কোটচাঁদপুরে আ. লীগ নেতার পুকুরে বিষপ্রয়োগ: ১৮ লাখ টাকার মাছ নিধন, দিশেহারা উদ্যোক্তা।
- Update Time : ০৬:১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৩ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক বাবলু মিয়া
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের ধোপাবিলা গ্রামে এক ভয়াবহ শত্রুতার ঘটনা ঘটেছে। দিনের আলোতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১৮ লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও বিপুল পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি ও সফল মৎস্য উদ্যোক্তা মো. রমজান আলী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রমজান আলী দীর্ঘ দিন ধরে ধোপাবিলা এলাকায় বড় পরিসরে মাছ চাষ করে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে তিনি খামার দেখে বাড়িতে ফেরেন। কিন্তু দুপুর দুইটার দিকে পুকুরে গিয়ে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। দেখা যায়, শত শত মরা মাছ পানির ওপর ভেসে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যবর্তী সময়ে দুর্বৃত্তরা সুপরিকল্পিতভাবে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে।ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি রমজান আলী জানান, তিনি প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন। এর মধ্যে নিজস্ব ৩০ বিঘা এবং বাকি ২২০ বিঘা জমি বার্ষিক বিঘা প্রতি ২২ হাজার টাকায় অন্যদের কাছ থেকে লিজ নেওয়া। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, তার বিশাল খামারের ভেতর থেকে ৩০০ মণ মাছ আলাদা করে ১০ বিঘার একটি নির্দিষ্ট পুকুরে ‘স্টক’ বা মজুদ করে রাখা হয়েছিল। দুর্বৃত্তরা ঠিক সেই পুকুরটিকেই লক্ষ্য করে বিষ প্রয়োগ করেছে। এতে প্রায় ১৭-১৮ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
”আমার এই খামার থেকে বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয় এবং প্রতিদিন ৩০-৩৫ জন শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ হয়। এভাবে আমাকে পথে বসিয়ে দেওয়া হলো,” বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই উদ্যোক্তা।
এলাকায় উত্তেজনা ও প্রশাসনিক তৎপরতা
এই ঘটনার পর ধোপাবিলা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, একজন পরিশ্রমী উদ্যোক্তার ওপর এমন আঘাত এলাকার উদীয়মান মৎস্য শিল্পের জন্য এক অশনিসংকেত।
খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন:
”পুকুরে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”দেশের সম্ভাবনাময় মৎস্য খাতকে রক্ষায় এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এখন ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।


















