০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বসতভিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ দুইজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / ১৬ Time View

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর এলাকায় বসতভিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ দুইজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউনুছ আলী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলমবিদিতর মৌজার কুশ্যারঘাট চওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইউনুছ আলী দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি তার বসতবাড়ির চারপাশে পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ জুন দুপুর প্রায় ১২টার দিকে ইউনুছ আলী বাড়ির বাইরে থাকাকালে তার নির্মাণ শ্রমিকরা সীমানা প্রাচীরের কাজ করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে গিয়ে জমির মালিকানা দাবি করে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলেন। একপর্যায়ে ইউনুছ আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা ফাতেমা বেগমের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে নাজমিন বেগম নামের অপর এক নারীও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় আহত ফাতেমা বেগমকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেন, হামলার সময় অভিযুক্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ভবিষ্যতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করলে আরও ক্ষতির হুমকি প্রদান করেন।
এ ঘটনায় মো. লেবু মিয়া, আব্দুল মজিদ কেচুসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযোগকারী ইউনুছ আলীর পৈতৃক জমির উপর দিয়ে বিবাদপক্ষগণ সরকারি রাস্তা না থকায় দীর্ঘদিন ধরে চলাফেরা করে আসছে। যদিও মানবিকতার কারণে জমির মালিকপক্ষ কোন বাঁধা- নিষেধ না করলেও, বসত বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে মালিকানাভুক্ত জমি দিয়ে চলাচলকারী বিবাদী পক্ষ উক্ত জমির চলাচলের অংশকে রাস্তা দাবী করে এবং প্রাচীর নির্মাণে বাঁধা দেয়।পরবর্তীতে ঘটনা গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পর্যন্ত গড়ালে তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকার সূধীজনের সমন্বয়ে মানবিকতার ঘাতিরে মালিকপক্ষকে রাজি করে মালিকানাভুক্ত জায়গার কিছু অংশ নিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দেয়া সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নির্ধারিত অংশ ব্যাতিরেখে প্রাচীর নির্মাণের উদ্দেশ্যে মাটি ঘুরতে গেলে বিবাদীপক্ষের লোকজন এসে জমির মালিক পক্ষের চারজন মহিলাকে মারধোর করে। এঘটনায় একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

প্রতিবেশী আমিনুর রহমান, বকস মিয়া ও শাহেব আলী বলেন, জমির মালিকরা সহজ সরল হওয়ায়, লেবু ও আফাজ ও সোনার নেতৃত্বে মালিকপক্ষকে হেনস্তা ও মারধোর করে।
ভুক্তভোগী ইউনুছ আলী বলেন, তফসিলভুক্ত আলমবিদিতর মৌজার জে.এল নং- ০৩, আর. এস. খতিয়ান নং- ৭৫৪,৯৩৫,দাগ নং- ৮৬৭০,৮৬৭১,৮৬৭২,৮৬৭৩,৮৬৭৪, জমি – ২.০৮ একর জমিতে সরকারি কোন রাস্তা না থাকা সত্বেও লেবু, সোনার নেতৃত্বে সকলেই গায়ের জোড়ে আমাদের জমি রাস্তা দাবি করে এবং আমাদেরকেই মারধোর করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

এবিষয়ে সহকারী কমিশনার হামিদুর রহমান বলেন, সেখানে কোন সরকারী রাস্তা নাই। মানবিক কারণে অভিযোগের আলোকে উভয় পার্শ্বের জমির সমন্বয়ে চলাচলের রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া বিবাদের খবর পেয়েছি। কারও ব্যক্তিগত জমিতে আমাদের কিছু করার থাকে না।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বসতভিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ দুইজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

Update Time : ১১:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর এলাকায় বসতভিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ দুইজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউনুছ আলী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলমবিদিতর মৌজার কুশ্যারঘাট চওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইউনুছ আলী দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি তার বসতবাড়ির চারপাশে পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ জুন দুপুর প্রায় ১২টার দিকে ইউনুছ আলী বাড়ির বাইরে থাকাকালে তার নির্মাণ শ্রমিকরা সীমানা প্রাচীরের কাজ করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে গিয়ে জমির মালিকানা দাবি করে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলেন। একপর্যায়ে ইউনুছ আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা ফাতেমা বেগমের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে নাজমিন বেগম নামের অপর এক নারীও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় আহত ফাতেমা বেগমকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেন, হামলার সময় অভিযুক্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ভবিষ্যতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করলে আরও ক্ষতির হুমকি প্রদান করেন।
এ ঘটনায় মো. লেবু মিয়া, আব্দুল মজিদ কেচুসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযোগকারী ইউনুছ আলীর পৈতৃক জমির উপর দিয়ে বিবাদপক্ষগণ সরকারি রাস্তা না থকায় দীর্ঘদিন ধরে চলাফেরা করে আসছে। যদিও মানবিকতার কারণে জমির মালিকপক্ষ কোন বাঁধা- নিষেধ না করলেও, বসত বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে মালিকানাভুক্ত জমি দিয়ে চলাচলকারী বিবাদী পক্ষ উক্ত জমির চলাচলের অংশকে রাস্তা দাবী করে এবং প্রাচীর নির্মাণে বাঁধা দেয়।পরবর্তীতে ঘটনা গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পর্যন্ত গড়ালে তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকার সূধীজনের সমন্বয়ে মানবিকতার ঘাতিরে মালিকপক্ষকে রাজি করে মালিকানাভুক্ত জায়গার কিছু অংশ নিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দেয়া সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নির্ধারিত অংশ ব্যাতিরেখে প্রাচীর নির্মাণের উদ্দেশ্যে মাটি ঘুরতে গেলে বিবাদীপক্ষের লোকজন এসে জমির মালিক পক্ষের চারজন মহিলাকে মারধোর করে। এঘটনায় একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

প্রতিবেশী আমিনুর রহমান, বকস মিয়া ও শাহেব আলী বলেন, জমির মালিকরা সহজ সরল হওয়ায়, লেবু ও আফাজ ও সোনার নেতৃত্বে মালিকপক্ষকে হেনস্তা ও মারধোর করে।
ভুক্তভোগী ইউনুছ আলী বলেন, তফসিলভুক্ত আলমবিদিতর মৌজার জে.এল নং- ০৩, আর. এস. খতিয়ান নং- ৭৫৪,৯৩৫,দাগ নং- ৮৬৭০,৮৬৭১,৮৬৭২,৮৬৭৩,৮৬৭৪, জমি – ২.০৮ একর জমিতে সরকারি কোন রাস্তা না থাকা সত্বেও লেবু, সোনার নেতৃত্বে সকলেই গায়ের জোড়ে আমাদের জমি রাস্তা দাবি করে এবং আমাদেরকেই মারধোর করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

এবিষয়ে সহকারী কমিশনার হামিদুর রহমান বলেন, সেখানে কোন সরকারী রাস্তা নাই। মানবিক কারণে অভিযোগের আলোকে উভয় পার্শ্বের জমির সমন্বয়ে চলাচলের রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া বিবাদের খবর পেয়েছি। কারও ব্যক্তিগত জমিতে আমাদের কিছু করার থাকে না।