০৮:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্তানের লাশের পাশে চলছে মায়ের বুক ফাটা আর্তনাদ।শোকে ভারী এলাকার পরিবেশ।

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২০৬ Time View

মিজানুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার

মহেশপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে মিতা খাতুন নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে জানাগেছে।আজ ভোরে উপজেলার নেপা ইউনিয়নের বাকোশপোতা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।নিহত মিতা খাতুন ওই গ্রামের বেলায়েত হোসেন বিল্টুর স্ত্রী।
জানাযায়,গত ৫ বছর পূর্বে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চাপাইগাছী গ্রামের ফরিদ উদ্দীনের কন্যা মিতা খাতুনের বিয়ে হয় মহেশপুর উপজেলার বাকোশপোতা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে বেলায়েত হোসেন বিল্টুর সাথে।তাদের দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান ও রয়েছে।

নিহত মিতা খাতুনের স্বামী বেলায়েত হোসেন বলেন,আমি একটি সিগারেট কোম্পানিতে এসআর পদে চাকুরী করি।গতকাল সকালে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয়।পরে সে তার বোনের বাড়ী পলিয়ানপুর গ্রামে চলে যায়।আমিও চাকুরীতে বেড়িয়ে পরি।রাতে বাসায় ফিরে দেখি তার বড় বোন তাকে আমাদের বাড়িতে রেখে গেছে।অনেক বুঝিয়ে সুুঝিয়ে ঘরে নিয়ে যায়।রাত তখন ১২ টা বাজে।আমার পাশেই ঘুমাচ্ছিলো স্ত্রী মিতা।হঠাৎ মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে যায়,দেখি মিতা আমার পাশে নেই,গলায় ওড়না পেচিয়ে ফ্যানের মধ্যে ঝুলছে।আমি তাকে জড়িয়ে ধরে,পাশের ঘরে থাকা মা-বাবাকে ডাক চিৎকার দিলে তারা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মিতার গলার ওড়না কেটে নিচে নামিয়ে হাঁটানোর চেষ্টা করি।
ততক্ষণে সে মারা গিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশীরা জানান,স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার জের ধরেই হয়তো এমন ঘটনা ঘটেছে।ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করলে তো চিহ্ন থাকবে।আমরা কোন চিহ্ন দেখতে পাই নি।
এবং ঘরের দরজাও ভাঙা দেখিনি।

তবে এই বিষয়ে নিহত মিতা খাতুনের পিতা ফরিদ উদ্দীন বলেন,কপালে যা ছিলো তাই হয়েছে।আমাদের কোন অভিযোগ নেই।

এই বিষয়ে মহেশপুর থানার তদন্ত ওসি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন,লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।রিপোর্ট আসলে তদন্ত অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ।এই বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
মা হারা এতিম শিশুটির জন্য ৭ শতক জমি রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে নিহত মিতা খাতুনের পরিবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মিমাংসা করেন।
এমন মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় জুড়ে বইছে শোকের মাতম।অন্যদিকে এই মৃত্যু নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।প্রত্যেকের সন্দেহের রহস্য উদঘাটন হবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পর।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সন্তানের লাশের পাশে চলছে মায়ের বুক ফাটা আর্তনাদ।শোকে ভারী এলাকার পরিবেশ।

Update Time : ০৫:১৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

মিজানুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার

মহেশপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে মিতা খাতুন নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে জানাগেছে।আজ ভোরে উপজেলার নেপা ইউনিয়নের বাকোশপোতা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।নিহত মিতা খাতুন ওই গ্রামের বেলায়েত হোসেন বিল্টুর স্ত্রী।
জানাযায়,গত ৫ বছর পূর্বে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চাপাইগাছী গ্রামের ফরিদ উদ্দীনের কন্যা মিতা খাতুনের বিয়ে হয় মহেশপুর উপজেলার বাকোশপোতা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে বেলায়েত হোসেন বিল্টুর সাথে।তাদের দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান ও রয়েছে।

নিহত মিতা খাতুনের স্বামী বেলায়েত হোসেন বলেন,আমি একটি সিগারেট কোম্পানিতে এসআর পদে চাকুরী করি।গতকাল সকালে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয়।পরে সে তার বোনের বাড়ী পলিয়ানপুর গ্রামে চলে যায়।আমিও চাকুরীতে বেড়িয়ে পরি।রাতে বাসায় ফিরে দেখি তার বড় বোন তাকে আমাদের বাড়িতে রেখে গেছে।অনেক বুঝিয়ে সুুঝিয়ে ঘরে নিয়ে যায়।রাত তখন ১২ টা বাজে।আমার পাশেই ঘুমাচ্ছিলো স্ত্রী মিতা।হঠাৎ মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে যায়,দেখি মিতা আমার পাশে নেই,গলায় ওড়না পেচিয়ে ফ্যানের মধ্যে ঝুলছে।আমি তাকে জড়িয়ে ধরে,পাশের ঘরে থাকা মা-বাবাকে ডাক চিৎকার দিলে তারা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মিতার গলার ওড়না কেটে নিচে নামিয়ে হাঁটানোর চেষ্টা করি।
ততক্ষণে সে মারা গিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশীরা জানান,স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার জের ধরেই হয়তো এমন ঘটনা ঘটেছে।ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করলে তো চিহ্ন থাকবে।আমরা কোন চিহ্ন দেখতে পাই নি।
এবং ঘরের দরজাও ভাঙা দেখিনি।

তবে এই বিষয়ে নিহত মিতা খাতুনের পিতা ফরিদ উদ্দীন বলেন,কপালে যা ছিলো তাই হয়েছে।আমাদের কোন অভিযোগ নেই।

এই বিষয়ে মহেশপুর থানার তদন্ত ওসি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন,লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।রিপোর্ট আসলে তদন্ত অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ।এই বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
মা হারা এতিম শিশুটির জন্য ৭ শতক জমি রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে নিহত মিতা খাতুনের পরিবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মিমাংসা করেন।
এমন মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় জুড়ে বইছে শোকের মাতম।অন্যদিকে এই মৃত্যু নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।প্রত্যেকের সন্দেহের রহস্য উদঘাটন হবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পর।