০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্তোষপুরে কথিত সম্পত্তি দখল নিয়ে অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার সম্পত্তি দেখভালে আইয়ুব আলী, প্রশাসনের নজরদারি দাবি

Reporter Name
  • Update Time : ০১:১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫ Time View

 

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সন্তোষপুর-কান্দুর বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতার নামে থাকা কথিত সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১৭ বছর ধরে এসব সম্পত্তির দেখভাল ও ভোগদখল করে আসছেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সন্তোষপুরের রাবার অফিস সংলগ্ন এলাকায় কোটি টাকা মূল্যের একটি সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও দখলের অভিযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এসব সম্পত্তির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে বা এলাকা ছেড়ে গেলেও আইয়ুব আলীর প্রভাব এলাকায় পুরোপুরি কমেনি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তিনি এখনো কথিতভাবে ওই সম্পত্তিগুলোর দেখভাল করছেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে সাবেক এমপি-পুত্র সেলিমের পক্ষের লোকজনকে আবারও সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে এবং এ কাজে আইয়ুব আলী ভূমিকা রাখছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা, দখল ও ব্যবহারের বিষয়ে সরকারি নথিপত্র যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে রাবার অফিস সংলগ্ন কথিত কোটি টাকা মূল্যের জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর, নামজারি, দলিল ও ভূমি রেকর্ড যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

সরকারি নথিতে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও সরকারি সম্পত্তির তথ্য প্রকাশিত রয়েছে; ফলে অভিযোগে উল্লিখিত জমির মালিকানা ও দখলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব।

জাতীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে দলটির নামে বা পক্ষে কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা হয়ে থাকলে সেটিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আনার দাবি উঠেছে। ২০২৬ সালেও নিষিদ্ধ সংগঠনটির কার্যক্রমের অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে রেখে সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও দখল যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে কারও নামে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখল, ভোগদখল বা হস্তান্তরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।

তবে আইয়ুব আলী, অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক সেলিম কিংবা অভিযোগে উল্লিখিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সরকারি ভূমি রেকর্ড, দলিলপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সন্তোষপুরে কথিত সম্পত্তি দখল নিয়ে অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার সম্পত্তি দেখভালে আইয়ুব আলী, প্রশাসনের নজরদারি দাবি

Update Time : ০১:১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

 

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সন্তোষপুর-কান্দুর বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতার নামে থাকা কথিত সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১৭ বছর ধরে এসব সম্পত্তির দেখভাল ও ভোগদখল করে আসছেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সন্তোষপুরের রাবার অফিস সংলগ্ন এলাকায় কোটি টাকা মূল্যের একটি সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও দখলের অভিযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এসব সম্পত্তির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে বা এলাকা ছেড়ে গেলেও আইয়ুব আলীর প্রভাব এলাকায় পুরোপুরি কমেনি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তিনি এখনো কথিতভাবে ওই সম্পত্তিগুলোর দেখভাল করছেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে সাবেক এমপি-পুত্র সেলিমের পক্ষের লোকজনকে আবারও সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে এবং এ কাজে আইয়ুব আলী ভূমিকা রাখছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা, দখল ও ব্যবহারের বিষয়ে সরকারি নথিপত্র যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে রাবার অফিস সংলগ্ন কথিত কোটি টাকা মূল্যের জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর, নামজারি, দলিল ও ভূমি রেকর্ড যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

সরকারি নথিতে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও সরকারি সম্পত্তির তথ্য প্রকাশিত রয়েছে; ফলে অভিযোগে উল্লিখিত জমির মালিকানা ও দখলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব।

জাতীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে দলটির নামে বা পক্ষে কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা হয়ে থাকলে সেটিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আনার দাবি উঠেছে। ২০২৬ সালেও নিষিদ্ধ সংগঠনটির কার্যক্রমের অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে রেখে সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও দখল যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে কারও নামে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখল, ভোগদখল বা হস্তান্তরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।

তবে আইয়ুব আলী, অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক সেলিম কিংবা অভিযোগে উল্লিখিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সরকারি ভূমি রেকর্ড, দলিলপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।