০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে কোটি টাকা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৮ Time View

 

নিজস্ব প্রতিবেদক (রংপুর) :-

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নয়টি ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য ডিলারদের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে ১৫ লাখ থেকে ২৭ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেন হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, সাত ইউনিয়নে কথিত অর্থ লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কল্যাণী ইউনিয়নে ১৫ লাখ, ইটাকুমারীতে ১৭ লাখ, অন্নদানগরে ১৫ লাখ, পারুলে ১৮ লাখ, কান্দিতে ২৭ লাখ, ছাওলায় ২৩ লাখ এবং কৈকুড়িতে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের কথা স্থানীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে। তবে এসব অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

এদিকে ছড়িয়ে পড়া তালিকায় পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙা ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজের পরিবারের সদস্যদের নাম থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, পছন্দের ব্যক্তিদের ডিলার করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থ লেনদেনের ভূমিকা ছিল।

সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর রংপুর জেলা বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজ। তাম্বুলপুর ইউনিয়নে সার ডিলার হওয়ার আবেদনে তার স্ত্রীর নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, তাদের পরিবারে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়গুলো স্ত্রী দেখাশোনা করেন।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব পরিতোষ চক্রবর্তীও ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপির নেতাদের পরিবারের সদস্যদের নাম আসাকে স্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ ইমরুল মুজাক্কিন জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে সম্ভাব্য ডিলারের তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই তার জবাব দিতে হবে বলে জানান তিনি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে কোটি টাকা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

Update Time : ০১:৩৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক (রংপুর) :-

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নয়টি ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য ডিলারদের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে ১৫ লাখ থেকে ২৭ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেন হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, সাত ইউনিয়নে কথিত অর্থ লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কল্যাণী ইউনিয়নে ১৫ লাখ, ইটাকুমারীতে ১৭ লাখ, অন্নদানগরে ১৫ লাখ, পারুলে ১৮ লাখ, কান্দিতে ২৭ লাখ, ছাওলায় ২৩ লাখ এবং কৈকুড়িতে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের কথা স্থানীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে। তবে এসব অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

এদিকে ছড়িয়ে পড়া তালিকায় পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙা ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজের পরিবারের সদস্যদের নাম থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, পছন্দের ব্যক্তিদের ডিলার করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থ লেনদেনের ভূমিকা ছিল।

সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর রংপুর জেলা বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজ। তাম্বুলপুর ইউনিয়নে সার ডিলার হওয়ার আবেদনে তার স্ত্রীর নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, তাদের পরিবারে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়গুলো স্ত্রী দেখাশোনা করেন।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব পরিতোষ চক্রবর্তীও ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপির নেতাদের পরিবারের সদস্যদের নাম আসাকে স্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ ইমরুল মুজাক্কিন জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে সম্ভাব্য ডিলারের তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই তার জবাব দিতে হবে বলে জানান তিনি।