১৮ মাস পর নিখোঁজ কিশোরী নিঝুম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন পাকশীতে অজ্ঞাত লাশ হিসেবে দাফন, প্রেমিকের স্বীকারোক্তিতে মিলল পরিচয়
- Update Time : ১২:৪০:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১২ Time View

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) অফিসঃ-
ঝিনাইদহের মহেশপুরে নিখোঁজের ১৮ মাস পর মোছা. নিঝুম খাতুন (১৭) নামের এক কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের তদন্তে এ ঘটনায় মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জিম কিশোরী নিঝুমকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ মহেশপুর থানার ফতেপুর গ্রাম থেকে নিঝুম খাতুন নিখোঁজ হন। তার মা মোছা. তাসলিমা খাতুন ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দীর্ঘদিনেও মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় পরবর্তীতে তিনি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
নিখোঁজের পর প্রায় ১৮ মাস ধরে নিঝুমের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ঝিনাইদহ জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের একটি দল তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে মাশরিকুল রহমান জিম (২৩), পিতা মো. কামাল হোসেন, সাং-রাখালভোগা, থানা-মহেশপুর, জেলা-ঝিনাইদহকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জিম নিঝুমকে অপহরণ ও হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিম ও নিঝুমের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ বেড়ানোর কথা বলে জিম নিঝুমকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিম নিঝুমকে থাপ্পড় মারলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন জিম।
পুলিশের দাবি, এরপর জিম নিঝুমকে রেললাইনের পাশের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যান এবং তার পরনের ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে ট্রেনে করে সেখান থেকে চলে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।
জিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যরা তাকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদীর পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে কথিত ঘটনাস্থল শনাক্ত করেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, নিঝুম নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ দুপুরে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ পাকশী এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাতনামা অর্ধগলিত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় তা দাফন করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্তকারী দল সিআইডির ক্রাইম সিন বিশেষজ্ঞদের আর্কাইভে সংরক্ষিত অজ্ঞাত ওই মরদেহের ছবি সংগ্রহ করে। ছবিতে থাকা পোশাক দেখে জিম মরদেহটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মাশরিকুল রহমান জিম আদালতে কিশোরী নিঝুম হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা এস আই হিমানিশ নিশ্চিত করেছে ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।মামলাটি মানবাধিকার সংগঠন আরডিসি ও জাস্টিস এন্ড কেয়ার বাংলাদেশ আইন গত সহায়তা সহ ভিকটিমের পরিবারকে সহযোগিতা করে আসছে। ভিকটিমের মা তাসলিমা খাতুন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। তার পরিবার ন্যায় বিচার দাবি করেছেন।

























