০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গঙ্গাচড়ায় বেগম খালেদা জিয়ার ছবি পড়ে থাকার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করলেন ইউএনও

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১০ Time View

 

আব্দুর রাজ্জাক গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের স্কোরুমের সিঁড়ির পাশে ধুলাবালি ও পরিত্যক্ত সামগ্রীর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাঁধানো ছবি পড়ে থাকার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার।

ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার বক্তব্য ঘিরে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। ছবিটি সেখানে কীভাবে এলো এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোছাঃ শামসুন নাহার বলেন, ‘কীভাবে এলো, জানি না।’
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের স্কোরুমের সিঁড়ির পাশে মেঝেতে ফ্রেমে বাঁধানো বেগম খালেদা জিয়ার একটি ছবি পড়ে রয়েছে। ছবিটির একাংশ পলিথিনে ঢাকা। আশপাশে ধুলাবালি, ময়লা-আবর্জনা ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রী পড়ে রয়েছে। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের ভেতরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি এভাবে পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।

ছবিটি কার্যালয়ে কীভাবে এলো, আগে কোথায় ছিল, কে সেটি সেখানে রেখেছেন এবং কোনো একসময় ছবি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকলে সেটি কার নির্দেশে এসব প্রশ্নের কোনো সুস্পষ্ট উত্তর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের মাধ্যমে ছবিটি কীভাবে কার্যালয়ে এসেছে, কোথায় সংরক্ষিত ছিল, কীভাবে সিঁড়ির পাশে এসে পড়ে এবং এ ঘটনায় কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি কার্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনো ছবি বা সামগ্রী অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি এভাবে পড়ে থাকার ঘটনায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি সরকারি কার্যালয়ের সিঁড়ির পাশে ধুলাবালি ও পরিত্যক্ত সামগ্রীর মধ্যে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ছবিটি কীভাবে সেখানে এলো, কারা রেখেছে এবং কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না তা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি সরকারি কার্যালয়ে এভাবে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত বিষয়টি বের করা এবং দায়ী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এদিকে, ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, কোনো অভিযোগ সামনে আসার পর সেটিকে উপেক্ষা না করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার উদ্যোগ প্রশাসনের দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে এলে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার দায়ও নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

গঙ্গাচড়ায় বেগম খালেদা জিয়ার ছবি পড়ে থাকার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করলেন ইউএনও

Update Time : ০৭:২৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

 

আব্দুর রাজ্জাক গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের স্কোরুমের সিঁড়ির পাশে ধুলাবালি ও পরিত্যক্ত সামগ্রীর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাঁধানো ছবি পড়ে থাকার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার।

ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার বক্তব্য ঘিরে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। ছবিটি সেখানে কীভাবে এলো এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোছাঃ শামসুন নাহার বলেন, ‘কীভাবে এলো, জানি না।’
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের স্কোরুমের সিঁড়ির পাশে মেঝেতে ফ্রেমে বাঁধানো বেগম খালেদা জিয়ার একটি ছবি পড়ে রয়েছে। ছবিটির একাংশ পলিথিনে ঢাকা। আশপাশে ধুলাবালি, ময়লা-আবর্জনা ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রী পড়ে রয়েছে। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের ভেতরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি এভাবে পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।

ছবিটি কার্যালয়ে কীভাবে এলো, আগে কোথায় ছিল, কে সেটি সেখানে রেখেছেন এবং কোনো একসময় ছবি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকলে সেটি কার নির্দেশে এসব প্রশ্নের কোনো সুস্পষ্ট উত্তর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের মাধ্যমে ছবিটি কীভাবে কার্যালয়ে এসেছে, কোথায় সংরক্ষিত ছিল, কীভাবে সিঁড়ির পাশে এসে পড়ে এবং এ ঘটনায় কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি কার্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনো ছবি বা সামগ্রী অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি এভাবে পড়ে থাকার ঘটনায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি সরকারি কার্যালয়ের সিঁড়ির পাশে ধুলাবালি ও পরিত্যক্ত সামগ্রীর মধ্যে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ছবিটি কীভাবে সেখানে এলো, কারা রেখেছে এবং কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না তা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি সরকারি কার্যালয়ে এভাবে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত বিষয়টি বের করা এবং দায়ী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এদিকে, ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, কোনো অভিযোগ সামনে আসার পর সেটিকে উপেক্ষা না করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার উদ্যোগ প্রশাসনের দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে এলে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার দায়ও নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।