০৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী নিহত, আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাসপাতালে স্বামী

রানা আহমেদ
  • Update Time : ০৪:০৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / ১৪ Time View

যশোর শহরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী নিজের শরীরেও ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকার ভাড়া বাসায় নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বামী সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী ছামিনা আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই ছামিনার মৃত্যু হয়েছিল।”

ঘটনার পর সুজন নিজের শরীরেও একাধিকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসক জানান, তার শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়েছে।

নিহত ছামিনা আক্তার সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত সুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তাদের মধ্যে মামাতো ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল। প্রায় ৬ মাস আগে ভালোবেসে তারা বিয়ে করে যশোর শহরে আলাদা বাসায় থাকতে শুরু করেন। নিহতের মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বেকার এবং আবার বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন ছামিনার কয়েকজন স্বজন। এতে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় সুজনের বাবা ও মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক তদন্ত কাজী বাবুল জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যে বিয়ে করে তারা আলাদাভাবে বসবাস করতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

যশোরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী নিহত, আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাসপাতালে স্বামী

Update Time : ০৪:০৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

যশোর শহরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী নিজের শরীরেও ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকার ভাড়া বাসায় নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বামী সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী ছামিনা আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই ছামিনার মৃত্যু হয়েছিল।”

ঘটনার পর সুজন নিজের শরীরেও একাধিকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসক জানান, তার শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়েছে।

নিহত ছামিনা আক্তার সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত সুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তাদের মধ্যে মামাতো ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল। প্রায় ৬ মাস আগে ভালোবেসে তারা বিয়ে করে যশোর শহরে আলাদা বাসায় থাকতে শুরু করেন। নিহতের মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বেকার এবং আবার বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন ছামিনার কয়েকজন স্বজন। এতে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় সুজনের বাবা ও মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক তদন্ত কাজী বাবুল জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যে বিয়ে করে তারা আলাদাভাবে বসবাস করতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।