার নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মহাদেবপুরে ভ‚মি জালিয়াতি মামলায় আ.লীগ নেতা সেকেন্দার আলী ওরফে লিচু বাবুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলা সদরের বরেন্দ্র অফিসের মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। লিচু বাবু সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ভ‚মি জালিয়াত চক্রের মূল হোতা।

পতিত আ.লীগ সরকারের আমলে তার নেতৃত্বে একটি ভূমি জালিয়াত চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভূমি জালিয়াতি, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলে স্থানীয় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় লিচু বাবুর এ বাহিনী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও চিহ্নিত চক্রটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় লিচু বাবু ভূমিদস্যুতা ও জালিয়াত চক্রটি বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

লিচু বাবুর লাঠিয়াল বাহিনী গত ১৬ বছর সংখ্যালঘু স¤প্রদায়সহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকদের জমি দখল করে তাদের উপর নির্মম নির্যাতন করত। তার ভয়ে এলাকায় মুখ খুলতে সাহস পেত না কেউ।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পরই এ চক্রের নেতৃত্বে থেকে লিচু বাবু অন্যের জমি ও দোকান দখল, চাঁদাবাজি এবং জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে ভূমি জালিয়াতির বড় সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। তারা আরো অভিযোগ করেন যে, লিচু বাবুর লাঠিয়াল বাহিনী স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য সুশিলা কর্মকার ও নয়ন কর্মকারের ভূমি দখল করে তাদেরকে নানা ভাবে নির্যাতন করেছে।

এছাড়াও জাহাঙ্গীরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের প্রভাষক মনিরুজ্জামানের ভূমি দখলের ভয় দেখিয়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করেন।

এ ঘটনায় তিনি লিচু বাবুর সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। লিচু বাবুর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতিরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে, যা দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্তাধীন রয়েছে।

জানা গেছে, নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর থানার ফাজিলপুর মৌজায় আর এস-৬২৬ নম্বর খতিয়ানে ১৩৯৮ নম্বর দাগে ৫.২২ একর ভূমি লিচু বাবু সংশ্লিষ্ট ভূমি ও ভলিউম রেকর্ড অফিসের লোকজনের যোগসাজশে ১৯৭২ সালে মৃত ব্যক্তির নামে ভুয়া রেজিস্ট্রি দলিল তৈরি করে দখলের চেষ্টা করে।

এই ভূমির মূল মালিক মো. মোকছেদ আলী জানান, তারা এ ঘটনায় যুগ্ম জেলা দায়রা জজ নওগাঁ ১ম আদালত প্রতিকার চেয়ে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ ৪ বছর শুনানি শেষে গত গত বছর ৭ নভেম্বর বিজ্ঞ আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। আদালত আওয়ামী লীগ নেতা লিচু বাবু গং কর্তৃক সৃষ্ট সমুদয় দলিল বেআইনি, ভুয়া, অকার্যকর ও এখতিয়ার বহির্ভূত ঘোষণা করেন।

এভাবে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতা লিচু বাবু আরও অনেকের জমি দখলে নিয়েছেন, যারা এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, মো. মোকছেদ আলীর ভূমি প্রতিরোধ আইনে করা মামলায় আ.লীগ নেতা লিচু বাবুকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।